ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শুভ জন্মদিন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০২০ বুধবার, ১২:২২ পিএম
শুভ জন্মদিন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ

রাজনীতির উর্ধ্বেও তিনি একজন সদাহাস্য, বিচক্ষণ এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষ। দেশে-বিদেশে জনপ্রিয় এই মানুষটি সহজ-সরল জীবনযাপন করেন, আদতে তিনি সবার কাছেই ভালোমানুষ। একজন সাবেক স্পিকার, একটি দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি চমৎকার কথা বলেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার থেকে রাষ্ট্রপতি হয়ে যাওয়ার পরে তাঁর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির কথা বলার সুযোগ খুব কম। তিনি কখনো গুরু গাম্ভীর্যের আশেপাশে ঘেঁষেন না, তার বিভিন্ন বক্তৃতায় তিনি রসিকতায় টইটম্বুর। এতোক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন তিনি কে। তিনি আর কেউ নন, আমাদের অতি পরিচিত প্রিয়মুখ বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বছরের শুরুর দিনটিতে তার জন্মদিন। জন্মদিনে অসংখ্য ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা বাংলা ইনসাইডারের পক্ষ থেকে।

১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর উপজেলা মিঠামইনের কামালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হাজি মো. তায়েবউদ্দিন এবং মা তমিজা খাতুন। কামালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবন শুরু। এরপর ভৈরব কেবি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। এসএসসি পাস করেন নিকলী উপজেলার গোড়াচাঁদ হাইস্কুল থেকে। কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পাস করার পর ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি নিয়ে কিশোরগঞ্জ বারে আইন পেশায় যোগ দেন আবদুল হামিদ।

১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি। উদয়াস্ত পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে অল্পদিনেই কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের একচ্ছত্র নেতায় পরিণত হন তিনি। একসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সস্নেহ সান্নিধ্য লাভ করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত পছন্দে মাত্র ২৬ বছর বয়সে বিস্তীর্ণ হাওরের দুর্গম এলাকা থেকে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তদানীন্তন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে (ময়মনসিংহ-১৮) সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। ভারতের মেঘালয়ে রিক্রুটিং ক্যাম্পে এবং সেসময় সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের (মুজিব বাহিনী) সাব-সেক্টর কমান্ডার পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন আবদুল হামিদ।

১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি পুনর্নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর তিনি তার নির্বাচনী এলাকা থেকে একাদিক্রমে ৭ বার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর চরম বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশেও আবদুল হামিদ তার বিশ্বাস এবং আদর্শের জায়গা থেকে তিলমাত্র বিচ্যুত হননি। এ কারণে ১৯৭৬ সালে তাকে কারাবরণ করতে হয়। তবে কোনো নিপীড়নই তাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে সরাতে পারেনি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। পরে তিনি একই সংসদে স্পিকারের দায়িত্ব পান। জাতীয় সংসদে সকল দলের কাছেই তিনি হয়ে ওঠেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে গেলে তিনি সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদে আবারও তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন। দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর প্রথম মেয়াদে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. আবদুল হামিদ শপথ নেন। ২০১৮ সালের এপ্রিলে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তিনি স্বাধীনতা পদক লাভ করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, স্বাধীনতার পর থেকে তিনি যতবার নির্বাচন করেছেন কখনো হারেননি তিনি।

জন্মস্থান কিশোরগঞ্জে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের জন্মদিন পালনে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এরমধ্যে বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিক্যাল কলেজে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নানা আয়োজনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের জন্মদিন পালন করা হবে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে রাষ্ট্রপতির জন্মদিন পালনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণী-পেশার লোকজন উপস্থিত থাকবেন।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ