ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

বিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ সুধা মিয়া

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১০:৪৭ এএম
বিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ সুধা মিয়া

রাজধানীর ধানমণ্ডির ৫নম্বর সড়কে “সুধা সদন” নামে একটি ভীষণ সুন্দর বাড়ি রয়েছে, এই  বাড়িটির আড়ালে যে সুধা মিয়ার গল্প রয়েছে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিপ্রাপ্ত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শুক্রবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন শেখ রেহানার জীবনে নেমে আসে গভীর দুঃখের ঘনঘটা, কেননা এদিন সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

বঙ্গবন্ধু কন্যাদ্বয়ের এই কঠিন দুঃসময়ে যিনি তার ডানার নীচে সুগভীর যত্নে, স্নেহে, ভালোবাসায় লালন পালন করেছেন, দেখে রেখেছেন, জীবনের নতুন মানে শিখিয়েছেন তিনি হলেন এম এ ওয়াজেদ মিয়া- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জামাতা।

তিনি বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা পরমাণুবিজ্ঞানী এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানও ছিলেন। 

১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ছোট্ট সুধা মিয়া। বাবা আব্দুল কাদের মিয়া এবং মাতা ময়েজুন্নেসা। তিন বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সুধা মিয়াকে মানসম্মত পড়াশোনার জন্য প্রাথমিকের পড়াশোনা শেষে রংপুর জেলা স্কুলে ভর্তি করে দেন বাবা। সেখান থেকেই তিনি ডিসটিনকশনসহ প্রথম বিভাগে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন।

১৯৫৬ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করার পর ১৯৫৮ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। ১৯৬২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি পাশ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, থেকেছেন ফজলুল হক হলে। এসময় থেকেই তার রাজনীতি সংশ্লিষ্টতার শুরু এবং ১৯৬১ সালে ফজলুল হক হলের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ থেকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। এমনকি ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে যোগদান করে গ্রেপ্তার হন এবং কিছুদিন জেলও খাটেন। একজন বিজ্ঞানীর এই পুরোদস্তুর রাজনীতি সংশ্লিষ্টতার ঘটনা ইতিহাসে কমই দেখা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি পাশ করার পর পীরগঞ্জ গ্রামের ছেলে সেই সুধা মিয়া ১৯৬৩ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে আণবিক শক্তি কমিশনের চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৬৭ সালে লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফেরার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তাঁর বড় কন্যা শেখ হাসিনার জন্য এই সুধা মিয়াকেই পছন্দ করেন এবং এবছরই ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৭১ সালে এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং এর আগে ও পরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজের লেখা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ বইটি  থেকে জানা যায়, তিনিই প্রথম বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং তাঁর স্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৫ আগস্টের সেই লোমহর্ষক ঘটনা জানিয়েছেন বা জানাতে বাধ্য হয়েছেন।

কেননা তিনি ছাড়া সেসময় সদ্য বাবা মা ভাইসহ সকল নিকটাত্মীয় হারানো অসহায় এই দুইজন মেয়ের কাছের মানুষ আর কেউ ছিলোনা। তিনিই এদেশ থেকে ওদেশ এই দুইবোনকে নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন, আঁচড় লাগতে দেননি কখনো।

আজ তাঁর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৯ সালের ৯ মে কিডনিজনিত সমস্যা, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ৬৭ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ড. ওয়াজেদ মিয়া আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৯৯ সালে অবসর নেন। তাঁর গবেষণা কর্মের পরিধিও ছিল বিস্তৃত। তিনি ফান্ডামেন্টাল ইন্টারঅ্যাকশন এন্ড পার্টিক্যাল ফিজিক্স, নিউক্লিয়ার এন্ড রেক্টর ফিজিক্স, সলিড স্টেট ফিজিক্স, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিজম, হেল্থ এন্ড রেডিয়েশন ফিজিক্স, রিনিউবল এনার্জি ইত্যাদি ক্ষেত্রে গবেষণা করেন।

এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ পদার্থ বিজ্ঞানী সমিতি, বাংলাদেশ বিজ্ঞান উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশ বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৭ সালে তাঁরই পরামর্শ ও পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় সমন্বিত উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যাদ্বের বিপদে সবচেয়ে কাছের মানুষ এম এ ওয়াজেদ আলি বাংলাদেশের মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে তার কর্মের মাধ্যমেই।

 

বাংলা ইনসাইডার