ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

একাত্তরের এই দিনে: অগ্নিঝরা ১১ মার্চ

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০১৯ সোমবার, ০৮:০৩ এএম
একাত্তরের এই দিনে: অগ্নিঝরা ১১ মার্চ

একাত্তরের মার্চ মাসের প্রতিটি দিনই বাঙালী জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসে একেকটি দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুক্তির আন্দোলনও আরও জোরদার হতে থাকে। তারই পথ ধরে ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন হাইকোর্টের বিচারপতি ও প্রশাসনের সচিব-সহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। টানা দশম দিনের মতো সারা বাংলার মানুষ অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যান।

এদিন সচিবালয়, মুখ্য সচিবের বাসভবন, প্রধান বিচারপতির বাসভবনসহ সকল সরকারি ও আধাসরকারি ভবন ও বাসভবনে ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা।

১৯৭১ এর আজকের দিনে ন্যাপ(ওয়ালী) পূর্ববাংলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, পাঞ্জাব আওয়ামী লীগ সভাপতি এম. খুরশীদ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ প্রধান মমতাজ দৌলতানার বিশেষ দূত পীর সাইফুদ্দিন ও ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি কে. উলফ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার ধানমন্ডির বাসভবনে পৃথক পৃথকভাবে বৈঠক করেন।

অন্যদিকে সংগ্রমী জনতা সেনাবাহিনীর রসদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর স্বাভাবিক সরবরাহের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। সিলেটে রেশন নেয়ার সময় সেনাবাহিনীর একটি কনভয়কে বাধা দেয় স্থানীয় জনতা। যশোরেও একই ঘটনা ঘটে।

একাত্তরের আজকের দিনে সামরিক কর্তৃপক্ষ ১১৪নং সামরিক আদেশ জারি করে। ওই আদেশে বলা হয় যে, কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সম্পতির ক্ষতিসাধন করলে অথবা সশস্ত্রবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণের বা সেনাবাহিনীর গতিবিধিতে বাঁধা দিলে তাদের কার্যকলাপ আক্রমণাত্মক বলে গণ্য হবে, যা সংশ্লিষ্ট সামরিক বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এদিন টাঙ্গাইলে বিন্দুবাসিনী হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় ন্যাপ প্রধান মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বঙ্গবন্ধু ঘোষিত স্বাধীনতা সংগ্রামে পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন। তিনি ভাষণে বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান সাত কোটি বাঙালির নেতা। নেতার নির্দেশ পালন করুন। লক্ষ্য অর্জনের জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করুন। এ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোন রকম বিরোধ থাকা উচিত নয়।’

একাত্তরের আজকের দিনে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো করাচী থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে একটি তারবার্তা পাঠান। তারবার্তায় তিনি বলেন, উদ্ভুত সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে আমি গভীর ভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। আমরা আজ বিরাট সঙ্কটের মুখোমুখি। দেশের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। এ ব্যাপারে আমাদের উভয়ের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। ধ্বংস এড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই আমাদের করতে হবে।’

বাংলার আন্দোলন জোরদার হোয়ার প্রেক্ষিতে করাচীতে গণ ঐক্য আন্দোলনের নেতা এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, খুব দ্রুত পটপরিবর্তন হচ্ছে। দেশকে বিচ্ছিন্নতার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানই কার্যত এখন ঢাকার সরকার প্রধান। সেখানে সব সরকারি কর্মচারী এবং সচিবরা তাঁর নির্দেশ পালন করছেন। ঢাকায় কেবল সামরিক সদর দপ্তরে পাকিস্তানি পতাকা উড়ছে। তিনি আরো বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে অবিলম্বে ক্ষমতা ছাড়া না হলে দেশের দু’অংশকে এক রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি