ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ৫ সাপ

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০১৯ শুক্রবার, ০৩:০৫ পিএম
বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ৫ সাপ

সাপ ভয় পান না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সাপের মতো কোনো কিছু দেখলেই ভয়ে মূর্ছা যান অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন পৃথিবীর ৮০ শতাংশ সাপই নির্বিষ। কিন্তু বাদ বাকি ২০ শতাংশ বিষাক্ত সাপের মধ্যে এমন ভয়ঙ্কর কিছু সাপ আছে যেগুলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেও মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে। এমন ভয়ঙ্কর কিছু সাপের কথাই থাকলো আজ।

বেলচারস সি স্নেক

এই সাপের এক কামড়ে যতটুকু বিষ বের হয় তা দিয়ে প্রায় এক হাজার পূর্ন বয়স্ক মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা সম্ভব। কিন্তু এই সাপটি খুবই শান্ত ও লাজুক প্রকৃতির। বিশেষ করে জেলেদের মাছ ধরার সময় জালের ভিতরে ধরা পড়ে এই সাপ। সী স্নেক অর্থাৎ সামুদ্রিক সাপ হলেও এরা স্থলেও থাকে অনেকটা সময়। পানির নিচে এরা ৭৮ ঘন্টা দম বন্ধ করে থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে তারা শিকার ধরে এবং বিশ্রাম নেয়। ‘ভেনামাস’ প্রাণিকূলে সরীসৃপের মধ্যে সবচেয়ে বিষাক্ত হলো বেলচারস সী স্নেক। তবে এই সাপ নিয়ে বাঙালিদের ভয় না পেলেও চলবে। কারণ এদেশে এদের দেখা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূল এবং দক্ষিণ এশিয়ার উপকূলের সাগরের জলে বাস এদের।

ইনল্যান্ড টাইপান

এই সাপের আবাসস্থলও অস্ট্রেলিয়ায়। বিষের কার্যক্ষমতার দিক থেকে অস্ট্রেলিয়ার ইনল্যান্ড টাইপান সাপের অবস্থান দ্বিতীয়। আফ্রিকার ব্ল্যাক মামবা বা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার লম্বা কিং কোবরার মতো এরা ক্ষিপ্র ও আক্রমণাত্মক নয়। এরা সচরাচর মানুষের সান্নিধ্যে আসতে চায় না, আক্রমণও করতে চায় না। কিন্তু একাবার ধরে ফেললে রক্ষা নেই। এদের বিষ কোবরার থেকে ১৫ গুন বেশি শক্তিশালী। বলা হয়ে থাকে, এই সাপ এক দংশনে যে পরিমাণ বিষ নির্গত করে তাতে অনায়াসে শতাধিক পূর্ণ-বয়স্ক মানুষের মৃত্যু ঘটা সম্ভব। কোনরূপ প্রতিষেধক ব্যবস্থা না নিলে এই সাপে দংশনের সময় থেকে মৃত্যুর দূরত্ব মাত্র ৪০-৪৫ মিনিট। এদেরকে ক্ষুদ্র-আঁশের সাপও বলে। আর অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা এই সাপকে দানদারাবিল্লা নামে চেনে। মজার বিষয় হলো, ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে এদের রঙও বদলায়। গ্রীষ্মে জলপাই রঙের আর শীতে এরা ধারণ করে ধূসর রঙ।

ব্লু ক্রিট

বেলচারস সি স্নেক আর ইনল্যান্ড টাইপানের মতো বহুদূরের সাপ নয় ব্লু ক্রিট। আমাদের দক্ষিণ এশিয়াতেই পাওয়া যায় এই সাপ। ইন্দোনেশিয়াতেও দেখা মেলে ব্লু ক্রিটের। এরা স্বাজাতি ভক্ষক। মূলত অন্য সাপ শিকার করে এবং সেগুলো খেয়েই বাঁচে এরা। ব্লু ক্রিট অন্ধকারে আক্রমণ করতেই বেশি পছন্দ করে। এদের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর হার ৮৫ শতাংশ।

টাইপান

টাইপান এতোটাই বিষাক্ত যে এদের এক কামড়ে ১২ হাজার গিনিপিগ মেরে ফেলার মতো বিষ থাকে। এদের আবাসস্থল অস্ট্রেলিয়ায়। টাইপানের বিষ রক্তনালী বন্ধ করে দেয়। এই সাপের কামড় থেকে বেঁচে ফিরেছেন এই সংখ্যা খুবই কম।

ব্ল্যাক মাম্বা

বিষের জন্য তো বটেই, ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের কারণেও এরা বিখ্যাত। কেউ যদি একবার ব্ল্যাক বামবার পাল্লায় পড়েন, তাহলে কামড় না খেয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এই সাপ যাদের উপর ক্ষেপে যায় তাদেরকে পংক্ষীরাজের মতো তাড়া করে কামড়ে দেয়। আফ্রিকার প্রায় সব দেশেই এদের দেখা মেলে। শিকারকে প্রায় বিশ কিলোমিটার ঘন্টা গতিতে তাড়া করার ক্ষমতা রাখে ব্ল্যাক মাম্বা। এদের প্রতিটি কামড়ে ১০০-১২০ গ্রাম বিষ বের হয় যা ১০-২৫ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ঠ। ব্ল্যাক মাম্বা কামড়ে দেওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই মানুষের মৃত্যু হয়।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি