ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

উৎসব নষ্টকারী দুষ্টলোকদের থেকে সাবধান

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার, ০৯:০০ এএম
উৎসব নষ্টকারী দুষ্টলোকদের থেকে সাবধান

যুগ যুগ ধরে আমরা আমাদের বাংলা নববর্ষকে অসম্ভব প্রাধান্য দিয়ে আসছি। র‌্যালি, মঙ্গল শোভাযাত্রা, ছায়ানটের বর্ষবরণ আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সেই নারী নিপীড়নের ঘটনা আমাদের চিন্তাচেতনাকে একেবারে পাল্টে দিয়ে গেছে। বড় ধরনের উৎসব আর আয়োজনকে ঘিরেই তক্কে তক্কে থাকে এই বাজে লোকগুলো। শহর বা গ্রামে উৎসব আয়োজন উপলক্ষ্যে ভিড়কেই লক্ষ্য করে নিপীড়নকারীরা। সেদিন টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকের সামনে কিছু যুবক বাংলা নববর্ষের উৎসবে আসা মেয়েদের শরীরে হাত দিতে থাকে। তখনও চারপাশে বিকেলের আলো ছিল, গেটের ভেতর-বাইরে হাজারো মানুষ। সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়- অনেক নারীর পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে দেয়া হয়। কারো কারো শাড়ি ধরে টান দেয়া হয়। রিক্সা থেকে টেনে নামানো হয় স্বামীর পাশে বসে থাকা নারীটিকে। অগুণতি মানুষের ভীড়ের ভেতর হারিয়ে যেতে থাকে আক্রান্ত মেয়েদের সাহায্যের আকুতি, চিৎকার। ভুভুজেলা, বাঁশি বাড়িয়ে সেই চিৎকারকে প্রশমিত করতে থাকে দৃর্বৃত্তরা।

সেদিনের একের পর এক যৌন হামলাকে অনেকেই নজিরবিহীন বলেছেন। ওই ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশরা আক্রান্ত নারীদের সহায়তা দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। অবাক করা বিষয় ঘটনার পর পুলিশের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা বলেছিলেন, ‘এটি কতিপয় দুষ্টু ছেলের কাজ’। সাথে সাথে ব্যবস্থা না নেয়ায় সমালোচনার শিকার হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও।  তাহলে শুধু নববর্ষ নয়, সব উৎসব পুরুষদের মতো নারীরাও সমান আনন্দে উদযাপন করতে পারবে। উৎসবের জনারণ্যে কিংবা নির্জন পথেও আর চলতে নারীর সঙ্গি হবে না দ্বিধা, ভয় আর উৎকণ্ঠা।

আর এমনটা ঘটছে, কারণ নারী নির্যাতনের বিষয়টি এখনো জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হতে পারেনি। কেউ বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে না। নির্যাতনকারীদের শাস্তি হচ্ছে না। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা যাচ্ছে না বলেই নারী লাঞ্ছনাসহ সব অপরাধের মাত্রা বেড়ে চলেছে। অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কাজেই এখনই সময় রাষ্ট্র ও সমাজের জেগে ওঠার। নারীর ওপর যৌন হয়রানিকারী, নারীর শ্লীলতাহানিকারী, নারী নির্যাতনকারীদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যত দিন সমাজ ও রাষ্ট্র এ ব্যাপারে আন্তরিক না হবে, তত দিন নারীর ওপর এ হয়রানি ও নির্যাতন চলতেই থাকবে।

প্রথমেই মনে রাখতে হবে এই নিপীড়ক লোকগুলো উৎসবকে একেবারে নষ্ট করে দেয়। এদের কারণে তো উৎসব উদযাপনকে থামিয়ে দিলে চলবে না। এই অবস্থায় এদের মোকাবেলা করা প্রয়োজন তো অবশ্যই। খুব ভিড় বা লোকের মধ্যে এই কাজগুলো করতে সুবিধা পায় বাজে লোকগুলো। সেক্ষেত্রে খুব ভিড় এবং কম জনসমাগমে গেলে চোখকান খোলা রাখতে হবে। আশেপাশে কারো দৃষ্টিকটূ আচরণ বা হাবভাব দেখলে তো অবশ্যই সেখান থেকে সরে যেতে হবে বা সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অবহিত করতে হবে। 

এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খুব বেশি তৎপর করে তুলতে হবে। তারা যেন হাত-পা গুটিয়ে থেকে দায়িত্বে অবহেলা না করে। এমন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এবং নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ করবে- এটাই আমাদের কাম্য। আমাদের প্রতিটি দিন, প্রতিটি উৎসব হোক আনন্দের।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ