ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জাতীয় চার নেতাকে হত্যার নেপথ্যে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার, ০৮:০০ এএম
জাতীয় চার নেতাকে হত্যার নেপথ্যে

পচাঁত্তরের পনেরই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলংকজনক অধ্যায় হলো ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস। জাতির পিতাকে হত্যার পর মাত্র ৮২ দিন ক্ষমতায় ছিল বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক আহমেদ। এরই মধ্যে দেশকে পাকিস্তানীকরণের দিকে এগিয়ে নিতে বড় দুটি কুকীর্তি ঘটায় সে। এরমধ্যে একটি হলো জেলে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা। অন্যটি ১৫ আগস্টের খুনীদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারি করা। পচাঁত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর মোশতাক এই অধ্যাদেশ জারি করে। আর জেলে নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটায় ৩ নভেম্বর ভোর রাতে। দেশের চার শ্রেষ্ঠ সন্তান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে সেদিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রথমে গুলি এবং পরে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু কেন এই হত্যাকাণ্ড? কেন এই নৃশংসতা?

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব তখন অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়ে। চারজন সিনিয়র নেতাসহ অনেকেই কারাগারে এবং অনেকে আত্ন গোপনে ছিলেন। বাকি নেতারা প্রকাশ্য কিংবা অপ্রকাশ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সাথে সমঝোতা করেন। অনেকে আবার রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। সেই অবস্থাতেই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। কারণ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা ভেবেছিল খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে যে অভ্যুত্থান সেটা আওয়ামী লীগ বা বাকশালের পক্ষে হচ্ছে। ক্ষমতাসীন মোশতাক বা তার সমর্থকরা চায়নি যে তাদের বিরোধী আরেকটি শক্তি শাসন ক্ষমতায় পুনর্বহাল হোক। ওই ধরনের একটা সরকার যদি হতো তাহলে জেলে থাকা চার নেতা ছিলেন সম্ভাব্য নেতা। এই সম্ভাবনা যেন বাস্তবায়িত না হয় মূলত সেজন্যেই জেল হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকেই হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা পাল্টা আরেকটি অভ্যুত্থানের আশংকায় ছিল। সেনাবাহিনীর মধ্যে ছিল এক ধরনের বিশৃঙ্খলা। সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। একদিকে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং অন্যদিকে মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ। জিয়াই মূলত তখন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহেমদকে পরিচালনা করছিল। খন্দকার মোশতাক যে বেশিদিন টিকবে না, এটা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে সিনিয়র অফিসাররা বুঝতে পারছিল।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা ধারনা করেছিল যে কোন পাল্টা অভ্যুত্থান হলে সেটি আওয়ামী লীগের সমর্থন পাবে। সে ধরনের পরিস্থিতি হলে তখনকার আওয়ামী লীগে যাতে কোন ধরনের নেতৃত্ব না থাকে সেটাই তারা নিশ্চিত করতে চাইছিল। হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা ভেবেছিল যদি জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয় তাহলে পাল্টা অভ্যুত্থান হলেও সেটি রাজনৈতিক সমর্থন পাবে না। মূলত এই ধারণার ভিত্তিতেই তৎকালীন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি