ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হাসিনা-মোদির যত মিল অমিল

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ মে ২০১৯ রবিবার, ১০:০০ এএম
হাসিনা-মোদির যত মিল অমিল

প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তার এই জয়টাকে অনেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জয়ের সঙ্গে তুলনা করছেন। এই দুই নেতাই বলতে গেলে একক দাপটে নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছেন। একারণেই প্রতিবেশি দুই দেশের এই দুই নেতার রাজনৈতিক কৌশল ও চিন্তাধারার মধ্যে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দুই নেতার মধ্যে যেমন অনেক মিল আছে তেমনি অমিলও আছে অনেক।

প্রথমে দেখা নেওয়া যাক এই দুই নেতার মিলগুলো কী কী-

দেশের ইমেজ বৃদ্ধি এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা

শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদি দুজনই বহির্বিশ্বে নিজ দেশের ইমেজ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন এবং নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে টক্কর দিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এই দুই নেতা বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন সবসময়।

সবার আগে উন্নয়ন

সারা বিশ্বের সব নেতাই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ক্ষমতা পাওয়ার পর তাদের আর উন্নয়নের কথা মাথায় থাকে না। কিংবা নীতি ও কৌশলের ত্রুটির কারণে দেশের উন্নয়ন ঘটাতে ব্যর্থ হন অনেকে। কিন্তু শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদি দুজনই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন কীভাবে নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেও দেশের উন্নয়ন করতে হয়। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই নেতার রাষ্ট্র পরিচালনার ধরণ বিশ্লেষণ করলে এটা পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায় যে, তারা দেশের উন্নয়নকেই সবচেয়ে বড় এজেন্ডা হিসেবে নিয়েছেন।

একক শক্তি ও জনপ্রিয়তা

বাংলাদেশ এবং ভারত দুই দেশের ভোটেই দেখা গেছে, মানুষ কোনো দল বা প্রার্থীকে ভোট দেয়নি। বরং দল মত নির্বশেষে সবাই শেখ হাসিনা এবং মোদিকেই বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশে যেমন সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য দলের সমর্থকরাও দেশের উন্নয়নের কথা ভেবে শেখ হাসিনাকেই পরপর তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী করেছেন। তেমনি ভারতেও দেখা গেছে, দল নিরপেক্ষ কিংবা কমিউনিস্ট মতাদর্শীরাও মোদির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

এটা তো গেলো মিলের বিষয়টি। দাপুটে এই দুই নেতার মধ্যে অমিলও আছে কম না। বলা চলে, কিছু কিছু বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং চিন্তা চেতনার ভিন্নতা প্রকট। এর মধ্যে রয়েছে-

উদারপন্থা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই উদার মানসিকতার রাজনীতিবিদ। মোদি যেমন হিন্দুত্ববাদি এবং তার দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের স্বার্থই তিনি সবার আগে দেখেন। শেখ হাসিনা ঠিক এর উল্টো। তিনি বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সবসময়ই বলেন, কে কোন ধর্মের সেটা নয়, আমাদের সবার মনে রাখতে হবে যে আমরা বাঙালী। প্রধানমন্ত্রীর এই নীতির কারণেই ধর্মীয় সম্প্রীতির দিক থেকে বাংলাদেশ অন্য যেকোনো দেশের থেকে এগিয়ে। কিন্তু মোদির ভারতে ধর্মীয় বিভেদ ও হানাহানি বেড়েই চলেছে।

মানবিকতা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন মানবিক বোধসম্পন্ন নেতা। দেশের স্বার্থকে তিনি যেমন গুরুত্ব দেন, তেমনি মানবিকতার বিষয়টিও তার কাছে মুখ্য। একারণেই লাখ লাখ রোহিঙ্গা যখন নির্যাতিত নিপীড়িত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। সবার আগে তিনি মানবিকতাকেই স্থান দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মোদি দেশের স্বার্থ দেখতে গিয়ে প্রতিনিয়তই মানবিকতাকে জলাঞ্জলি দিচ্ছেন। কয়েক পুরুষ ধরে যারা ভারতে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদেরই দেশ থেকে বের করে করে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছেন মোদি। তাছাড়া মোদির কৌশলের কারণেই কাশ্মিরে হাজার হাজার মুসলিম মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।  

শান্তিকামী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তিকামী রাষ্ট্রনায়ক। তিনি কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধকে সমর্থন করেন না। রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত সমস্যাসহ নানা ইস্যুতে তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। যুদ্ধের বদলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই তিনি সব সমস্যা সমাধানের ওপর জোড় দেন সবসময়। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি ঠিক এর উল্টো। মাস দুয়েক আগেই তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে ফেলেছিলেন। এতে পাকা নাগরিকরা যেমন নিহত হয়েছে তেমনি ভারতেরও সেনাসদস্যদের প্রানহানি ঘটেছে। তাছাড়া মোদি নিজের দেশের কোটি কোটি মানুষকে অভুক্ত রেখে রাজকোষ ফাঁকা করে একের পর এক অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র কিনে যাচ্ছেন। দারিদ্র্যপীড়িত ভারতে এটা মোটেই কাম্য নয়।    

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি