ঢাকা, রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

হোলি আর্টিজান যে কারণে ব্যতিক্রম

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০১৯ সোমবার, ১১:০৭ এএম
হোলি আর্টিজান যে কারণে ব্যতিক্রম

সারাবিশ্বের জন্য জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসী হামলা রীতিমত একটি বড় আতঙ্কের নাম। একটি অঞ্চল, একটি দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে দেশে তৈরি হচ্ছে রেষারেষি, চূড়ান্ত পর্যায়ের আন্তর্জাতিক কলহ। কিন্তু সেই হামলাগুলোর বিপক্ষে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর তেমন কোনো শক্ত অবস্থান আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। আর এখানেই বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর তফাৎ।

অন্যদেশের জঙ্গি হামলাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশে সংগঠিত হামলাগুলোর মূল পার্থক্য রয়েছে কিছু। এই যে, কিছুদিন আগেই শ্রীলংকার গীর্জাগুলোতে একযোগে যে হামলা চালানো হলো, তা নিয়ে কিছুদিন বিভিন্ন চর্চা হলো, গণমাধ্যমে কিছু তথ্য আমাদের চোখে পড়লো- তারপর সেটার তদন্ত বা অপরাধীদের শনাক্তকরণের কোনো তথ্য আমরা সেভাবে শুনিনি। এরপর লন্ডনে ২০১৭ সালে একটি মসজিদের কাছে পথচারীদের ওপরে গাড়ি উঠিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলা হলেও এরপর তা নিয়ে তেমন আর কোনো উচ্চবাচ্য আমাদের চোখে পড়েনি। ফ্রান্সের জঙ্গিহামলার ঘটনাকেও আমরা আর পাঁচটি ঘটনার মতোই মিলিয়ে যেতে দেখেছি।

এরকম নজির সারাবিশ্বে অনেক আছে। হামলার ঘটনাগুলো কিছুদিন না যেতেই হয়ত স্তিমিত হয়ে আসতে থাকে। অথচ এই বিশ্বের ক্ষমতাধর বড় বড় দেশগুলোই মানবাধিকারের জন্য লড়ছে, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসকে জিরো টলারেন্সের আওতায় রেখেছে। কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের দেশ জঙ্গীবাদ আর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সোচ্চার ছিল, এখনো আছে।

যেমন আমাদের দেশের প্রতিটি জঙ্গি হামলাগুলোকে সরকার সরাসরি তদন্ত করছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছে, সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সময় নিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে যত আসামি ছিল তাদের ধরা হয়েছে, প্রচলিত আইনের আওতায় তাদের বিচার হয়েছে। ক্রসফায়ার বা অন্য কোনো উপায়ে তাদের নিশ্চিহ্ন না করে পুরো সুশাসনের মাধ্যমে সব হামলার বিচারের প্রক্রিয়া চলেছে।

অন্য দেশগুলোর দিকে দৃষ্টি দিয়ে প্রথমেই দেখি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের টুইনটাওয়ারের হামলার পর এক গবেষণায় দেখা গেছে, সেদেশে মুসলিমদের সংখ্যা বেড়েছে। কারণ এমনভাবে বিষয়গুলো সেখানে ছড়িয়েছে যাতে করে অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে জনগণকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার করে তোলা হয়েছে শুরু থেকেই। বিশ্বের খুব কম দেশই আছে যারা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সচেতন। আমাদের দেশে জঙ্গিসংগঠনের সঙ্গে জড়িত সন্তান বা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে নিহত সন্তানের লাশটি পর্যন্ত বাবা-মায়েরা আর গ্রহণ করতে চায় না। সর্বশেষ হোলি আর্টিজানের ক্ষেত্রেও আমরা এমন ঘটনা দেখেছি। সামাজিক একটি ঘৃণা অপরাধীদের প্রতি তৈরি হয়েছে সব মহল থেকেই। এই সামাজিক ঘৃণাটাই হলো জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

আমরা দেশের প্রতিটি জনগণ, প্রতিটি মহল এবং সরকার জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। হোলি আর্টিজানের পরে বড় কোনো ধরনের জঙ্গি নাশকতার ঘটনা আমাদের দেশে ঘটেনি। জঙ্গিসংশ্লিষ্ট যেকোনো ঘটনাও আগে থেকে ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে কারণ এদেশ চায় না আবার হোলি আর্টিজানের মতো কোনো ঘটনা ঘটুক।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ