ঢাকা, রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি কমাতে বিশ্বে সবচেয়ে কম সময় নিয়েছে বাংলাদেশ

জান্নাতুল ফেরসৌসী সনি
প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০১৯ সোমবার, ০১:০৩ পিএম
সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি কমাতে বিশ্বে সবচেয়ে কম সময় নিয়েছে বাংলাদেশ

গ্লোবাল টেরিরিজম ইনডেক্স ২০১৮ অনুযায়ী সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫ তম। ভারতের অবস্থান সপ্তম আর আমেরিকার অবস্থান ২০তম। অর্থাৎ শুরুর দিকে তো নয়ই এই পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ বিশ দেশের মধ্যেও নেই যেখানে একবছর আগেও ২১তম স্থানে ছিল। আর এই ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার। এই সরকারের নেতৃত্বে বেশ অনেকগুলো জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালিয়ে দেশের সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করেছে নিরাপত্তাবাহিনী।

২০১৬ সালে বাংলাদেশে ঘটে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। এ বছর ১লা জুলাইতে রাজধানী ঢাকার গুলশান এলাকায় হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলা করে একদল বন্দুকধারী সন্ত্রাসী। এ সময় বন্দুকধারীরা হত্যা করে বেকারির ভেতরে জিম্মি ২০জন বেসামরিক মানুষকে যার অধিকাংশই ছিল বিদেশী। পরে হামলাকারীদের কবল থেকে জিম্মিদেরকে উদ্ধারকার্যে নিহত হয় পুলিশ সদস্যসহ আরো প্রায় পাঁচজন। এই ঘটনার দায় স্বীকার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস বা ইসলামিক স্টেট।

এই ঘটনার পর সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আলোচিত হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন এবং পত্রপত্রিকায় নানান গবেষণার মাধ্যমে দেখানো হয় যে, বাংলাদেশে ধীরে ধীরে এসব জঙ্গি হামলা বাড়বে। তাছাড়া বিদেশী অনেক কোম্পানি সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি আছে বলে বাংলাদেশের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনে অনাগ্রহ প্রকাশ করছিল এসময়। তবে এসমস্তই ছিল বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাপ্রুসূত ধারণা।

বাংলাদেশের বাস্তব পরিবেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১৬সালের হলি আর্টিসান বেকারির হামলার পর সেরকম আর কোনো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেনি যা বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলার ইতিহাসে ব্যতিক্রম। কেননা  যেকোনো দেশেই একটি ভয়াবহ হামলার পরপরই ঘটে ছোটবড় আরো অনেক হামলা। তাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায় অনেক।

২০১৭ সালে পাকিস্তানে ১৩-১৬ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৬টি সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছিল। ১৩ফেব্রুয়ারি লাহোরে, ১৪ফেব্রুয়ারি কোয়েটায়, ১৫ফেব্রুয়ারি পেশোয়ার ও মহমান্দতে এবং ১৬ফেব্রুয়ারিতে আওয়ারান ও সেহওয়ানে।

২০১৯ সালের ২জানুয়ারি ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে বিমান বাহিনীর পাঠানকোট ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলা হয়, এতে নিহত হয় ৬জন। এ বছরের ১৪ফেব্রুয়ারিতেই কাস্মিরে সন্ত্রাসী হামলায় ৪২জন ভারতীয় পুলিশ নিহত হয়। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অরুনাচল প্রদেশে ২১ মে বিদ্রোহীরা হামলা চালায়। তাতে ১জুন আইনপ্রণেতাসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন।

সুতরাং প্রতিবেশি দুটি দেশেই সন্ত্রাসবাদের যে অবস্থা বাংলাদেশে আর তা নেই। হলি আর্টিসানের ঘটনার পরেই বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন সন্ত্রাস নির্মূলে। একের পর এক রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলাশহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা জোরদার করে সামরিক অভিযান চালানো হয় জঙ্গি আস্তানাগুলোতে। ঢাকার বছিলা- নাখালপাড়া- কল্যানপুর, নরসিংদী জেলার শেখেরচর, চট্টগ্রামের মিরসরাই, ঝিনাইদহ জেলার পোড়াহাটি গ্রাম প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গজিয়ে ওঠা জঙ্গি আস্তানা নির্মূল এবং সারাদেশের বাড়িওয়ালা সতর্কীকরণ, জনসচেতনতাসহ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে সরকার জঙ্গি হামলার ঝুঁকি কমিয়ে আনেন।

বাংলাদেশ তাঁর ইতিহাসে জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু এদেশ বর্তমান সরকারের সময়ে সন্ত্রাস নির্মূলে মনযোগী হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আর তাই বৈশ্বিক রিপোর্টগুলোতেও বাংলাদেশ সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি সূচকে নেমে এসেছে অনেক নীচে। কেবল সরকারই নয়, বাংলাদশের মানুষও সরকারকে সাহায্য করেছে সন্ত্রাসীঝুঁকি কমাতে। হলি আর্টিসান হামলার পর বাংলাদশি আক্রমণকারী জীবিত এবং মৃত কোনো জঙ্গির লাশ নিতেই তাদের বাবা-মা বা আত্মীয়স্বজন আগ্রহ প্রকাশ করেনি। এভাবেই গনতান্ত্রিক দেশ হিসেবে শেখ হাসিনা সরকার এবং জনগণের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি কমিয়েছেন এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।