ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আজ প্রকাশ হয় প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা

জান্নাতুল ফেরদৌসী
প্রকাশিত: ২৩ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১০:০২ এএম
আজ প্রকাশ হয় প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা

১৮১৮সালের ২৩মে (১২২৫ বঙ্গাব্দের ১০ই জৈষ্ঠ্য) শনিবার প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক সংবাদ পত্র ‘সমাচার দর্পণ’। সে হিসেবে আজ সমাচার দর্পনের জন্মদিন। কারো কারো মনে প্রশ্ন আসবে যে, এই সমাচার দর্পনটা আবার কী? সমাচার দর্পনটা হলো, বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা। যদিও এর প্রকাশক ছিলেন ইংরেজরা তবুও বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বলে এটিকে বাংলার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র হিশেবে ধরা হয়।

তবে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকুরি করে, ইংরেজ হয়ে বাংলার জনগণের জ্ঞান বিকাশে সংবাদপত্র প্রকাশ খ্রিস্টান মিশনারির এই কয়েকজন ইংরেজদের জন্যও সহজ ছিলো না।
প্রথমে খ্রিস্টান মিশনারিজ থেকে বের হয় বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মাসিক সংবাদপত্র দিকদর্শন। এটি প্রকাশিত হয় ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে। এর পরের মাসেই আরেকটি পত্রিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত হলেও কেরি সাহেব ভয় পেয়ে যান লর্ডকে মানে তখনকার ইংরেজ সরকারকে। তিনি আপত্তি করে জন ক্লার্ক মার্শম্যানকে বলেন সরকারের অনুমোদন ছাড়া আবার পত্রিকা প্রকাশ করে সরকারের বিরাগভাজন তিনি হতে চাননা। এই নিয়ে মতভেদ হয়ে খ্রিস্টান মিশনারিদের মধ্যে দুইদল হয়ে যান। একদল হলো কেরি সাহেবের দল যারা চান না বের করতে, আরেকদল জন ক্লার্ক মার্শম্যানের দল যারা চান।
পরে এরা দুইদল মিলে একটা সিদ্ধান্তে আসেন যে তারা প্রথমে প্রকাশিত ‘দিকদর্শন’ পত্রিকার অনুবাদসহ একটা ইংরেজি কপি সরকারের বরাবর পাঠাতে হবে। সরকার অনুমতি দিলেই এই পত্রিকা প্রকাশ তারা চালিয়ে যাবে, তাছাড়া নয়।
সিদ্ধান্ত পাকা! মার্শম্যান চলে গেলেন কলকাতায়। ভাইস প্রেসিডেন্ট এডমনস্টোন, চিফ সেক্রেটারি ও গভর্ণর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এদের প্রত্যেককে অনুবাদ-সহ পত্রিকার প্রথম সংখ্যা পৌঁছে দেন। লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস সবকিছু যাচাই- বাছাই করে স্বহস্তে মার্শম্যানকে একটি চিঠি লিখেন। চিঠিতে তিনি মার্শম্যানকে এদেশে জ্ঞানের প্রসার ঘটানোর সংকল্পে পত্রিকা প্রকাশের জন্য প্রশংসা করেন। এই প্রশংশা বাণিতে খুশি হয় খ্রিস্টান মিশনারিজ। এরপরে পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসিক বাংলা পত্রিকা প্রকাশের প্রায় একমাস পর ১৮১৮সালের ২৩মে বের হয় সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায়।
কিন্তু এই সম্পাদনা কেবলই নামে মাত্র। মূলত এই পত্রিকার সকল কাজ বাঙালি কয়েকজন সংস্কৃত ভাষায় দক্ষ পণ্ডিতদের দিয়ে এই পত্রিকার সকল কাজ করানো হতো। কখনো কোনো কারণে পণ্ডিতরা না আসতে পারলে, সেই সপ্তাহে পত্রিকা বন্ধ থাকবে বলে আগের সংখ্যায় ঘোষণা দেয়া হতো বলে জানা যায়।
এভাবেই বাংলায় ধীরে ধীরে পত্রিকার মাধ্যমে মানুষের কাছে খবর পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি বাঙ্গালিদেরকে সাহিত্য রচনা ও প্রকাশে উদ্বুদ্ধ করে ইংরেজরা। ঔপনিবেশিকতার যাতাকলে আমাদের যেমনি পিষে মেরেছে, আমাদের অনেককিছুই কেড়ে নিয়েছে, আমাদের ভেতরকার নিজস্বতা বলে আর কিছুই বাকি রাখেনি এই ইংরেজরা। এসব দিক থেকে তারা আমাদের এই উপমহাদেশে যে দুইশত বছর শাসন করেছে সেইসময়টুকু আমাদের জন্য দুঃখজনক ও আমাদের জাতিগত দীর্ঘশ্বাসের কারণ। কিন্তু এটাও সত্য আমাদের এই উপমহাদেশের আধুনিকতার প্রসারে ইংরেজদের ভূমিকা কম নয়।