ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দূরে থাকলেও পাশে রাখুন মাকে

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ১২ মে ২০১৯ রবিবার, ০৫:০৩ পিএম
দূরে থাকলেও পাশে রাখুন মাকে

মায়ের কোলে শুয়ে হারানো সে সুখ

অন্য মুখে খুঁজেছি সেই প্রিয় মুখ…

আসলেই মায়ের মুখটি অন্য কোনো মুখে খুঁজে পাওয়া সম্ভব না। খুব মন খারাপ, খুব প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, ব্যর্থতায় ন্যুব্জ হয় মায়ের মুখটাই বার বার চোখে ভাসে। মনে হয় মায়ের কাছে থাকলে হয়ত শান্তি লাগতো, তিনি হয়ত সব সমাধান করে দিতে পারতেন।

ছোটবেলায় একটা শিশুকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় যে তুমি কাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসো। সে না ভেবেই উত্তর দেবে সে মাকে ভালোবাসে সবচেয়ে বেশি। যদি কবিতা বা গল্পে লিখতে বলা হয় যে তোমার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিটিকে নিয়ে লেখো। সে তার আধো আধো হাতে মাকে নিয়েই গল্প কবিতা লিখবে। মায়ের কোমল মুখের ছবিও আঁকবে সে।

বুদ্ধি হতে হতে মায়ের সঙ্গে সন্তানের যে আত্মিক যোগাযোগ, তা খণ্ডণ করার মতো নয়। দিন গড়াতে থাকে, মায়ের আদরের সন্তানটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। ভালোবাসা, সম্পর্ক নতুন রূপ নিতে থাকে। সন্তানটি যখন পরিণত বয়সে পা দেয়, তখন মায়ের থেকে দূরে সরে যেতে থাকে যেন। বয়স বাড়ে, নিজের মধ্যে সাবলম্বী ভাব চলে আসে। মায়ের সাহায্য সবসময় দরকারও পড়ে না। মায়ের সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সময়-সুযোগও কমে আসতে থাকে।

এখনকার দিনে অসম্ভব ব্যস্ত আমরা। প্রতিদিনের কাজ, নতুন মানুষ বা নতুন জীবন নিয়ে বিষিয়ে ওঠে জীবন। মা হয়ত দূরে, বহুদূরে। দেখাও হয়না বহুদিন। যা যোগাযোগ তা ফোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মন খুলে তার কথা শোনা হয় না। সন্তান যত বড়ই হোক, যত দূরেই থাকুক, মা কিন্তু ঠিকই অপেক্ষায় থাকে সে কখন ফোন দেবে। সব কাজ গুছিয়ে কবে বাড়িতে ফিরবে, সেই অপেক্ষা শেষই হয় না। ছেলে বা মেয়েটি ঠিকমতো খেলো কিনা, অসুখ করলো কিনা, ঠিকমতো বাড়িতে ফিরলো কিনা, কোনো ঝামেলায় পড়লো কিনা- কপাল কুচকে এই চিন্তায় মশগুল থাকে মা। সেই মায়ের জন্য কতটুকু সময় দিতে পারি আমরা? ফোন দিলেই ‘মা ব্যস্ত আছি, পরে ফোন দিচ্ছি’ বলেই ফোনটা রেখে দিই। কিন্তু না, দূরে থেকেও তো মায়ের পাশে থাকা যায়।

ধরুন মায়ের জন্মদিন, বাবামায়ের বিবাহবার্ষিকী বা এই যে মা দিবসে মাকে আলাদাভাবে শুভেচ্ছা জানানো যায়। কাজের চাপে এইগুলো ভুলে গেলে চলবে না। মা এতে খুশি তো হবেই, সন্তান যে শত কাজের মাঝেও মাকে বিশেষ দিনগুলোতে মনে রাখে সেটাও তাকে বোঝাতে হবে।

মাকে মাঝেমধ্যে হুটহাট কোনো উপহার দিয়ে চমকে দিতে পারেন। এমনিতে হয়ত সময়ে-অসময়ে মাকে এটা-ওটা কিনে দেন আপনি। কিন্তু তার পছন্দের কিছু সম্পর্কে তো আপনাকে জানতে হবে। বিভিন্ন দিবস বা উপলক্ষ্যে তাকে শাড়ি, অ্যালবাম, ফুল, হাতের চুড়ি, ঘর সাজানোর কিছু কিনে দিতেই পারেন।

মা সারাদিন তার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। সবার খেয়াল রাখতে রাখতে তার খেয়াল রাখার কেউ নেই। আমরা যে যার কাজে ব্যস্ত। কিন্তু আমাদের জন্য তো মায়ের অফুরন্ত সময়। মায়ের জন্য সময় বের করুন। যতো দূরে থাকুন, সময় সুযোগ বুঝে তাকে দেখতে যান। নিজের কাছে তাকে নিয়ে আসুন। কাছাকাছি থাকুন কিছু সময়। যেতে না পারলে নিয়মিত ফোন দিয়ে খোঁজখবর রাখুন।

কাছে বা আশেপাশে থাকলে তাকে নিয়ে মাঝেমধ্যে কোথাও ঘুরে আসতেই পারেন। তার পছন্দের কোনো জায়গা, পরিচিত কারো বাড়ি থেকে ঘুরে আসুন। কোয়ালিটি টাইম কাটান অন্য সবাইকে নিয়ে। মায়ের জন্য নিজের হাতে কিছু রান্না করুন।

মায়ের যাবতীয় সুখে বা অসুখে পাশে থাকুন। বড় হয়ে গেছি, মায়ের থেকে আমি বেশি বুঝি মনে করে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। মায়ের কঠিন সময়ে তার পাশে থেকে ভরসা দিন, আশ্রয় হোন। দূরে সরিয়ে রাখবেন না কখনো। মুখে ভালোবাসি বলতে না পারলেও কাজেকর্মে বুঝিয়ে দিন মায়ের প্রতি আপনার ভালোবাসা।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ