ঢাকা, রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

ব্যবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান: মিথ্যাকে সত্য বানালো জাতিসংঘ?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০১৯ শনিবার, ০৪:২৬ পিএম
ব্যবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান: মিথ্যাকে সত্য বানালো জাতিসংঘ?

ব্যবিলন নগরীর প্রসঙ্গ উঠলেই চলে আসে ঝুলন্ত বাগানের কথা। কোনো কালে কেউ এই ঝুলন্ত বাগান না দেখলেও এর নাম শোনেনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। ঝুলন্ত বাগানের নগরী এই ব্যবিলনকেই বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। প্রাচীন নগরীটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দিতে ১৯৮৩ সাল থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল ইরাক। তিন দশকেরও বেশি সময় পরে তাদের সেই দাবি পূরণ করলো জাতিসংঘ। কিন্তু অনেকেই এই তালিকাভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। কারণ ঝুলন্ত উদ্যানের নামেই সবাই চেনে ব্যবিলনকে। কিন্তু আধুনিক গবেষকদের বেশিরভাগই দাবি করেন এই শূন্য উদ্যান বলতে কিছুই আসলে ছিল না। এটি শুধু মাত্র সাহিত্যিকদের সৃষ্টি। 

উদ্যান বা বাগানের কোনও অস্তিত্ব বর্তমানে নেই, এ কারণেই যে গবেষকরা একে আকাশ কুসুম কল্পনা বলছেন এমনটা নয়। এর পিছনে আরও কিছু কারণ আছে। বাগানটি সম্পর্কে প্রথম লেখেন ব্যাবলনিয়ান পুরোহিত বেরোসাস খ্রি:পূর্ব ৪০০ সালের দিকে। মূলত তার লেখার উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে গ্রীক ইতিহাসবিদগণ এই বাগানের সম্পর্কে লেখেন যাদের কেউই আদৌ বাগানটি নিজ চোখে দেখেন নি।

যখন বাগানটি তৈরি করা হয় তখনকার কোনও লেখকের বর্ণনায় এই বাগানের কথা পাওয়া যায়নি। ব্যাপারটি বেশ রহস্যময়। এত বড় একটি সৃষ্টি সে সময়ের লেখক বা ইতিহাসবিদদের লেখায় ফুটে উঠল না কেন?

আবার ইদানীং কিছু গবেষক ও ইতিহাসবিদ মনে করেন ব্যাবিলনের ঝুলন্ত বাগান আসলে ব্যাবিলনে ছিল না। এটি ছিল ইরাকেরই প্রাচীন সাম্রাজ্য এসিরিয়ার নগর নিনেবেহ-তে। এবং নির্মাণ করেছিলেন এসিরিয়ার রাজা সিনেক্রেব টাইগ্রিস নদীর তীরে খ্রি:পূ: ৬৮১ সালের দিকে। তবে এই দাবীর স্বপক্ষে শক্ত প্রমাণ তোলা যায় না গ্রীক ইতিহাসবিদদের জন্য।

এতসব বিতর্কের পর ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান সম্পর্কে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাওয়া যায় জার্মান প্রত্নতাত্ত্বিক রবার্ট কোল্ডওয়ের কাছ থেকে। তাঁর উদ্যোগেই ১৮৯৯ সালে ব্যাবিলন শহরে খনন কাজ শুরু হয়। তাঁর খনন কাজের হাত ধরেই উঠে আসে রাজা নেবুচাঁদনেজার প্রাসাদ, দুর্গ, টাওয়ার অব ব্যাবিলন এবং নগর রক্ষাকারী দেওয়াল। শেষদিকে তিনি ১৪টি রুমবিশিষ্ট একটি স্থান খুঁজে পান যার ছাদ ছিল পাথরের তৈরি। ব্যাবিলনের প্রাচীন ইতিহাস অনুযায়ী উত্তর দিকের দুর্গ এবং ঝুলন্ত বাগান ছাড়া আর কোথাও ছাদ তৈরিতে পাথর ব্যবহারের কথা উল্লেখ ছিল না। এবং ঐ দুর্গ তিনি আগেই খুঁজে পাওয়ায় এই স্থানটিই ঝুলন্ত বাগান ছিল তা দাবী করেন তিনি। এমনকি তিনি চেইন পাম্প ব্যবহার করা হত এমন একটি কক্ষও খুঁজে পান। যা বাগানটির অস্তিত্বের স্বপক্ষে জোরালো প্রমাণ দেয়।

তবে আধুনিক গবেষকদের মতে কোল্ডম্যান এর এই দাবী ভুল। কারণ যে অংশটি তিনি ঝুলন্ত বাগান বলে চালিয়ে দিয়েছেন তা নদী থেকে অনেক দূর যা ইতিহাসবিদদের বাগানের অবস্থান সম্পর্কে বর্ণনা এবং পানি সরবরাহের সমস্যা উভয় দিক থেকেই বেশ অসুবিধাজনক। তাছাড়া আধুনিক অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে এই অংশটি কোনও উদ্যান হিসাবে নয় বরং প্রাসশনিক কাজকর্ম এবং স্টোররুম হিসাবে ব্যবহৃত হত। তবে বাগানটির গঠন ও অবস্থানগত দিক নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও প্রাচীন ইরাকে একটি আধুনিক ছাদবাগান ছিল একথা কোনো গবেষকই অস্বীকার করেননি।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি