ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ফ্যাশন, এখনকার ফ্যাশন  

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ রবিবার, ০৮:০০ এএম
মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ফ্যাশন, এখনকার ফ্যাশন   

সত্তরের দশকের একটা মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র দেখতে গিয়ে চরিত্রগুলোকে খুব মন দিয়ে দেখার সুবাদে হুট করে তাদের ফ্যাশন, পোশাক, চলাফেরার দিকে চোখ গেলো। মনে হলো, পুরনো আমলেও যে তারা ফ্যাশনেবল ছিল না তা তো নয়। সেই সময়েও স্বতন্ত্র ফ্যাশন ছিল, আধুনিকতারও কোনো কমতি ছিল না।

ফ্যাশনের ধারা বদলায় এটা সত্যি। বছর থেকে বছরে, যুগ থেকে যুগে সেগুলো ভিন্ন মাত্রা পায়। কিছু যোগ হয়, কিছু বাদ পড়ে। আবার কিছু হারিয়ে যায় একেবারে। কিছু ক্ষেত্রে পুরনো ফ্যাশন বা ধারা আবার ফিরেও আসে।

স্বাধীনতাকালীন সময়ে বা তার আগে পরেও যে ফ্যাশনের কোনো চল ছিল না, তা কিন্তু নয়। সেসময় ফ্যাশন ছিল একেবারে সর্বজনীন এবং সাদামাটা। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময়েও।

নারীদের মাঝে শাড়িই ছিল পরনের প্রধান অনুসঙ্গ। অতি সুন্দর সাধারণ শাড়ি, চিকণ কোনো পাড়, ছোট্ট কাজের একটা আঁচল। সুতি, সিল্ক, মসলিন শাড়ি।

সাজগোজে দারুণ শৌখিন ছিল তখনকার নারীরা। মুক্তিযুদ্ধকালীন বা তার আগেপরের চলচ্চিত্রগুলোর নারী চরিত্রগুলো দেখলেই তা বোঝা যায়। মাঝখানে বা একপাশে বড় সিঁথি করে লেপ্টে চুল আচড়ানো, পিছনে লম্বা বেণি বা বড় খোপা। আর ছোটবড় সব বয়সী নারীদেরই দেখা যেত লম্বা চুলে দুই বেণি করতে। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ সবের সঙ্গেই দুই বেণি চলতো। এখন চুল বাধার কিছু স্টাইল দেখলে রীতিমত ভিরমি খেতে হয়। কখনো এলোমেলো করে একেবারে উপরে উঠিয়ে চুল বাধা হচ্ছে, বিভিন্ন উদ্ভট হেয়ার কাট এবং হেয়ার কালারই এখন ফ্যাশন। এটাই চলছে এখন।

চোখে কাজল সেসময়েও বেশ জনপ্রিয় ছিল। চোখে টানা টানা করে কাজল দেওয়া আমরা তখনকার নারীদের মধ্যে বেশি দেখতাম। আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিকও ছিল। অথচ এখনকার দিনে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রঙের বাহারও যেন বেড়ে গেছে অনেক। ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিক, চোখে বিভিন্ন ধরনের কাজল, ভারি মেকাপ এখন প্রতিদিনের নিয়মিত সাজ হয়ে গেছে।

কপালের টিপ সেসময় খুব জনপ্রিয় ছিল। নারীরা বেশিরভাগ একটু উচুতে কপালের মাঝ বরাবর টিপ পরতো। চোখে টানা কাজলের সঙ্গে সেই টিপ বেশ বানাতো। আর কাঁচের চুড়ি, বেল্টের বা চেনের ঘড়ি তখনও চলতো শাড়ি আর সালোয়ার কামিজের সঙ্গে।

হিজাব, ওড়না এখনকার দিনে খুব চলছে। সাজের বাহার যাই হোক না কেন বা পোশাক যাই হোক না কেন কিছু নারীর কাছে হিজাবটাই যেন এখন আলাদা ফ্যাশন। সেই হিজাবও পরা হচ্ছে কতভাবে। কখনো একপাশে, কখনো অনেকগুলো প্যাচ দিয়ে, আবার অনেক উপরে উঠিয়ে পরে হিজাবের ট্রেন্ড চলছে এখন। হিজাব প্রসঙ্গ আসার কারণ হলো, এটাকে পর্দা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পর্দার চল যে তখন ছিল না, এমনটা নয়। কিন্তু এভাবে উদ্ভট করে হিজাবের চল ছিল না। তাই অনেকেরই এখন প্রশ্ন যে, হিজাব কি শুধুই পর্দা নাকি ফ্যাশনও?

এবার আসি ছেলেদের প্রসঙ্গে। তাদের ফ্যাশনও বদলেছে দিন দিন। তখনকার দিনে পাঞ্জাবি পাজামার চল ভালো ছিল। যেকোনো ঘরানার মানুষ যেকোনো উপলক্ষ্যে পাঞ্জাবি এবং কোটি বেশি প্রাধান্য দিতো। অবশ্য এখনো পাঞ্জাবি পরে অনেকে, আগের তুলনায় কম।

প্যান্টের কথা বললে মাথায় আসে বেলবটম প্যান্টের কথা। এই প্যান্ট সেসময় খুব জনপ্রিয় ছিল। মজার ব্যাপার হলো সেই প্যান্টের সঙ্গে এখনকার নারীদের প্লাজোর কথা তুলনা করেন অনেকেই, যদিও সেটা মজার ছলে।

যাই হোক, সময় পেরিয়েছে অনেক। কোন ফ্যাশনটা সুন্দর, মার্জিত সেটা সময়ই বলে দেয়। সময়ের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গেই সব ধারা পাল্টে যায়। সেই ৪৯ বছর আগে যেই ফ্যাশনের ধারা ছিল, তা বদলাবেই। কোনটা সুশীল কোনটা মার্জিত নয়, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিছু ফ্যাশন বিলীন হয়ে গেছে, কিছু টিকে আছে আবার কিছু মিলেমিশে গেছে।