ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

একাত্তরের এই দিনে: অগ্নিঝরা ১২ মার্চ

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০০ এএম
একাত্তরের এই দিনে: অগ্নিঝরা ১২ মার্চ

একাত্তরের মার্চে চাপা উদ্বেগ-অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালী। কি ঘটবে, কী ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে উৎকণ্ঠিত ছিলেন সকলেই। অবরুদ্ধ গণমানুষ ভিতরে ভিতরে প্রস্তুত হচ্ছিলেন চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য। লক্ষ একটাই- নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা।

একাত্তরের আজকের দিনে অর্থাৎ ১২ মার্চে টানা এগারো দিনের মতো অব্যাহত থাকে অসহযোগ আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সরকারি, আধাসরকারি কর্মচারীরা ধর্মঘট চালিয়ে যান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসগৃহ এমনকি যানবাহনে কালো পতাকা ওড়ানো হয়।

এদিন বাংলার চিরচেনা শাপলাকে আমাদের জাতীয় ফুল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিল্পী কামরুল হাসানের আহ্বানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে আয়োজিত শিল্পীদের এক সভাতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। আর শিল্পী মুর্তজা বশীর ও কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে এ দিন চারুশিল্প সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে এ পরিষদ বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল।

একাত্তরের আজকের দিনে লাহোরে এক সাংবাদ সম্মেলনে গণঐক্য আন্দোলনের প্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান বলেন, ‘পূর্বাঞ্চলের জনসাধারণ সমান অধিকার নিয়ে থাকতে চায়, পশ্চিমাঞ্চলের দাস হিসেবে নয়। পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য একটি মাত্র পথ খোলা রয়েছে। আর তা হচ্ছে শেখ মুজিবর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।’

অন্যদিকে ন্যাপের মহাসচিব সি.আর. আসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের বর্তমান সঙ্কটের জন্য একচেটিয়া পুঁজিপতি ও আমলারাই দায়ী। ভূট্টোও এ ব্যাপারে নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। ভূট্টোর হুমকিপূর্ণ মনোভাব ও ক্ষমতার লিপ্সাই রাজনৈতিক সঙ্কটকে আরো ঘনীভূত করে তুলছে।

এইদিন জাতীয় পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ জহিরউদ্দিন পাকিস্তান সরকারের দেওয়া খেতাব বর্জন করেন। আর রাওয়ালপিন্ডিতে এক সরকারি ঘোষণায় ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসের নির্ধারিত কুচকাওয়াজ, খেতাব বিতরণসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়।

একাত্তরের আজকের দিনে ময়মনসিংহে এক জনসভায় ন্যাপ প্রধান আবদুল হামিদ খান ভাসানী সাত কোটি বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি শেখ মুজিবর রহমান কখনোই বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে না। আপনারা শেখ মুজিবের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখুন।’

একাত্তরের আজকের দিনে প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ নেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলী বাংলাদেশের জন্য পাঠানো খাদ্য বোঝাই মার্কিন জাহাজের গতি বদলে করাচী প্রেরণের ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেন।

সারাদেশ যখন আন্দোলন সংগ্রামে মুখর তখন চলচ্চিত্র প্রদর্শকরাও বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। ঢাকাসহ সারাদেশে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

বাংলা ইনসাডার/এএইচসি