ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-দর্শন

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০১৭ শুক্রবার, ১২:২১ পিএম
বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-দর্শন


 বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর বঙ্গবন্ধু ও জাতির পিতা হয়ে ওঠার পেছনে চিন্তা ও দর্শন ছিল মূল চালিকাশক্তি। আর বঙ্গবন্ধুর এই চিন্তা ও দর্শন ছিল কালের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যে তাঁর এমন কালোত্তীর্ন চিন্তা ও দর্শনেরই প্রকাশ ঘটেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের ‘শেখ মুজিব বাংলাদেশের আরেক নাম’ বইয়ে বঙ্গবন্ধুর কিছু কালজয়ী বক্তব্য উঠে এসেছে। প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর কিছু বক্তব্য হুবহু দেওয়া হলো:

ঐক্য বজায় রাখা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন প্রসঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘যদি আমরা বিভক্ত হয়ে যাই এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও মতাদর্শের অনৈক্যের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে আত্মঘাতী সংঘাতে মেতে উঠি তাহলে যারা এদেশের ভালো চান না ও এখানকার সম্পদের ওপর ভাগ বসাতে চান তাদেরই সুবিধা হবে এবং বাংলাদেশের নির্যাতিত, নিপীড়িত, ভাগ্যাহত ও দুঃখী মানুষের মুক্তির দিনটি পিছিয়ে যাবে।’

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে শিল্পী সাহিত্যিকদের আত্মনিয়োগ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, ’দেশের সাধারণ মানুষ, যারা আজও দুঃখী, যারা আজো নিরন্তর সংগ্রম করে বেঁচে আছে, তাঁদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখকে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির উপজীব্য করার জন্য শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

সকল ধর্মের সমতাবিধান প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, ’এদেশে ইসলাম, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবই থাকবে এবং বাংলাদেশে ও থাকবে। হিন্দু ও বৌদ্ধদের ওপর গত এক দশকে যে অত্যাচার হয়েছে তারো অবসান হবে। মহিলাদের সমান অধিকার প্রদান করা হবে এবং তাঁরা আর দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক থাকবে না।’

জনগনের ভালোবাসা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, ’প্রধানমন্ত্রী হবার কোনো ইচ্ছাই আমর নেই। প্রধানমন্ত্রী আসে এবং যায়। কিন্তু যে ভালোবাসা ও সন্মান দেশবাসী আমাকে দিয়েছেন, তা আমি সরাজীবন মনে রাখবো। অত্যাচার নিপীড়ন এবং কারাগারে নির্জন প্রকোষ্ঠোকে আমি ভয় করি না। কিন্তু জনগণের ভালোবাসা যেন আমাকে দুর্বল করে ফেলেছে।’

সত্যিকারের ইতিহাস রচনা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, ’বাংলার মানুষ বিশেষ করে ছাত্র এবং তরুণ সম্প্রদায়কে আমাদের ইতিহাস এবং অতীত জানাতে হবে। বাংলার যে ছেলে তাঁর অতীত বংশধরদের ঐতিহ্য সম্পর্কেজানতে পারে না সে ছেলে সত্যিকারের বাঙালি হতে পারে না।
সকল ভাষা ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধি প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ধর্মের নামে ভাড়াটিয়া সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়া মানুষের আত্মার স্পন্দনকে পিষে মারারই শামিল।’

নির্বাচিত সদস্যেদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ’আমরা পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দিতে চাই যে, আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আওয়ামী লীগ রাজনীতি করে।’

গনমানুষ ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাস এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ’বাঙালির স্বজাত্যবোধ টুঁটি চেপে হত্যার জন্যে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র বারবার এই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ভাষার উপর আঘাত হেনেছে, আর তাকে প্রাণ দিয়ে প্রতিহত করেছে এই দেশের তরুণরা।’

নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, ’স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশের জনগণের মতো এত উচ্চমূল্য, এত ভয়াবহ ও বিভীষিকাময় জীবন ও দূর্ভোগ আর কোন দেশের মানুষকে ভোগ করতে হয়নি।’

স্বাধীন দেশ হিসেবে বেঁচে থাকার প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বলেন, ’বাংলাদেশ আজ মুক্ত, স্বধীন। একজন বাঙ্গালী বেঁচে থাকতেও এই স্বাধীনতা নষ্ট হতে দেব না। বাংলাদেশ ইতিহাসে স্বাধীন দেশরূপেই বেঁচে থাকবে। বাংলাকে দাবিয়ে রাখতে পারে এমন কোন শক্তি নাই।
স্বাধীনতা ব্যর্থ হওয়া প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, নেতা হিসেবে নয়, আপনাদের ভাই হিসাবে বলছি- আমাদের সাধারণ মানুষ যদি আশ্রয় না পায়, যদি দেশবাসী খাবার না পায়, যুবকরা চাকরি বা কাজ না পায়, তাহলে আমাদের এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে, পূর্ণ হবে না।’

সমস্যা সমাধানে জনঅংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বলেন, ’বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি বিশেষ কোন ধর্মভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা। এ দেশের কৃষক- শ্রমিক, হিন্দু- মুসলমান সুখে থাকবে, শান্তিতে থাকবে।’

পাকিস্তানের সঙ্গে নূন্যতম বাধঁনও না রাখা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বলেন, ’বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা হরণ করতে চায়, তাহলে সে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মুজিব সর্বপ্রথম তার প্রাণ দেবে।’

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজি্বুর রহমান বলেন, আসুন আজ আমরা এই শপথ গ্রহণ করি, ’বিধ্বস্ত মুক্ত বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুল্বো। গুটিকয়েক সুবিধাবাদী নয়, সাড়ে ৭ কোটি মানুষ তার ফল ভোগ করবে। আমি ভবিষ্যৎ বংশধরদের সুখী ও উন্নততর জীবন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’

নির্যাতিত কৃষকশ্রেণী প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, ’আমদের চাষীরা হলো সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত শ্রেনী এবং তাঁদের অবস্থার উন্নতির জন্য আমদের উদ্যোগের বিরাট অংশই তাঁদের পেছনে নিয়োজিত করতে হবে।’

গনতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, ’আজ আমরা যে সংবিধান দেবো, তাতে মানুষের অধিকারের কথা লেখা থাকবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ জনগণের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। এমন সংবিধানই জনগণের জন্য পেশ করতে হবে। আজ এখানে বসে চারটি সম্ভের উপর ভিত্তি করে আমাদের ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য এমন সংবিধান রচনা করতে হবে, যাতে তাঁরা দুনিয়ার সভ্য দেশের মানুষের সমান মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারে।’

আতিউর রহমানের ‘শেখ মুজিব বাংলাদেশের আরেক নাম’ বই অবলম্বনে

বাংলা ইনসাইডার/আরএ

বিষয়: আওয়ামী-লীগ