ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মাদ্রাসাগুলো কি নিরাপদ?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০১৯ সোমবার, ১১:৪৭ এএম
মাদ্রাসাগুলো কি নিরাপদ?

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহে আমাদের দুটো ধারণা পালটে গেছে। একটি হলো; হলি আর্টিজানের ঘটনা যখন ঘটলো তখন আমাদের ধারণা ছিলো বাংলাদেশে যারা জঙ্গিবাদ লালন করে বা উজ্ঞ্র সাম্প্রদায়িকতা লালন করে তারা সবাই মৌলবাদী শিক্ষা থেকে শিক্ষিত হয়ে ওঠে। যেমন: কওমী মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসা, হাফিজিয়া মাদ্রাসা। মাদ্রাসা শিক্ষাকেই এতদিন অভিযুক্ত করা হচ্ছিলো। কিন্তু হলি আর্টিজানের ঘটনার পর আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। আমরা দেখতে পেলাম শুধু মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে যারা শিক্ষিত হয়েছে শুধু তাঁরাই জঙ্গিবাদ, উগ্র ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা লালন, ধর্মীয় উগ্রতায় আকৃষ্ট হয় ব্যাপারটি তেমন নয়।  এই ঘটনায় আমাদের ভ্রান্ত ধারনাটি বদলে যায়। আমরা দেখতে পাই উচ্চ শিক্ষিত প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি কিংবা ইংলিশ মিডিয়াম থেকে পাস করা ছেলেমেয়েরাও এই ধ্যান ধারণা লালন করেন।  

দ্বিতীয়ত; আমাদের একটি ধারণা ছিলো ইংলিশ মিডিয়ামের ছেলেমেয়ারাই বেশি উগ্র, সেখানেই বেশি যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে, সেক্সচুয়াল হ্যারেজমেন্ট, নিপীড়নমূলক ঘটনাগুলো ঘটে। একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে যারা বিশ্বাস করে তারা বলতে শুরু করেছিল যে, মেয়েদের আধুনিক ও উগ্র পোষাকের কারণেই  মেয়েরা নিপীড়িত নিগৃহীত হয় এ ধরণের মুখরোচক কথাবার্তার চল ছিল। বলা হচ্ছিল, উদার নৈতিক সামাজিক ভ্রষ্টাচারের কারণেই এই ধরণের ঘটনাগুলো ঘটছে। 

কিন্তু ফেনীর ঘটনার পর আমরা দেখতে পাই ভিন্ন প্রবাহচিত্র। নুসরাতের ঘটনাটা আমাদের নাড়িয়ে দিয়ে গেছে। নুসরাতের ঘটনায় আমরা দেখতে পাই ‘নুসরাত’ একটা প্রতীক মাত্র। শুধু নুসরাত নয় এরকম অনেক ঘটনাই মাদ্রাসাগুলোতে ঘটছে সেটা গত কয়েকদিনে পত্রপত্রিকা টেলিভিশনের খবরে দেখেছি। দেশের আনাচে কানাচে এরকম অনেক ঘটনাই ঘটছে যেগুলো শুধু লোকলজ্জার ভয়ে, সামাজিকতার ভয়ে গোপন করে যাচ্ছে ভুক্তভুগীরা। 

নুসরাতের ঘটনার পর জানলাম ফেনীর সোনাগাজীর ওই মাদ্রাসাটিতে কি ঘটতো। প্রিন্সিপালের রুমটি ছিল একটি আতঙ্ক, দারোয়ান, প্রশাসন জানতো প্রিন্সিপ্যালের কুকর্মের কথা। এই ঘটনাগুলি আমাদের একটি দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচন করে দিয়েছে। আমাদের সহ-শিক্ষা কার্যক্রমকে সমালোচনা করা হলেও এটিই সবচেয়ে নিরাপদ। সেখানেই দেখা যাচ্ছে মেয়েরা অনেক নিরাপদ। বরং রক্ষণশীল সমাজ বলে পরিচিত ধর্মান্ধ সমাজেই নারীরা বেশি অনিরাপদ। আমাদের এখন সময় এসেছে এ জায়গাগুলোর উপর নজর দেয়ার, নীতিমালা তৈরি করার যাতে যৌন হয়রানি না হয়।  

বাংলা ইনসাইডার/এসআর