ঢাকা, রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যেভাবে পতন হয় এরশাদের

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার, ০৯:১৮ এএম
যেভাবে পতন হয় এরশাদের

৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০। গণতন্ত্রকামী জনতার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। দিনটিকে আওয়ামী লীগ `গণতন্ত্র মুক্তি দিবস`, বিএনপি `গণতন্ত্র দিবস` এবং এরশাদের জাতীয় পার্টি `সংবিধান সংরক্ষণ দিবস` হিসেবে পালন করে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন। এরপর থেকে এরশাদ দেশের রাজনীতিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে গণবিরোধী ধারার কার্যক্রম চালাতে থাকেন। কিন্তু তার এসব কাজ মেনে নেয়নি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ। ক্রমেই ফুঁসে উঠতে থাকে জনতা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু করে। ১৯৮৭ সালে একটি মিছিলে পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন নিহত হবার ঘটনা আন্দোলনে গতি এনেছিল। ৯০ এর ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় চিকিৎসক নেতা ডা. শামসুল আলম মিলনকে গুলি করে হত্যা করে এরশাদের বাহিনী। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তখন আরও উত্তাল হয়ে ওঠে।

৯০ এর ডিসেম্বর মাসের এক তারিখে ঢাকা সেনানিবাসে এক জরুরী বৈঠকে বসেন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা। সে বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদ যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, সে প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হওয়া উচিত সে বিষয়ে আলোচনা করা। সেনানিবাসের ভেতরে ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন যে দেশের চলমান সংকট একটি রাজনৈতিক বিষয় এবং এ সঙ্কট সমাধানের জন্য রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা আরো সিদ্ধান্ত নেন যে চলমান রাজনৈতিক সংকটে সেনাবাহিনীর করনীয় কিছু নেই। দেশজুড়ে আন্দোলন, সঙ্গে সেনাবাহিনীর এই সিদ্ধান্তই মূলত এরশাদের বিদায় নিশ্চত করে তুলেছিল। এমন বাস্তবতায় প্রেসিডেন্ট এরশাদ সেনা সদরকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে দেশে সামরিক আইন জারী করা হবে।

এরপর ডিসেম্বরের তিন তারিখে তখনকার সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নূর উদ্দিন প্রেসিডেন্ট এরশাদের সাথে দেখা করতে যান। সেনা কর্মকর্তারা চেয়েছিলেন যে সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নূর উদ্দিন যেন প্রেসিডেন্ট এরশাদকে পদত্যাগের জন্য সরাসরি বলেন। কিন্তু সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্ট এরশাদকে সরাসরি পদত্যাগের কথা না বললেও তিনি জানিয়ে দেন যে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর অফিসাররা কোন দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছে না।

এরশাদের সাথে সেনাপ্রধানের এই বৈঠক নিয়ে তখন দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল নানা গুঞ্জন। সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। কিন্তু কোনোটাই কাজে আসে নি। শোনা যায়, ডিসেম্বরের ৪ তারিখ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম প্রেসিডেন্ট এরশাদকে সরাসরি বলেন যে তার পদত্যাগ করা উচিত। এমন অবস্থায় ডিসেম্বরের ৪ তারিখ রাতেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন জেনারেল এরশাদ। আর ৬ ডিসেম্বর অর্থাৎ আজকের দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা ছাড়েন এরশাদ। এই দিনটি শুধুমাত্র স্বৈরাচারের পতন দিবস নয়, দিনটিকে গণতন্ত্রেরও বিজয় দিবস হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি