ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

একাত্তরের এই দিনে: অগ্নিঝরা ১৩ মার্চ

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৯ বুধবার, ০৮:০০ এএম
একাত্তরের এই দিনে: অগ্নিঝরা ১৩ মার্চ

১৯৭১ সালের আজকের দিনে পূর্ব বাংলা সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনে ছিল উত্তাল। মার্চের অন্যদিনগুলোর মতো এদিনও ঢাকাসহ সারাদেশ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মিছিল সমাবেশে মুখরিত ছিল।

একাত্তরের আজকের দিনে স্বাধীনতার স্বপক্ষে দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যবৃন্দ। আন্দোলন পরিচালনার মহান কাজে তারা নিজেদের একদিনের বেতন দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এদিন পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে একাত্ম হয়ে রাজপথে মিছিল করে।

বিরোধী দলের নেতারা পাকিস্তানের অনিবার্য ভাঙন নিশ্চিত বুঝতে পেরে একাত্তরের আজকের দিনে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে অবিলম্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান তারা। কিন্তু সামরিক শাসকগোষ্ঠী সেদিকে তোয়াক্কা না করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম দমনে পরিকল্পনা করতে থাকে।

একাত্তরের মার্চে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দল-মত নির্বশেষে স্বাধীনতাকামী বাঙালি আরও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছিল। বঙ্গবন্ধুর উদাত্ত আহ্বানে অসহযোগ আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করছিল বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠন। অচল হয়ে পড়ছিল পুরো দেশ। কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, লেখক, শিক্ষকসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ছিল।

একাত্তরের আজকের দিনে জমিয়াতুল ওলামা ইসলামিয়া সংসদীয় দলের নেতা মাওলানা মুফতি মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনটি আহ্বান জানানো হয়। আহ্বানগুলো হলো- পূর্ব পাকিস্তান থেকে সামরিক আইন প্রত্যাহার, ২৫ মার্চের আগে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।

পাকিস্তানের বাঘা বাঘা সব নেতা লাখো মুক্তিকামী বাঙালির উত্তাল আন্দোলন-সংগ্রাম দেখে পাকিস্তানের অখণ্ডতা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়লেও সামরিক বাহিনী অন্য ফন্দি আটতে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফন্দিবাজদের নয় বরং জয় হয় মুক্তিকামী বাঙালীর।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি