ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চোখে দেখা একাত্তর: আবদুল খালেকের স্মৃতিকথা

আবদুল খালেক
প্রকাশিত: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার, ১১:৫৬ এএম
চোখে দেখা একাত্তর: আবদুল খালেকের স্মৃতিকথা

দেশে-বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে। আজ সারদা পুলিশ একাডেমির তৎকালীন অধ্যক্ষ এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক ও স্বরাষ্ট্রসচিব আবদুল খালেক-এর সংক্ষেপিত স্মৃতিকথা

ঊনিশশত সত্তুরের মার্চ মাসে আমি সারদা পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল ছিলাম। অনেক আগে থেকেই দেশের রাজনৈতিক ঘটনা-প্রবাহের প্রতি আমার বিশেষ আকর্ষণ ছিল। সামাজিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক দিক থেকে পূর্ববঙ্গ/পূর্ব পাকিস্তানকে কোনঠাসা করে রাখার ঘটনাবলী আমার চেতনায় আঘাত দিয়েছিল। লিয়াকত আলী খান, সরদার আবদুর রব নিশতার প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করবেন তা আমি মেনে নিতে পারিনি। রাষ্ট্রভাষা সম্বন্ধে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও খাজা নাজিম উদ্দিন যে সকল কথা বলেছেন, তাতে উর্দুভাষার প্রতি আমার বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে পাকিস্তান পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেও আমার মনোভঙ্গির কোন পরিবর্ত ঘটাইনি, উর্দুভাষা শেখার চেষ্টা করিনি যদিও পুলিশ বিভাগের উর্দুভাষার প্রচলন উর্দুভাষা শেখার চেষ্টা করিনি যদিও পুলিশ বিভাগের উর্দুভাষার প্রচলন ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।

১৯৫৬ সালের সংবিধানের সংখ্যাসাম্য নীতি এবং ১৯৫৮ সালের সামরিকবাদকে আমি মোটেও সমর্থন করিনি। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা দখল করাকে আমি নিছক বর্বরতা বলে গণ্য করেছি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এবং ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে যারা অবদান রেখেছেন তাদেরকে আমি আজও শ্রদ্ধা করি, ২১শে ফেব্রুয়ারী-রক্তস্নাত পূর্ববঙ্গে যারা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন, তারা আমার পরম শ্রদ্ধাস্পদ।

১৯৬৯ সালের সামরিক কর্তাদের আদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে পুলিশি তল্রাশি চালানো হয়। উক্ত তল্লাশির বিরোধিতা করে কিছু কথা বলার জন্য সামরিক কর্তৃপক্ষ আমার উপর ক্ষেপে যায়। ঐ বছর ঢাকা বিভাগের ডিআইজি থাকাকালে প্রায় সময় সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার মতবিরোধ ঘটতো। প্রশাসনের সঙ্গে মতবিরোধ অনেক আগেও হয়েছিল। ১৯৫৪ ও ১৯৬৫ সালের নির্বাচনে আমি নিরপেক্ষ থেকে মহাবিপদের সম্মুখীন হয়েছিলাম। সে সময় আমার উপর কড়া নজর রাখা হতো। ১৯৬৯-এরশেষ ভাগে ঢাকার জনসাধারণ মওলানা মওদুদীকে পল্টন ময়দানে বক্তৃতা দিতে দেয়নি। গোলমালের দায়ে ঢাকার পুলিশ সুপার মামুন মাহমুদ (শহীদ) কে ময়মনসিংহে বদলি করা হয় এবং তার পদোন্নতি ছয় মাস পিছিয়ে দেয়া হয়। এই প্রসঙ্গে ঘোরতর আপত্তি জানালে মাস তিনেক পরে আমাকে ঢাকা থেকে সারদায় বদলি করা হয়। কিন্ত ঢাকার ঝামেলা থেকে সরে গিয়ে আমি খুব খুশী হই।

২৩শে মার্চ সারদা একাডেমীতে পাকিস্তানের পতাকা ওঠানো হয় নি। এ খবর পেয়ে রাজশাহী গ্যারিসনের লোকজন এমনকি জেলা প্রশাসনের কেউ কেউ সারদা এসেছিলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে সারদায় কালো পতাকা ওঠানো হয় এবং পাকিস্তানি পতাকা নিশ্চিহ্ন করা হয়। গ্যারিসনের ধারেকাছেই আমরা এতোকিছু করে যাচ্ছি অথচ তখন আমাদের কোনো ভয়ভীতি ছিল না।

২৬শে মার্চের সকালে খবর পেলাম যে ইয়াহিয়া খানের সামরিক অভিযানে রাজারবাগ পুলিশলাইন, পিলখানা ইপিআর হেড কোয়ার্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা শহরের অনেক অংশ বিধ্বস্ত হয়েছে। হাজার হাজার পুলিশ ও ইপিআর লড়াই করে প্রাণ দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে। এসব খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অস্ত্রাগারের তালা খুলে দেওয়া হয়। সারদা একাডেমীর পুলিশ পরিবারগুলো কোনো দিকে সরে যেতে পারে নি। কেননা স্থানীয় লোকজন কাউকে সেই অঞ্চল ছেড়ে যেতে দিচ্ছিলো না। সামরিক যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা আগে থেকে তৈরি করা হয়েছিলো। সরকারি আদেশে পদ্মায় নৌকা চলাচল বন্ধ। কাজেই সারদায় বসেই প্রতিরক্ষা/প্রতিরোধের জন্য তৈরি হওয়াই ছিল আমাদের একমাত্র উপায় ও লক্ষ্য।

১৮ই এপ্রিল সন্ধ্যার প্রাক্কালে কলকাতায় কীড স্ট্রিটের এমপি হোস্টেলে কলকাতার কংগ্রেস দলীয় এমপি জয়নাল আবেদীনের অতিথি হিসেবে আশ্রয় নিই। খাওয়াদাওয়ার খরচ আমাদের নিজেদেরকে বহন করতে হয়েছিলো। আমার বা আমার স্ত্রীর সঙ্গে কোনো টাকাপয়সা ছিল না। সামান্য গহনা ছিল মাত্র। আমাদের ছোট ছেলে ইনান তার জন্মদিনে পাওয়া চারশত টাকা সঙ্গে নিয়েই সারদা থেকে বেরিয়েছিলো। পালাবার দিন রাতে ওই টাকা তার সঙ্গে ছিল। এখন তার টাকা খরচ করতে চায় না। তার হিসাব হলো এতজন লোক মিলে এই টাকা খেয়ে শেষ করার পর আমাদের অবস্থা কী হবে। এমপি হোস্টেলের কোণে পান-বিড়ির দোকানের বেচাকেনা দেখে সে নিজে একটি পান বিড়ির দোকান করতে চায়। তার হিসাব অনুযায়ী দৈনিক ৭/৮ টাকা লাভ হবে এবং তাতে আমাদের খাওয়ার খরচ কোনোক্রমে হয়ে যাবে। ঐ সময় আমাদের পাঁচজনের (বাবুর্চিসহ) জন্য দৈনিক ৫/৬ টাকার বেশি খাওয়া খরচ করতে পারি নি।

কীড স্ট্রিটে ১৭ই এপ্রিল কুষ্টিয়ার আমবাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সনদ পাঠের কথা শুনতে পাই। সোহরাব হোসেন, মমিনউদ্দিন প্রমুখ কয়েকজন কলকাতার এমপি হোস্টেলেই ছিলেন। কামরুজ্জামানের সঙ্গে দুমিনিটের জন্য দেখা হলো। আমাদের বড় বড় নেতারা কে কোথায় আছেন জানতে চাইলে তিনি কানে কানে বললেন যে, আগামী দিন সে খবর আমাকে দেওয়া হবে। সে মুহূর্তে আমাদের নেতাদের অবস্থান সম্বন্ধে কেউ কিছু বলতে চায়নি।

২৫শে মার্চের পর থেকে বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু যাবে কোথায়? যারা সামরিক সরকারের চিহ্নিত শত্রু তাদের বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। এই সাধারণ বিষয়টি অনেকে চিন্তা করতে পারেনি। বাংলাদেশের লোকালয়ে আমার পক্ষে পালিয়ে থাকা সম্ভবপর ছিল না সারদার এতো সব কর্মকাণ্ডের পর আমি দেশত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিই। ভারতীয় ক্যাম্পে লক্ষ লক্ষ মানুষ হতাশা ও দুর্দশা বোঝা নিয়ে প্রতিদিন এসেছে। তাদের মধ্যে প্রথম দিকে অমুসলমান বাঙালির সংখ্যাই ছিল বেশি। কিন্তু পরবর্তীকালে পরিস্থিতি হয়েছে ভিন্নতর। ক্যাম্পে সকলেই মিলে দিন কাটিয়েছে। ধর্মীয় ভেদাভেদ আমাদের নজরে পড়েনি।

বাংলাদেশ স্বাধীন করব এ বিষয়ে আমাদের দৃঢ়প্রত্যয় ছিল। ’৭১-এর নভেম্বর মাসে আমরা ভাবতে শুরু করেছিলাম স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো বা নীতিমালা এখান এখান থেকেই তৈরী করে নিতে হবে। যুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিক ধ্বংসাবশেষের ওপর বিজয়ের গৌরব নিয়ে প্রশাসন চালাতে হলে যে প্রজ্ঞা,ধৈর্য, ও দূরদর্শিতার তা হয়তো রাজনৈতিক মহলে একক ভাবে আশা করা সম্ভবপর হবে না এই ভেবে আমাদের উদ্যোগেই প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক মৌল কাঠামো তৈরী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত সরকারী,আধাসরকারী বা সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থাসমূহ এবং কলকারখানার শ্রমিক কর্মচারীদের ব্যাপারে এটা ধরে নিতে হবে যে তারাও ছিলেন আমাদের মতো মুক্তিযোদ্ধা। এই ছিল আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত ।

শুধু ব্যাতিক্রম ছিলো এটুকু যে, যারা প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা দেশবাসির কাছে জঘন্য শত্রুবলে চিহ্নিত হয়েছেন তাদের জন্য একটি স্ক্রীনিং কমিটি গঠন করা হয়। একজন বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য এবং সরকারের একজন সচিবকে নিয়ে এই কমিটি গঠিত হয় । এই কমিটির রায় কে সরকার চুড়ান্ত বলে মেনে নেবে। তারপর আরো কিছুসংখ্যক চিহ্নিত কর্মচারীর কাছ থেকে আনুগত্যের একতা শপথ নেয়া হবে। এর বেশী কিছু নয়। আমাদের মতে এতেই দেশবাসী সন্তুষ্ট থাকবেন এবং প্রচলিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা তেমন কোন ওলট পালট হবে না ।

দেশত্যাগী প্রায় সাত হাজার পুলিশ, এবং পাঁচ হাজার ই পি আর স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদান রেখেছে। পুলিশদেরকে ১৭০০ মাইল সীমান্তের আশ্রয় ক্যাম্প ও অন্যান্য জায়গা থেকে খুঁজে বের করে সংঘবদ্ধ করার কাজ আমাকে করতে হয়েছে। ই পি আর-এর প্রায় সকলেই নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভূক্ত ছিল। পুলিশের উল্লেখযোগ্য অংশ প্রত্যক্ষ যুদ্ধে নিয়োজিত ছিল। সীমান্তের সংগে বিশেষ ভাবে পরিচিত ছিল বলে ই পি আর ছিল আমাদের অভিযানের সেরা সৈনিক। ই পি আর ও পুলিশ অকাতারে যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন দিয়েছে। প্রায় ষোলশত পুলিশ এবং এক হাজার ই পি আর মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে। পংঙ্গু হয়েছে অনেকে। পরিবারের ওপর বহু রকম নির্যাতন চালিয়েছে পাকবাহিনী। বাংগালী সৈনিক ও অফিসারদের অনেককেই পাকিস্তানের পশ্চিমাংশে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল বলে মুক্তি্যুদ্ধে পেশাগত সৈনিকের সংখ্যা খুব বেশী ছিল না। পশ্চিম পাকিস্তানে যারা আটক ছিলেন বন্দি শিবির থেকে কেউ কেউ পালিয়ে এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন।

ভারতীয় যুদ্ধবিশারদরা ‘বাইপাস’ সিস্টেম-এ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি যথাসম্ভব ন্যূন্যতম সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। ‘বাইপাস’ সিস্টেম-এ পাকবাহিনীকে কোন সম্মুখযুদ্ধের সুযোগ দেয়া হয়নি। লক্ষ লক্ষ মুক্তিবাহিনী ভারতীয় নেতৃত্বে পাকবাহিনীকে পাশ কাটিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলে। দিশেহারা পাকবাহিনী অস্ত্রশস্ত্র যেখানে-সেখানে ফেলে ঢাকায় এসে আত্মসমর্পনের জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়। বাংলাদেশের কোথাও লুকিয়ে জীবন বাঁচাবার পরিস্থিতি তাদের ছিল না । সপ্তম নৌ-বহরের পাঁয়তারা সত্বেও প্রায় এক লক্ষ পাক বাহিনীর এত নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ !

বিজয় যখন দিবালোকের মত স্পষ্ট,তখন আত্মসমর্পণ উৎসবে আমাদের যোগদান সম্পর্কে যে কর্মসূচী গ্রহণ করা হয় তাতে স্থির করা হয়েছিল ১৬ই ডিসেম্বর কর্নেল ওসমানী, রুহুল কুদ্দুস ও আমি হেলিকপ্টারে ভারতীয় কমান্ডারকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছুব। দমদম এয়ারপোর্টে পৌঁছুবার জন্য আমাদের যে সময় দেয়া হয়েছিল তার ঘন্টাখানেক পূর্বে আমাদের প্রশাসনে কি যেন একটা হাস হাস পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। আমি তার কিছুই আঁচ করতে পারিনি।

করতে পারিনি। রুহুল কুদ্দুস শুধু জানালেন যে, কর্নেল ওসমানীকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কাজেই ডেপুটি কমান্ডার ইন-চীফ এ.কে. খন্দকারকে খুঁজে বের করা হয়েছে। শুধু তিনি ঢাকায় যাবেন। আমরা দুজন যাবো না। কর্নেল ওসমানীর সঙ্গে কার কী মতভেদ ঘটেছিলো তা আর জানতে পারিনি। ঠিক করা হলো ১৭ই ডিসেম্বর শেখ সাহেবের ছেলে জামালকে ঢাকা রেডিও চালাবার মতো যন্ত্রপাতি দিয়ে পাঠানো হবে। ১৮ তারিখ রুহুল কুদ্দুস, নূরুল কাদের, আসাদুজ্জামান ও আমি ঢাকায় আসবো। পরিবারকে সঙ্গে আনা যাবে না। কাজেই আমার পরিবার ও ছেলেমেয়েকে কলকাতায় রেখে আসি। প্রায় ১২ দিন পর তাদের ঢাকায় নিয়ে আসি। ঢাকার মাটিতে পা দিয়ে সেদিন জীবনের সবকিছু পেলাম। হেলিকপ্টার থেকে নামার আগে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করি। এয়ারপোর্টে হাজার হাজার লোকের ভীড়ে কারো সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি নি। জানি না তারা কী ভেবেছিলো। শুধু হাত উঠিয়ে সালাম জানিয়েছি। আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব কে কোথায় কীভাবে আছেন – জীবিত কি শহীদ, এ চিন্তায় সে মুহূর্তে এতোই অভিভূত হয়েছিলাম যে, স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসার আনন্দে যুগপৎ নেমে আসে অব্যক্ত বিষাদের ছায়া। এই বিষাদ থেকে আজো মুক্ত হতে পারি নি।

(লেখাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্রের ১৫তম খণ্ডের ২৫ নং পৃষ্ঠায় মুদ্রিত ০৫ নং দলিল থেকে নেওয়া)


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ