ঢাকা, রোববার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জনসভায় লোকসংখ্যা কীভাবে গণনা করা হয়?

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১২:০২ পিএম
জনসভায় লোকসংখ্যা কীভাবে গণনা করা হয়?

আমাদের বাঙালির ইতিহাসে জনসভা, ভাষণের ইতিহাস মানেই সবার আগে মনে আসে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক সেই ভাষণ। কী হয়েছিল সেদিন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐদিন জাতির উদ্দেশ্যে কী বলেছিলেন, সেই জনসভা আর তাঁর ভাষণের মাধ্যমে কী ফলাফল হয়েছিল সেটার ইতিহাস জাতি কমবেশি জানে। সেই ভাষণে আসলে ঠিক কত লোকসমাগম হয়েছিল সেটা নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধারণা ও মতভেদ।

আমরা প্রায়ই বলি এখানে ওখানের জনসভায় এত লোকসমাগম হয়েছিল, সেটা কিন্তু অনেকসময় না জেনেবুঝেই আমরা বলে দিই। একেবারে সঠিক পরিমাণ বলতে না পারলেও আনুমানিক একটা হিসাব রাখা সম্ভব হয়। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় জনসভাস্থলের আয়তনের। খুব বেশি জনসমাগম হলে কোনো স্থানের প্রতি বর্গমিটারে গড়ে সর্বোচ্চ পাঁচজন ব্যক্তি দাঁড়াতে পারে। সেই হিসাবে মোট আয়তনের সঙ্গে এই লোকসংখ্যা গুণ করে মোট লোকসংখ্যা বের করা হয়।

৭ মার্চের ভাষণ অনুষ্ঠিত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। পূর্বে যেটি রমনা রেসকোর্স ময়দান নামে পরিচিত ছিল। এর কার্যকর ক্ষেত্রফল চার লক্ষ বর্গমিটারের বেশি। প্রতি বর্গমিটারে সমাবেশ সংখ্যা পাঁচজনের বেশি হয় না সাধারণত। যেহেতু রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেই ক্ষেত্রে একটু জনসমাগম বেশি এবং চাপাচাপি বেশি ছিল। সেখানে কোনো তিল ধারণের জায়গা ছিল না।

তাও যদি পাঁচজন ধরে হিসাব করা হয় তবে সেই হিসাবে চার লাখ বর্গকিলোমিটারে লোকসংখ্যা হওয়ার কথা অবশ্যই বিশ লক্ষ (৪ লাখ গুণন ৫)। এটাতো গেলো শুধু সোহরাওয়ার্দীর ভেতরের সংখ্যা। কিন্তু এই উদ্যানের বাইরে যে বিশাল এলাকা জুড়ে লোকসমাগম হয়েছিল, সেটার হিসাব আদতে নেই।

এর মধ্যে আরও ছিল শিশু একাডেমি, সচিবালয় থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তা, দোয়েল চত্বর থেকে বাংলা মোটর পর্যন্ত রাস্তা, বর্তমান মৎস্য ভবন থেকে আইইবি, শাহবাগ হয়ে কাঁটাবন মোড় পর্যন্ত রাস্তা, বর্তমান জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গন (জাদুঘর তখন নিমতলীতে ছিল), শাহবাগ হোটেল প্রাঙ্গন (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়), বর্তমান বারডেম ও ও ইব্রাহিম মেমোরিয়াল হাসপাতাল প্রাঙ্গন, ঢাকা ক্লাব প্রাঙ্গন, জাতীয় টেনিস ফেডারেশন প্রাঙ্গন, রমনা পার্কের লেকের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাড়, আইইবি প্রাঙ্গন, বর্তমান সড়ক ভবন প্রাঙ্গন, বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর আউটডোর এলাকা, বর্তমান আজিজ মার্কেট ও তৎসংলগ্ন পাওয়ার হাউজ এলাকা, জাদুঘরের পিছনের আবাসিক এলাকা, জিয়া হল ও মুজিব হল প্রাঙ্গন, চারুকলা, নজরুলের মাজার, বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ, লাইব্রেরি, হাকিম চত্ত্বর, আইএমএল, নতুন সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চত্ত্বর, টিএসসি চত্ত্বর, টিএসসি থেকে ঢাকা মেডিকেল পর্যন্ত রাস্তা, নিউক্লিয়ার শক্তি কমিশন, পুষ্টি ভবন, অ্যানেক্স ভবন চত্ত্বর, শিববাড়ি আবাসিক এলাকা, শামসুন্নাহার হল এবং জগন্নাথ হলের মাঝখানের পথ, জগন্নাথ হলের মাঠ, টিএসসি থেকে ভিসি’র বাসভবন পর্যন্ত রাস্তা।

এই স্থানগুলোর জনসমাগমের আনুমানিক হিসাব সেভাবে কোথাও উল্লেখ নেই। তাই আমরা বিশ লাখের বেশি মানুষের জনসমাগমটাই ধরি।