ঢাকা, রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

বিশ্বের বিপজ্জনক সন্ত্রাসী দল

জান্নাতুল ফেরদৌসী সনি
প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০১৯ সোমবার, ১২:০০ পিএম
বিশ্বের বিপজ্জনক সন্ত্রাসী দল

পৃথিবীতে সন্ত্রাসবাদ খুব নতুন কিছু নয়! অধিকারের প্রশ্নে বঞ্চিত মানুষকে যুগে যুগে পৃথিবীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসবাদের আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। তবে বর্তমান সময়ের সন্ত্রাসবাদ বিশ্ব রাজনীতিরই একটা অংশ বলে মনে করেন বুদ্ধিজীবীগণ। যিনি সবচেয়ে ক্ষমতাবান, তাঁর চাই আরো ক্ষমতা। যিনি দুর্বল তাকে নিশ্চিহ্ন করাই বর্তমান পৃথিবীর নিয়ম। আর এই নিয়মকে চালু রাখতেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভয়ংকর এসব  সন্ত্রাসীদেরকে লালন পালন করে থাকেন ক্ষমতাসীনরা। বৈশ্বিক ক্ষমতার হস্তক্ষেপ ছাড়া সন্ত্রাসী আক্রমণ চালিয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের কৃতকর্মের দায় স্বীকার করেও সদলবলে টিকে থাকা সহজ নয়। এই সময়ের কোনো সন্ত্রাসী হামলাই তাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নিতে পারেনা বিশ্ব। একটি সন্ত্রাসী হামলা মানেই হাসি আনন্দে অতি সাধারণভাবে বেঁচে থাকা একদল মানুষের রক্ত-মৃত্যু-শোকে মুহ্যমান পৃথিবী।

বর্তমানে যে সন্ত্রাসবাদী দলগুলো পৃথিবীর বুকে ত্রাস সৃষ্টি করে চলছে তাঁর মধ্যে রয়েছে-

আইএসআইএস বা আইএসআইএল

আইএসআইএস বা আইএসআইএল সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক এবং আল-শাম (লেভান্ট / সিরিয়া), এই নাম নিয়ে এরা দখল করে রেখেছে উত্তর ইরাক এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় সিরিয়া। সন্ত্রাস যে এতোটা ভয়ংকর হতে পারে তা দেখিয়ে দিয়েছে বিশ্বকে এই সন্ত্রাসদল। আবু বকর আল-বাগদাদী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আইএস বা ইসলামিক স্টেটের বর্বরতা এতোটাই জঘন্য যে তাদের এসব কর্মকাণ্ডকে ঘৃণ্য হিসেবে নিন্দা করেছে আল কায়দা নামক আরেকটি সন্ত্রাসী দল। ২০১৬সালে বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকায়, গুলশান হলি আর্টিসান বেকারিতে সংগঠিত সবচেয়ে ভয়বহ জঙ্গি হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে এই হামলায় তিন বাংলাদেশি,এক ভারতীয়,নয় ইতালীয় এবং সাত জাপানি নাগরিক নিহত হন। এছাড়াও দুজন পুলিশ এই হামলায় জিম্মিদেরকে উদ্ধার করতে যেয়ে নিহত হয়।

তালেবান

তালেবান আফগানিস্তান ভিত্তিক সুন্নী ইসলামী মৌলবাদী এবং পশতুনদের একটি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এরা আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু ক্ষমতাসীন অবস্থায় তাদের কর্মকাণ্ড মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এবং ২০০১ সালে নর্দার্ন অ্যালায়েন্স এবং ন্যাটো দেশগুলো কর্তৃক পরিচালিত এক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সেদেশে তালেবান শাসনের অবসান ঘটানো হয়। এসময় বহু তালেবান নেতা নিহত হয় এবং অনেকেই পালিয়ে যায়। জীবিতাবস্থায় পালানো এসব নেতারাই পরে ভয়ংকর বিশ্বত্রাস তালেবান নামক সন্ত্রাসী দলগড়ে তোলে। এই দলটির প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বার্ষিক আয় আছে যা চাঁদাবাজি, মানব পাচার, ড্রাগ ট্র্যাফিকিং ইত্যাদি থেকে আসে। নারী ধর্ষণ, নারীকে যৌন দাসীরূপে ব্যবহার, শিশু সৈন্য নিয়োগের মতো নিকৃষ্টতাই এই দলের ধর্ম। মোল্লা মুহাম্মাদ উমারের নেতৃত্বে এই দল গঠিত হয় এবং নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ১১ সেপ্টেম্বরের ৯/১১ হামলাটি তালেবানদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হলো এই তালেবান সন্ত্রাসবাদী দল।

আল শাবাব

সোমালিয়া ভিত্তিক পূর্ব আফ্রিকায় অবস্থিত এবং সন্ত্রাসীদল- ‘আল-কায়েদা’র অধিভূক্ত একটি দল ভয়ংকর বিশ্ব সন্তাসদল-আল শাবাব। ২০০৬ সালে এই গ্রুপটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সোমালিয়ায়  বিদেশী সামরিক বাহিনী বন্ধ করার উদ্দেশ্যে। ২০১৫ সালে একটি মারাত্মক আক্রমণ করে কেনিয়ায়। যার ফলে কেনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৮ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ফোর্বস ম্যাগাজিনের সুত্রে জানা যায়, সোমালিয়ার রাজধানী মৃগদিশুতে দুই তৃতীয়াংশ মৃত্যুর কারণ আল শাবাবের সন্ত্রাসী হামলা।

বোকো হারাম

নাইজেরিয়ার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বোকো হারাম। এটি ২00২ সালে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবির্ভূত হয়েছে। এরপর থেকে এটি ক্যামেরুন এবং নাইজারসহ অন্যান্য নিকটবর্তী দেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছে।  সন্ত্রাসবাদী ইসলামিক স্টেটের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী এই দল  বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ছিল। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের মধ্যে বোকো হারাম কমপক্ষে ৬৭৪২ জন বেসামরিক লোককে হত্যা করেছে বলে জানা যায়। ২০১১ সালের জুন মাসে,আবুজাতে জাতিসংঘ সদর দফতরের বোমাবর্ষণও এদের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছে এমন প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে এর সন্ত্রাসী কার্যক্রম হ্রাস পেয়েছে যার বড় কারণ হলো এই দলের বিভক্তি।

এছাড়াও অনেক অনেক বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদল ছড়িয়ে আছে সারাবিশ্বের আনাচে কানাচে। কখনো ধর্মীয় উগ্রবাদ, কখনো রাজনৈতিক মৌলবাদ এমনকি সাংস্কৃতিক সংকীর্ণতা থেকেও সৃষ্টি হয় এসব সন্ত্রাসবাদী দল। মানুষ হত্যা, জিম্মি, লুণ্ঠন ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে এরা এগিয়ে নেয় এদের চাওয়া! কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী দলই এসব নৃশংসতা করে পৃথিবীজুড়ে ঘৃণা ছাড়া কিছুই অর্জন করতে পারেনি।