ঢাকা, রোববার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সৈয়দ আশরাফের সেই ঘটনাটি ভুলতে পারবেন?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০২০ শুক্রবার, ০১:৩৭ পিএম
সৈয়দ আশরাফের সেই ঘটনাটি ভুলতে পারবেন?

২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন হলো। কত নেতার কত রকম দৌড়-ঝাঁপ! নানা রকম কায়দা-কৌশলে বিভিন্ন মিডিয়ায় সৈয়দ আশরাফকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অযোগ্য প্রমাণিত করার জন্য প্রচারণা চালানো হলো। কিন্তু যাঁকে সরানোর জন্য এত কিছু, সেই মানুষটি নির্বিকার।  বরাবরের মতোই নির্বিকার। কাউকে কিছু বলেননি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাউন্সিল অধিবেশনে বক্তৃতার জন্য যখন তাঁর নাম ঘোষিত হলো, মিতভাষী এই জ্ঞানতাপস, মুক্তিযোদ্ধা এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতির ঋষিপুরুষ ধীরস্থির পায়ে মাইকের সামনে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর পক্ষে-বিপক্ষের লাখো জনতা পিনপতন নীরবতায় অপেক্ষমাণ। সবার চোখেমুখে একটাই প্রশ্ন-তিনি কী বলবেন? তিনি অত্যন্ত আবেগ জড়ানো কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি অনুভূতির নাম’।

এমন গভীরতর মর্মস্পর্শী শব্দাবলি বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কোনো নেতার মুখে বাঙালি জাতি কখনো শোনেনি।  সেই কাউন্সিল অধিবেশনের ফলাফল আমরা সবাই জানি। দুদিন পর অভিমানে অথবা স্ত্রী-কন্যার কাছে যাওয়ার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে তিনি এয়ারপোর্টে, তাঁকে বিদায় জানাতে গিয়েছিলেন কবি ও রাজনীতিবিদ মাহবুবুল হক শাকিল। আজ তাঁরা দুজনই আমাদের মাঝে নেই।

বিরল হলেও বাংলাদেশে এখনো এমন রাজনীতিবিদ আছেন, যিনি কেবিনেট মিনিস্টার হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বাড়ি বিক্রি করে টাকা জোগাড় করেন। যাঁর গ্রামের বাড়িতে এখনো ভাঙা টিনের ঘর। যিনি ইংল্যান্ডের রাজনীতি ছেড়ে মা-মাটির প্রয়োজনে বাংলাদেশে সাদামাটা জীবন যাপন করেন। যিনি দৃঢ় বিশ্বাসে বলতে পারেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়িই আমার ঠিকানা’।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ