ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

একাত্তরের এই দিনে: অগ্নিঝরা ১৯ মার্চ

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০০ এএম
একাত্তরের এই দিনে: অগ্নিঝরা ১৯ মার্চ

একাত্তরের ২৬শে মার্চ থেকে বাঙালীর চূড়ান্ত স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলেও আজকের দিন অর্থাৎ ১৯ মার্চ সংঘটিত হয় প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ। এদিন ঢাকার পার্শ্ববর্তী জয়দেবপুরে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল মুক্তিকামী বাঙালির বন্দুক। এ কারণেই মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে সমগ্র বাংলাদেশে স্লোগান উঠেছিল ‘জয়দেবপুরের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’।

একাত্তরের মার্চের অন্যদিনগুলোর মতো এদিনও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সমগ্র বাংলাদেশে চলতে থাকে দুর্বার আন্দোলন। জয়দেবপুরে গঠন করা হয় সর্ব দলীয় মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ। এ পরিষদের ছিল দুটি শাখা। একটি হাই কমান্ড,অপরটি এ্যকশন কমিটি। সে সময় জয়দেবপুরের ভাওয়াল রাজবাড়িতে (বর্তমান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) অবস্থান ছিল দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের। এ রেজিমেন্টের ২৫/৩০ জন ছাড়া সবাই ছিলেন বাঙালি অফিসার ও সৈনিক। এদের প্রায় সবাই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক। এই দলটিকেই নিরস্ত্র করতে ১৯ মার্চ শুক্রবার আকস্মিকভাবে জয়দেবপুর পৌছায় পাক বাহিনী। এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন পাকিস্তানি ব্রিগ্রেডিয়ার জাহান জেব।  এই খবর ছড়িয়ে পড়লে কৃষক-শ্রমিকসহ বিপুল জনতা লাঠিসোটা, দা, করাতসহ যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। জয়দেবপুর রেল গেটে মালগাড়ীর বগি, রেলের অকেজো রেল লাইন, স্লিপারসহ বড় বড় গাছের গুড়ি, কাঠ, বাঁশ, ইট ইত্যাদি দিয়ে এক বিশাল ব্যারিকেড দেওয়া হয়। জয়দেবপুর থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত আরো ৫টি ব্যারিকেড দেওয়া হয় যাতে পাকিস্তানি বাহিনী অস্ত্র নিয়ে ফেরৎ যেতে না পারে।

রেল গেটে ব্যারিকেড সরানোর জন্য ব্রিগ্রেডিয়ার জাহান জেব বাঙালি সৈন্যদের সামনে দিয়ে পেছনে পাঞ্জাবী সৈন্যদের রেখে মেজর শফিউল্লাহকে জনতার উপর গুলি বর্ষণের আদেশ দেয়। কিন্তু বাঙালী সৈন্যরা সে আদেশ না মেনে আকাশের দিকে গুলি ছুড়ে সামনে এগুতে থাকে। এ সময় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের উপর অবস্থান নিয়ে বন্ধুক ও চাইনিজ রাইফেল দিয়ে সেনাবাহিনীর উপর গুলি বর্ষণ শুরু করে বাঙালি জনতা। আর পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন নেয়ামত ও মনুখলিফা। আহত হন শত শত বীর বাঙালি। এক পর্যায়ে পাক বাহিনী কার্ফু জারি করে এলোপাথারি গুলিবর্ষণ শুরু করলে জনতার প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ে। এরপর দীর্ঘক্ষণের  চেষ্টায় পাক বাহিনী ব্যারিকেড সরাতে সক্ষম হয়। চান্দনা চৌরাস্তায় এসে আবারও প্রতিরোধের মুখে পড়ে পাক বাহিনী। সে সময়কার নামকরা ফুটবলার হুরমত এক পাঞ্জবী সৈন্যেকে পেছন দিয়ে আক্রমন করে তার রাইফেল কেড়ে নেন।  কিন্ত পেছনে আরেক সেনা হুরমতের মাথায় গুলি করলে তিনি সেখানেই শাহাদাৎ বরণ করেন।

এদিন টাঙ্গাইল থেকে রেশন বহনকারী একটি কনভয় জয়দেবপুরে আটকে দেয় জনতা। ওই কনভয়ে থাকা ৫ জন পাক সেনার চাইনিজ রাইফেলও কেড়ে নেওয়া হয়।

১৯ শে মার্চের সশস্ত্র যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বড় মাইল ফলক। অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত পাক বাহিনীকে পরাজিত করার যে দুঃসাহসিক স্বপ্ন বাঙালি দেখছিল, এইদিন থেকেই তা এক এক নতুন মাত্রা পায়।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি