ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভালোবাসার অনুভূতি কি চিরন্তন?

অর্চি হক
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৬:১২ পিএম
ভালোবাসার অনুভূতি কি চিরন্তন?

সবাই বলে ভালোবাসার অনুভূতি নাকি চিরন্তন। অর্থাৎ ভালবাসলে স্থান-কাল-পাত্রভেদে সবার অনুভূতি নাকি একই রকম হয়। যেমন ধরুন, শতবর্ষ আগেকার কোনো যুবক প্রেমে পড়লে তার অনুভূতি যেরকম হতো, শতবর্ষ পরে এসেও প্রেমিকের মনের আকূলতা নাকি একই রকমের হয়। ভাবুন তো একটু, বিষয়টি কি আসলেই এরকম?

একটা সময় ছিল যখন ছেলে-মেয়েরা লুকিয়ে-চুরিয়ে প্রেম করতো। দেখা করাটা ছিল এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। দূর-দূরান্ত থেকে চিঠি দেওয়া-নেওয়া করেই প্রেম হতো অনেকের। ভালোবাসার মানুষটির একটা চিঠি পেলেই যেন প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো অনুভূতি জাগতো। কারো কারো হয়তো দেখা হতো কয়েক মাস বা বছর পেরিয়ে যাবার পর। প্রেমিকাকে একনজর দেখতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে এসে বিফল হয়ে ফিরে গেছে প্রেমিক, এমন ঘটনাও ঘটতো প্রচুর। আর একটাবার প্রেমিকার হাতটা ধরতে পারলে যেন জীবন ধন্য হয়ে যেত প্রেমিকের।

কিন্তু এখন দিন বদলেছে, প্রেমিকার দেখা পেতে প্রেমিককে আর দূর-দূরান্ত পাড়ি দিতে হয় না। সমাজ-সংসারের তোয়াক্কা না করে অনেকটা ভয়-ডরহীনভাবেই চলে দেখা করা, ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু সেই যে, প্রিয়জনের চিঠি পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কিংবা প্রেমিকাকে একটিবার দেখার নির্নিমেশ সুখ, সেটা কি এখনকার প্রেমিকদের মনেও দোলা দিয়ে যায়? এই প্রজন্মের প্রেমিকরা হয়তো সেই আকূলতাটা অনুভবই করতে পারেন না। কারণ প্রিয় মানুষটিকে শুধু একটিবার দেখতে তাদের দূর-দূরান্ত পাড়ি দিতে হয় না।

প্রযুক্তি যেন এখনকার প্রেমিক-প্রেমিকাদের অনেকটাই কাছাকাছি এনে দিয়েছে। স্মার্টফোনের স্ক্রিনে একটু স্পর্শে কপোত-কপোতীরা এখন প্রিয় মানুষটিকে দেখে নিতে পারেন। ঘন্টার পর ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলে মনের সব অনুভূতিই প্রকাশ করতে পারেন। প্রেমিকার চোখের দৃষ্টির মাঝে তার না বলা কথাগুলো খুঁজে নিতে এখন আর প্রেমিককে বেগ পেতে হয় না। সেই অনুভূতিগুলো যেন এখন হারিয়েই গেছে। এর মানে কি এটাই যে, যুগের পালা বদলে ভালোবাসার অনুভূতিই বদলে গেছে? নাকি সত্যিকারের ভালোবাসাই এখন হারিয়ে যেতে বসেছে? নাকি বলবো রং পাল্টেছে ভালোবাসার?

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি