ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

রবীন্দ্রনাথ: প্রজন্মে, প্রেমে, মুক্তিতে, প্রকৃতিতে

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ মে ২০১৯ বুধবার, ০৫:১৫ পিএম
রবীন্দ্রনাথ: প্রজন্মে, প্রেমে, মুক্তিতে, প্রকৃতিতে

সেই ছেলেবেলায় ‘আমাদের ছোটনদী চলে বাঁকে বাঁকে’ কবিতা শুনে বড় হয়নি এমন মানুষ খুব কমই আছে। তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে- এই মজার কবিতা পড়তে এখনো ভালো লাগে। কারণ একেবারে ছেলেবেলা থেকেই অন্তরে গেঁথে আছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করার সাধ্য আমাদের আজও নেই।

নিজে যখন কিছু লিখতে যাই, কিছু সৃষ্টি করতে গেলে ভেতর থেকে যে বোধ বা চেতনা আসতে থাকে তখন লেখার গুরু মনে হতে থাকে কবিগুরুকেই। তার লেখা, তার চেতনাবোধ জ্বলতে থাকে নিজের মধ্যে। তার লেখনী আর ধারণার মধ্যেই যেন নিজের ধারণাগুলো মিশে যেতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ শুধু একটা নামই নয়, বিশাল একটা চেতনাও। কোনো বাঙালির মধ্যেই এতো ভাববোধ ছিল না কখনো।

আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, এই আকাশে… মুক্তির আনন্দ কেমন রবীন্দ্রনাথ তা ভালোভাবে বুঝিয়ে ‍দিয়ে গেছেন। আমাদের মুক্তি ধুলায় ধুলায়, ঘাসে ঘাসে ছড়ানো, তা তিনি খুঁজে পেয়েছেন।

একটা শিশুমনকে চনমনে করে তুলতে রবীন্দ্রনাথের ছড়া, কবিতা বা গানগুলো বরাবরই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে, মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে- বীরপুরুষ কবিতায় এই যে মা’কে নিয়ে তার ছোট্ট বীরপুরুষ রাঙা ধুলোয় মেঘ উড়িয়ে আসে- এই অনুভূতিকে প্রকাশ করা কঠিন।

ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,

ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা

কবিগুরুর লেখা এই লাইনগুলোর ভেতরে নতুনদের জাগিয়ে তোলা, তাদের মাধ্যমে জাতিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, সেটা তিনি অন্তর থেকে বোঝাতে পেরেছেন। তার একেকটি সৃষ্টি আমাদের শক্তি। উঠে দাঁড়ানো বা ঘুরে দাঁড়ানোর এমন অনুপ্রেরণা কোথায়ই বা মিলে! প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের জন্য তিনি এমন অসংখ্য লেখা রেখে গেছেন।

রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিতে বিরহ এবং প্রেম নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। প্রেমের বিরহের কারণে যে মনোঃকষ্ট, যন্ত্রণা, আক্ষেপ- সেই অনুভূতির বোধ সবারই অনেক একই। ‘মনে কি দ্বিধা রেখে গেলে চলে…’ যেই মানুষটি মনে এতো দ্বিধা রেখে জীবন থেকে চলে গেলো, তার জন্য হৃদয়ে যে মোচড়, সেটাও বুঝিয়েছেন তিনি। আর ভালোবাসার গল্প, গান, সাহিত্য, কবিতার ভাণ্ডার তো তার বরাবরই সমৃদ্ধ। ভালোবেসে সখীকে নিভৃতে যতনে নিজের নামটি লেখার আহ্বানেই তার প্রেমবোধ স্পষ্ট।

আমাদের চমৎকৃত বর্ণিল প্রতিটি ঋতু নিয়ে রবীন্দ্রনাথের লেখনিগুলো অসাধারণ। প্রতিটি ঋতুকে তিনি আলাদা আলাদা স্বকীয়তায় তুলে এনেছেন। এসো হে বৈশাখ, বাদল দিনেরও প্রথম কদম ফুল, আজ শরতের আলোয় এই যে চেয়ে দেখি মেন হয় এ যেন আমার প্রথম দেখা,  আজি হেমন্তের শান্তি ব্যাপ্ত চরাচরে জনশূন্য ক্ষেত্র-মাঝে দীপ্ত দ্বিপ্রহরে, শীতের হাওয়ার লাগল নাচন আমলকির এই ডালে ডালে, আহা, আজি এ বসন্তে এত ফুল ফুটে এত বাঁশি বাজে- এই যে ছয়ঋতুর এতো সৃষ্টি, আমাদের সাহিত্য আর সংষ্কৃতির ভাণ্ডারকে অকৃত্রিম করে তুলেছে।

মানে প্রশ্ন হলো, কোথায় নেই রবীন্দ্রনাথ? তিনি সবখানে আছেন। তার কথার খেই ধরেই বলতে হয়- নয়ন তোমায় পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে। অর্থাৎ তাকে আমাদের প্রজন্ম নিজের চোখে দেখতে না পেলেও তার প্রতিটি কর্ম রয়ে গেছে একদম আগের মতো স্বমহিমায়। আমরা রবীন্দ্রনাথে অনেকটাই আচ্ছন্ন হয়ে আছি। রবির প্রভাব আসলেই এড়ানো অসম্ভব। তাকে নিয়ে শেষ একটা কথাই বলতে হয়, ‘কবিগুরু, তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম।’

 

বাংলা ইনসাইডার