ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আজ পহেলা বৈশাখ, জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে শুরু সম্ভাবনার ১৪২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার, ০৬:০০ এএম
আজ পহেলা বৈশাখ, জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে শুরু সম্ভাবনার ১৪২৬

বছরের আবর্জনা ধুয়ে, দুঃখ-হতাশা-গ্লানিময় অতীতকে ভুলে সবার এক সহজাত প্রয়াসের মধ্য দিয়ে এসেছে ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। আজ রবিবার পহেলা বৈশাখ। নতুন দিনের হলো শুরু, সেই সাথে নতুন বছরের। নতুন আশা ও স্বপ্ন নিয়ে এক সুন্দর আগামীর পথে পদাংকনের সূচনা হলো। গতকাল শনিবার পশ্চিম-দিগন্তে আবীর ছড়িয়ে ১৪২৫ বঙ্গাব্দের শেষ সূর্য অস্তমিত হয়েছে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন।

রাজধানী ঢাকায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পহেলা বৈশাখ উৎসব উদযাপন। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে নববর্ষ উদযাপন পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে। পহেলা বৈশাখের ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে মেতে ওঠে সারাদেশ। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে নতুন জামাকাপড় পড়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার বাঙালি। সূর্যোদয়ের পর পর ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো…। তাপস নিঃশ্বাস বায়ে, মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে, বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক, এসো এসো…’ গান গেয়ে নতুন বছরকে আহবান জানাবে।

গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে বাঙালি মিলিত হবে তার সর্বজনীন এই অসাম্প্রদায়িক উৎসবে। দেশের পথে-ঘাটে, মাঠে-মেলায়, অনুষ্ঠানে থাকবে কোটি মানুষের প্রাণের চাঞ্চল্য, আর উৎসব মুখরতার বিহ্বলতা।

দেশ স্বাধীনের পর বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।

প্রতিবারের মতো এবারো নববর্ষকে কেন্দ্র করে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ