ঢাকা, রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শুভ জন্মদিন যুবলীগ!

রেজা সেলিম
প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার, ০৮:০১ এএম
শুভ জন্মদিন যুবলীগ!

২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলবার যে স্বপ্ন নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হয় তাতে আমাদের কিছুটা স্বপ্নচ্ছেদ ঘটে মাত্র দু’মাসের মাথায় যখন দেখা গেল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বলতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা বুঝেন ও আমাদের বুঝিয়েছেন তার ধারে কাছেও সে কাজে সরকারের সদ্য নিয়োজিত কন্সাল্ট্যান্টরা নেই (দু-একজন ব্যাতিক্রম বাদে)। কিন্তু নেতৃত্ব নিয়ে নিচ্ছে তারাই, একটা প্রকল্প দাঁড় করানো হল ওদিকে আসল কাজের কোন খবর নেই! আসল কাজ কী সেটাই তখন তাদের অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়, কিন্তু আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে তার সবিস্তৃত বিবরণ ও রূপকল্প দেয়া থাকলেও কেউ তার কাছে যেতে নারাজ, তারা যা ভালো বুঝেন তাই-ই হবে। তখনকার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক মিখাইল শিপার আমাদের সাথে সম্পূর্ণ একমত হলেন ও সবাই মিলে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আমাদের খুব কাছের ও শ্রদ্ধার মানুষ নজরুল ইসলাম খান (যিনি এন আই খান নামে সবিশেষ পরিচিত) তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব, আমরা কতিপয় যখন তাঁকে বুঝালাম তিনি রাজী হলেন এই আন্দোলনের নেতৃত্ব নিতে। কিন্তু সেইসব কন্সাল্ট্যান্টদের জ্বালায় আমরা আর স্বস্তি পেলাম না। খান ভাইকে বললাম যখনই ডাকবেন পাবেন। আমি ও মুনীর হাসান স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলাম। ভাবলাম, আমরা মাঠে ঘাটের মানুষ সেখানে থাকাই ভালো। 

আমাদের জোর প্রচেষ্টা ছিল যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকে। এই নিয়ে অনেক আগে থেকেই ড হাসান মাহমুদের সাথে আমার আলোচনা ও কাজ ছিল। কিন্তু তিনি তখন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্বাভাবিকভাবেই নতুন সরকারের পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নে খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তখনকার প্রচার সম্পাদক ও রূপকল্প খসড়া তৈরির অন্যতম কারিগর নূহ-উল আলম লেনিনের সাথেও আমাদের আলোচনা ছিল। লেনিন ভাই বললেন নমুনা করে দেখানো যায় কিনা। সেইমতে, তাঁর গ্রাম বিক্রমপুরের কনকসার ও হাসান মাহমুদের গ্রাম রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালীতে আমরা কাজ শুরু করলাম। একই চিন্তা নিয়ে বাগেরহাটের রামপালে আমাদের কাজ আগে থেকেই ছিল। এইসব সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়ে অক্টোবর মাসের ২-৩ তারিখ ‘বাগেরহাট হবে ডিজিটাল’ নামে ‘জ্ঞান মেলা’ আয়োজন করা হলো। বাংলাদেশের প্রথিতযশা প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষক, রাজনীতিক, মন্ত্রী ও সাংবাদিকদের অনেকেই এতে অংশ নিয়েছিলেন। সেইখানে আমরা সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের জন্যে রূপকল্পের আলোকে ডিজিটাল বাংলাদেশ কেমন হ’তে পারে সেসবের নানারকম নমুনা উপস্থাপন করলাম। 

অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীরের মাধ্যমে খবর দিয়ে আমাদের সাথে কথা বলতে চাইলেন যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানক, তখনকার সংসদের হুইপ ও যুবলীগের সম্পাদক মীর্জা আজম ও ওমর ফারুক চৌধুরী (তখন যুবলীগের সহ-সভাপতি) সবাই মিলে আমাদের কাজের সাথে কেমন করে যুবলীগের সম্পর্ক তৈরি করা যায় ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে যুবলীগ কাজ করতে পারে তার জন্যে সহযোগিতা চান। কয়েকদফা আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত হয় এমন কিছু কাজের উদাহরণ নিয়ে যুবলীগের আসন্ন প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা যেতে পারে যাতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা যুবলীগ কর্মীরা সচক্ষে দেখে ও বুঝে এরকম কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারে। ১১ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। আমার পরিচালিত ‘আমাদের গ্রাম প্রকল্পের’ প্রদর্শনী কেন্দ্রে তিনি রামপালের নানা উদ্যোগ দেখে উচ্ছ্বসিত হন। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় তথ্য-প্রযুক্তি তথা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূর নিরীক্ষণ পদ্ধতি দেখে তিনি আমাকে পরামর্শ দেন এই প্রকল্প যেন একটি স্থায়ী রূপ পায় সেভাবে কাজ এগিয়ে নিতে যেখানে সব সহযোগিতা তিনি করবেন ও সারা দেশে যেন একদিন এই কাজ ছড়িয়ে দেয়া যায় তা ভাবতে। আমি তাঁকে বলেছিলাম যুবলীগ চাইলে দেশের যুব সমাজকে নিয়ে এটা অবশ্যই সম্ভব হবে। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই অনুপ্রেরণা দেয়া কথাগুলো আজ দশ বছর পরে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনে আমার অবিকল মনে পড়ছে। আমি তাঁর কথা রেখেছি, আমাদের সেই কাজ এই দশ বছরে স্থায়ী রূপ নিয়েছে, রামপালে তাঁর সদয় সহযোগিতায় একটি বিশ্বমানের ক্যান্সার নিরীক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে। শুধু যুবলীগের কাজটুকু বাকি। 

ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্পের অন্যতম চেতনা হলো দেশের সব মানুষের জন্যে তথ্য প্রযুক্তির সেবা সুবিধা নিশ্চিত করা। যুবলীগের শত সহস্র কর্মী চাইলে এই কাজ দেশব্যাপী এগিয়ে নেয়া মোটেই কঠিন নয়। আমি একবার প্রস্তাব করেছিলাম সারা দেশে যুবলীগ তার কর্মীদের জন্যে একটি ডেটাবেজ করুক, প্রত্যেকের ব্লাড গ্রুপ জানা থাকুক, দেশে প্রায় ২৫ লক্ষ যুবকের ব্লাড ডোনারের একটি তালিকা ইন্টারনেটে পাওয়া গেলে মানুষের কী উপকার হতে পারে আমরা হয়তো তা চিন্তাও করতে পারিনা। যদি এমন হয় এই ২৫ লক্ষ কর্মীর ৫ ভাগের এক ভাগ মিলে নিজেদের গ্রামের সব তথ্য জোগাড় করে ফেলবে তাহলে ৫ লক্ষ ‘তথ্য কর্মী’ নিজের গ্রামের সব তথ্য ইন্টারনেটে পাঠিয়ে বিশাল এক ‘জ্ঞান ভান্ডার’ তৈরি করতে পারে যা কার্যত দেশের সব মানুষের ও সরকারের জন্যেই উপকার হবে। 

এমন হাজারো ধারণা নিয়ে সামনের দিনে আওয়ামী যুবলীগ কাজ করুক আজ তার শুভ জন্মদিনে এই কামনা।  

লেখকঃ উন্নয়নকর্মী