ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

ভাগে কোরবানি এখনো হয়?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০১৯ রবিবার, ০৫:০৪ পিএম
ভাগে কোরবানি এখনো হয়?

রহিম সাহেবরা বাড়ির ৫ ভাই মিলে কোরবানি দেন, জামাল সাহেবরা প্রতিবেশি ৭জনকে নিয়ে ভাগে কোরবানি দেন,  সেই যে একসঙ্গে ভাগে কোরবানি দেওয়া, এখন কি আর আছে? বলা যায়, অনেকটাই নেই হয়ে যাচ্ছে এমন সংস্কৃতি। এমন ভাগে কোরবানি দেওয়াও আমাদের সম্প্রীতির নিদর্শন ছিল। আমরা যে ক্রমে আলাদা হয়ে যাচ্ছি। তার কিছুটা এমন চিত্রেও বোঝা যায়। তবে অনেকে মনে করেন, এখন মানুষের সামর্থ্য বেড়েছে। সাধ্যমতো একাই কোন পশু কোরবানি দেওয়ার চেষ্টা করে। শহুরে পরিবেশে সেটা বরাবরই ছিল, এখন তুলনামূলক বেড়েছে। ঢাকার অন্তত ১০০ বাসায় জরিপ চালিয়ে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার পাওয়া গেছে যারা ভাগে কোরবানি দেবেন। ঢাকার অভিজাত এলাকা বাদ দিলেও এখন ভাগে কোরবানি দেওয়ার সংস্কৃতি উঠে যাচ্ছে এই সমাজ থেকে। একসঙ্গে সবাই মিলে পশুর হাটে গিয়ে গরু কেনা এখন খুব একটা দেখা যায় না। অনেকের গরু বা তার চেয়ে দামি কোন পশু কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে অল্প খরচে খাসি কোরবানি দেয়।

ইসলাম মতে যার যাকাত দেয়ার সামর্থ্য আছে তাঁর ওপর ঈদুল আযহা উপলক্ষে পশু কোরবানি করার নির্দেশ রয়েছে। ঈদুল আযহার দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী দুইদিন পশু কোরবানির জন্য নির্ধারিত। বাংলাদেশের মুসলমানরা সাধারণত গরু বা খাসী কোরবানি দিয়ে থাকেন। ৩, ৫ বা ৭ ব্যক্তি একটি গরু কোরবানিতে শরীক হতে পারেন।

যদি একটি গরুতে সাত জনের কম ৫/৬ জন শরিক হয় এবং কারো অংশ সাতভাগের কম না হয়; (যেমন, ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনলে কারো অংশে যেন দশ হাজার টাকা কম না হয়) তবে সবার কোরবানি জায়েজ হবে। আর যদি আট জন অংশীদার হয়, কবে কারো কোরবানি বৈধ হবে না।

যদি গরু কেনার আগে সাতজন অংশীদার হয়ে সবাই মিলে কেনে, তবে তা উত্তম, আর যদি কেউ একা একটি গরু কোরবানির জন্য কেনে এবং মনে মনে ইচ্ছা রাখে যে, পরে আরো লোক শরিক করে তাদের সঙ্গে মিলে কোরবানি করবে, তবে সেটাও জায়েজ আছে। কিন্তু যদি গরু কেনার সময় অন্যকে অংশীদার করার ইচ্ছা না থাকে, বরং একাই কোরবানির নিয়ত করে থাকে, কিন্তু পরে অন্যকে অংশীদার করতে চায়, এমতাবস্থায় যদি ওই ক্রেতা লোকটি গরিব হয় এবং তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব না থাকে, তবে সে তার কেনা পশুতে এখন অন্য কাউকে অংশীদার করতে পারবে না, বরং একা একাই গরুটি কোরবানি করতে হবে (যার ওপর কোরবানি ওয়াজিবই হয়নি তার জন্য প্রযোজ্য)। আর যদি ওই ক্রেতা সম্পদশালী হয় এবং তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তবে ইচ্ছা করলে পরে অন্য অংশীদার নিতে পারবে।

বাংলা ইনসাইডার