ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দেশে দেশে হ্যালোউইন

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১১:০৩ এএম
দেশে দেশে হ্যালোউইন

ভুত বা আত্মাদের স্মরণ নিয়ে সবচেয়ে বড় আয়োজন মানেই হ্যালোউইন। এর ইতিহাস বহুদিনের হলেও এখনো এর রেশ একেবারেই কমেনি। তবে হ্যালউইন উৎসবের চেয়ে এখন অনেক বেশি ব্যবসায়িক কিংবা বাণিজ্যিক। বড়দিনের পর সবচেয়ে বেশি আয় হয় এই উৎসব থেকে। একে ঘিরে ইউরোপ-আমেরিকায় প্রতিবছর শত শত বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয়। দেশে দেশে কীভাবে হ্যালোউইন উদযাপিত হয়, তা নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা-

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিনীদের মধ্যে হ্যালোউইন উৎসব অনেকটা জাতীয় উৎসবের রূপ নিয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে চলা হ্যালোইন উৎসবের রীতি এখন প্রায় বিভিন্ন দেশ থেকে সেখানে অভিবাসী হওয়াদের মধ্যেও প্রচলিত। হ্যালোউইন উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন দেখা যায়। তবে কুমড়ো সাজ, ভূতুড়ে সাজসজ্জা সবক্ষেত্রেই দেখা যায়। কস্টিউম পার্টি হয় প্রায় সবখানেই। আর এদিন উপলক্ষে ভূতুড়ে কোনো স্থানেও তরুণদের বেশ ঝুঁকি নিয়েও ঘুরতে দেখা যায় দলধরে।

লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে হ্যালোউইন

লাতিন আমেরিকায় হ্যালোউইন পরিচিত ‘ডে অফ দ্য ডেড নামে’। মেক্সিকো ও স্পেনে নভেম্বর মাসের প্রথম দু’দিন পালিত হয় মৃতদের দিন। তবে মৃতদের সমাধিক্ষেত্রে শ্রদ্ধা জানানোর পরই উৎসবে মেতে ওঠে লাতিনরা। অনুষ্ঠিত হয় ভূতুড়ে সাজসজ্জার প্যারেড যা, প্রায় হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য।

অস্ট্রিয়া

৩০ অক্টোবর থেকে ৮ নভেম্বর টানা একসপ্তাহ ‘অল সোলস উইক’ পালন করা হয়, যা ‘সেলিনোচ’ নামে পরিচিত। এই সময়টা পূর্বপুরুষদের মৃত আত্মার উদ্দেশ্যে টেবিলের খাবার, পানি ও আলো জ্বেলে রেখে ঘুমাতে যান অস্ট্রিয়ানরা।

জার্মানি

জার্মানিতে হ্যালোউইনে ছুরি, কাঁচিসহ ধারালো জিনিসপত্র সব লুকিয়ে ফেলেন সে দেশের জনগণেরা। আর বার্লিনের হ্যালোউইন কস্টিউম পার্টি পৃথিবী বিখ্যাত।

চেক রিপাবলিক

বাড়ির ফায়ারপ্লেসের পাশে পরিবারের প্রত্যেক মৃত সদস্যের জন্য চেয়ার সাজিয়ে রেখে ঘুমোতে যান চেকরা। আত্মারা নেমে এসে পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে যান বলেই বিশ্বাস তাদের।

জাপান

হ্যালোউইন জাপানে ‘ফেস্টিভ্যাল অফ হাঙ্গরি গোস্টস’ নামে পরিচিত। আর হ্যালোউইন অক্টোবর বা নভেম্বর মাসেই নয়, পুরো গ্রীষ্মকালজুড়েই পালিত হয়। আত্মাদের ভয়ে সারারাত ধরে আগুন জ্বলে।

চীন

চীনে নিজস্ব ক্যালেন্ডারের শেষে পালিত হয় ভূতুড়ে দিন। জাপানিদের সঙ্গে মিল রেখে আগুন জ্বালিয়ে আত্মা দূর করে চীনারা।

বাংলাদেশ

হ্যালউইন উৎসব এখন শুধু ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। এখন এই উৎসব পালন করা হয় বাংলাদেশেও। থার্টি ফার্স্ট নাইট, ভ্যালেন্টাইনস ডে, ফাদার্স ডে কিংবা মাদার্স ডে-এর মতো হ্যালোইন উৎসবও হালের নতুন উৎসবে পরিণত হয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি পাঁচতারকা হোটেলে হ্যালোউইন পার্টি আয়োজন করা হয়। এছাড়া ব্যক্তিগত আয়োজনেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কস্টিউম পার্টি অনুষ্ঠিত হয়। গুলশান ও ধানমন্ডির অভিজাত এলাকাগুলোতে এই উৎসব কেন্দ্র করে বেশ জমজমাট আয়োজন হয়ে থাকে।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ