ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

সুকুমার রায়ের প্রয়াণদিবস আজ  

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০১ এএম
সুকুমার রায়ের প্রয়াণদিবস আজ  

রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা, হাসির কথা শুনলে বলে, হাসব না-না, না-না- এই ছড়া শুনলে এখনো যেন হেসে গড়িয়ে পড়তে ইচ্ছে করে। সেই সঙ্গে মনে ভাসে এমন অসংখ্য মজা আর হাস্যরসের রূপকার কবি সুকুমার রায়ের কথা। বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় লেখক, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার হিসেবে যার নাম প্রথমে মনে পড়ে তিনি ছিলেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর পুত্র সুকুমার রায়।

বিদ্যে বোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে,

মাঝিরে কন, বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে?

চাঁদটা কেন বাড়ে কমে? জোয়ার কেন আসে?

বৃদ্ধ মাঝি অবাক হয়ে ফ্যালফ্যালিয়ে হাসে-

ষোলো আনাই মিছে কবিতার লাইনগুলোর উদাহরণ আমরা জীবনভরই ধারণ করে আছি।

সুকুমার রায়ের জন্ম ১৮৮৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর, কলকাতার এক ব্রাহ্ম পরিবারে। ছড়াকার সুকুমার এর বাবা শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী এবং মা বিধুমুখী দেবী।

কবি সুকুমার রায় এর পারিবারিক পরিবেশ সাহিত্যানুরাগী ছিল। পিতা উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন শিশুতোষ গল্প ও জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, চিত্রশিল্পী, সুরকার ও শৌখিন জ্যোতির্বিদ। উপেন্দ্রকিশোরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যিনি তাকে সরাসরি প্রভাবিত করেছিলেন।

কলকাতার সিটি স্কুল থেকে এন্ট্রাস পাশ করেন সুকুমার রায়। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯০৬ সালে রসায়ন ও পদার্থবিদ্যায় বিএসসি করার পর সুকুমার মুদ্রণবিদ্যায় উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিলেতে যান। এরপর তিনি মুদ্রণবিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করে ১৯১৩ সালে কলকাতা ফিরে আসেন।

সুকুমার যুক্তরাজ্যে থাকাকালীন উপেন্দ্রকিশোর একটি ছাপাখানা এবং ছোটদের মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রকাশনা শুরু করেন। শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় বিলেত থেকে ফেরার কিছুদিনের মধ্যে উপেন্দ্রকিশোরের মৃত্যু হলে তিনি পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় ছাপাখানা ও সন্দেশ পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।

সুকুমার রায় ১৯১৪ সালে সূপ্রভা রায়কে বিয়ে করেন। তার একমাত্র পুত্র সত্যজিৎ রায়। তিনি খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার। কবি সুকুমার রায়ের ক্ষণস্থায়ী জীবনে তার প্রতিভার শ্রেষ্ঠ বিকাশ লক্ষ্য করা যায়। তার প্রথম ও একমাত্র ছড়ার বই আবোল তাবোল শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, বরং বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনে নিজস্ব জায়গার দাবিদার। সুকুমার রায়ের গল্প, কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ আজও বাংলা সাহিত্যে মাইলফলক হয়ে আছে। সুকুমার রায় ননসেন্স ক্লাব ও মন্ডা ক্লাব নামে দুটি ক্লাব খুলেছিলেন। মন্ডা ক্লাবের সদস্যরা সাপ্তাহিক সমাবেশে জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ পর্যন্ত সব বিষয়েই আলোচনা করতেন।

সুকুমার রায় মজার ছড়ার আকারে এই সাপ্তাহিক সভার কয়েকটি আমন্ত্রণপত্র করেছিলেন। সেগুলোর বিষয়বস্তু ছিল মুখ্যত উপস্থিতির অনুরোধ এবং বিশেষ সভার ঘোষনা ইত্যাদি। কবি সুকুমার রায় প্রচ্ছদশিল্পী রূপেও সুনাম অর্জন করেছিলেন।

তার প্রযুক্তিবিদ্যার পরিচয় পাওয়া যায় নতুন পদ্ধতিতে হাফটোন ব্লক তৈরি আর যুক্তরাজ্যের কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত তার প্রযুক্তি বিষয়ক রচনাগুলো থেকে। সুকুমার রায়ের বিভিন্ন সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে কবিতা, গল্প, ছড়া আজও আমাদের আলোড়িত করে। সেই তালিকায় তার উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির মধ্যে কবিতার বই আবোল তাবোল (১৯২৩), গল্প হ য ব র ল (১৯২৪), গল্প সংকলন পাগলা দাশু (১৯৪০) এবং নাটক চলচ্চিত্তচঞ্চরী ইত্যাদি। এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে খাই খাই (১৯৫০), অবাক জলপান, লক্ষণের শক্তিশেল, হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী, ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক, বহুরূপী (১৯৪৪) ইত্যাদি।

তিনি একজন সুগায়ক ও সুঅভিনেতা গিসেবেও খ্যাত ছিলেন। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১০ সেপ্টেম্বর কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র সাঁইত্রিশ বছর বয়সে শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় মৃত্যুবরণ করেন। সুকুমার রায় নিজে, তাঁর পিতা এবং পুত্র তিনপ্রজন্মই বাংলা সাহিত্যের অমর ব্যক্তিত্ব। আজ এই মহান মনীষীর ৯৬ তম প্রয়াণ দিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ