ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ফাল্গুনের ধোঁকা

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৪:২৭ পিএম
ফাল্গুনের ধোঁকা

বাঙালি উৎসবপ্রিয় জাতি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যেকোনো উৎসব আনন্দকে সাধ্যের মধ্যে উদযাপন করতে বাঙালি কখনো কৃপণতা করে না। বিশেষ করে পয়লা বৈশাখ, ফাল্গুন, চৈত্র সংক্রান্তি, ভালোবাসা দিবস, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন আমাদের কাছে খুবই জরুরি। এগুলো আমাদের কৃষ্টি আর ঐতিহ্যের সঙ্গে একেবারে মিশে আছে যেন। বিশেষ করে এই দিনগুলোর প্রেক্ষাপট নিয়ে আমরা বেশ ফ্যাশন সচেতনও বটে।

কিন্তু কখন কোন দিবস, সেটা পাল্টাচ্ছে কিনা, কোন প্রেক্ষাপটে কি হচ্ছে সেই খোঁজ বাঙালি বেশ কমই রাখে। সেই প্রমাণ আমরা আজই পেয়েছি। বাঙালি জানে ইংরেজি ১৩ ফেব্রুয়ারি মানেই বাংলায় পয়লা ফাল্গুন, কিন্তু ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের কারণে এবার যে ফাল্গুন একদিন পিছিয়েছে সেটা অনেক বাঙালিই জানেন না। এজন্য অনেকেই কিছুটা ‘ধোঁকা’ খেয়েই উদযাপন করছে বসন্ত।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত ঐতিহাসিক দিবসগুলোকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য বাংলা ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন কেবল বাংলাদেশের জন্যই করা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যেখানে বাংলা একটি অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সেখানে এই পরিবর্তন করা হয়নি।

এখন থেকে পয়লা বৈশাখসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো নির্দিষ্ট দিনে পালন হবে। নতুন নিয়মে বাংলাদেশে নতুন বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এখন থেকে বাংলা বছরের প্রথম ছয় মাস ৩১ দিনে হবে। এর আগে বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র- বছরের প্রথম এই পাঁচ মাস ৩১ দিন গণনা করা হত।

এখন ফাল্গুন মাস ছাড়া অন্য পাঁচ মাস ৩০ দিনে পালন করা হবে। ফাল্গুন মাস হবে ২৯ দিনের, কেবল লিপইয়ারের বছর ফাল্গুন ৩০ দিনের মাস হবে।

এসব হিসাবনিকাশের নিরিখেই বসন্তবরণ হচ্ছে একদিন পরে অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো পথে বেরিয়েই দেখি কিছু মানুষ হলুদবেশে ফুল দিয়ে সেজে বেরিয়ে পড়েছে। কারো আবার গায়ে হলুদ সবুজ পাঞ্জাবি।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, রাত ১২টা বাজতে না বাজতেই ফোন বা সামাজিক মাধ্যমে বসন্তের শুভেচ্ছা জানিয়ে উইশও করেছে অনেকে। এত বড় ভালোবাসার উৎসব যে একটা দিন পিছিয়েছে, সেটা তারা জানে না!

অথচ ফ্যাশন, সাজগোজ আর শুভেচ্ছা জানাতে তাদের কোনো ভুল হয় না। তাহলে মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, তবে কি বাঙালি শুধুই ফ্যাশন আর প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে কোনো জ্ঞানই রাখে না? ব্যাপারটা আসলেই অদ্ভুত। অনেকেই এই বিষয়টি নিয়ে বেশ হাস্যরস করেছেন, কেউ আবার কাউকে মজা করে হলেও মূর্খ আখ্যা দিয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, নিজেদের স্বকীয়তা নিজেদের বজায় রাখতে হবে। নিজেদের কৃষ্টি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি যদি নিজেরাই না জানলাম তাহলে বড় গলায় বাঙালি বলে গর্বিত হতে যাই কেন? আগে তো নিজেদেরকে পুরোটা জানতে হবে। না জেনে এমন ধোঁকা খেয়ে দিবস উদযাপন করে অন্যের কাছে হাসির পাত্র হওয়ার চেয়ে জেনে নিন সঠিক বিষয়টি। কেননা এখন তথ্য আর যোগাযোগের মাধ্যমগুলো অনেক এগিয়েছে। একটি তথ্য নিমিষেই সবার কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

বাঙালিয়ানাকে ভালোবেসে ধারণ করতে হলে এমন ধোঁকা থেকে বাঁচতে হবে। ফ্যাশন, অন্যের কাছে নিজেকে তুলে ধরার আগে আশেপাশে চোখকান খোলা রাখা বাঞ্ছনীয় তো বটেই।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ