ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বেগম রোকেয়া: নারীমুক্তির বার্তাবাহক

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার, ০৮:০৩ এএম
বেগম রোকেয়া: নারীমুক্তির বার্তাবাহক

একটা সময় ছিল যখন বাংলার নারীদের জীবনে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে থাকতো একটিই শব্দ- "না"। বিশেষ করে মুসলিম নারীরা থাকতো এক কঠিন অনুশাসনের ভেতর। কেবল যে তারা বাইরে চলাফেরা করতে পারতো না তা নয়, তাদের অধিকার ছিলো না শিক্ষায়, জ্ঞানচর্চায় বা মতামত প্রদানে। কেবল পরপুরুষদের সামনে তাদের আসতে মানা ছিলো তা না, তারা নিজেদের আড়াল করতো অপরিচিত মহিলাদের সামনেও। কোনো বাইরের লোক যেন তাদের কণ্ঠস্বর না শোনে তাই তাদের রাখা হতো অন্দরমহলে। শুধু বাংলার না, সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশেই মেয়েদের অবস্থা ছিলো অত্যন্ত করুণ। তারপর সমাজে আস্তে আস্তে মেয়েরা এগিয়ে আসলো শিক্ষায়, সংস্কৃতিতে। সেই বন্দিদশা পার করে আজকে বাংলার নারীরা হয়েছে স্বাধীন, হয়েছে স্বকীয় সত্ত্বার অধিকারিণী। এই পরিবর্তনটা যাদের হাত ধরে এসেছে তাদের মধ্যে প্রথমেই যার নাম এসে যায় তিনি বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। আজ ৯ ডিসেম্বর একইসাথে তার জন্ম ও মৃত্যুদিবস। তাকে ‘বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত’ বলা হয়।

বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জহির উদ্দিন সাবের চৌধুরী ও রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। পরে সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘সুলতানার স্বপ্ন’, ‘মতিচূর’, ‘অবরোধ বাসিনী’, ‘পদ্মরাগ’ ইত্যাদি।

মহিয়সী এই নারির জন্ম ও মৃত্যু দিনটি রোকেয়া দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের শৃঙ্খল থেকে নারীকে মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাওয়া এ মহীয়সী নারীকে আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে জাতি। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বেগম রোকেয়া পদক ২০১৯ প্রদানের জন্য পাঁচজন বিশিষ্ট নারী ব্যক্তিত্বকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে গতকাল রবিবার বলা হয়েছে। আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদকপ্রাপ্ত নারী বা তাঁদের পরিবারের হাতে পদক তুলে দেবেন।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি