ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জাদুঘর যখন টাকার

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার, ১২:০৭ পিএম
জাদুঘর যখন টাকার

জাদুঘর শব্দটি মাথায় আসলেই মনে জেগে উঠে প্রাচীন কিংবা অজানা নতুন কিছু দেখার কৌতূহল। হোক না সেটা মুক্তিযুদ্ধ, প্রত্নতত্ত্ব কিংবা নৃতাত্ত্বিক ইত্যাদি যে কোন বিষয়ের। জাদুঘরে জাদুকর না থাকতে পারে, কিন্তু জাদু জাদু একটা আমেজ কিংবা মোহ কিন্তু থাকে ই। কালের আবহে প্রতিটা জিনিসকে দেখতে হয়, পর্যবেক্ষণ করতে হয় ও অনুভব করতে শিখতে হয়। তবেই না জাদুঘর দেখার সার্থকতা।

হ্যাঁ, বলছি মিরপুরে অবস্থিত ‘টাকা জাদুঘর’ দেখার কথা। তাও আবার যে সে জাদুঘর নয়। পুরনো মারণাস্ত্র, রাইফেল কিংবা নুড়ি পাথর দেখার জাদুঘর নয়। বিভিন্ন প্রজাতির হোমোসেপিয়ান কিংবা ডায়নোসরের ফসিল রাখার জাদুঘর নয়। জাদুঘর যখন টাকার, তখন তো তাকে আর যে সে জাদুঘর বলা যায় না।

পুরো জাদুঘরটি দুটি গ্যালারিতে বিভক্ত। প্রথম গ্যালারির শুরুতেই রয়েছে আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন শাসনামলে প্রচলিত মুদ্রা। প্রাচীনকালের গুপ্ত, পাল ও সেন শাসনামল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রায় সকল মুদ্রারই সংগ্রহ রয়েছে এই জাদুঘরে। বাংলাদেশের একমাত্র টাকার জাদুঘর এটি। অনেক দুর্লভ সংগ্রহ জাদুঘরটিকে করেছে সমৃদ্ধ। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসনামল, পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে ব্যবহৃত মুদ্রা ও টাকার নোট থরে বিথরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে জাদুঘরের শোকেসের বিভিন্ন তাকে।

এমনকি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুগোস্লাভিয়া ও চেকোস্লোভাকিয়া’র মতো বিলুপ্ত রাষ্ট্রের মুদ্রার সংগ্রহও আছে এখানে। প্রাচীনকালে পণ্য বিনিময় প্রথা থেকে শুরু করে বিনিময় মাধ্যম বা মুদ্রা হিসেবে কড়ির ব্যবহার, কি নেই তাদের সংগ্রহে। মুদ্রার সঙ্গে জড়িত সকল কিছুই স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই টাকার জাদুঘরে। অতীতের গ্রামীণ পরিবেশ ও ডিউরোমা (মাটির মডেল) তৈরি করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গ্রামীণ বাজার ব্যবস্থা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রচলন, বিকিকিনি ইত্যাদি। রয়েছে মুদ্রা সংরক্ষণের আধার পদ্ধতি, মুদ্রার সিল, থলে ও সুতা।

দ্বিতীয় গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন সময়ের মুদ্রা। আছে স্মারক নোট ও মুদ্রা। বিভিন্ন উপলক্ষে ছাপানো স্মারক মুদ্রা ও নোটের সংগ্রহ দেখতে পাওয়া যায় এই গ্যালারিতে। তবে আর যাই হোক, এই গ্যালারির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল ‘ফটোকিয়স্ক’। গ্যালারির এককোণে ছোট করে দুটি স্টুডিও। তাতে মুদ্রা ছাপানো যায়। ছাপানো যায় এক লক্ষ টাকার নোট। সে নোটে আবার নিজের ইচ্ছে মতো ছবি ছাপিয়ে নেওয়া যায়। অবশ্য, এর জন্য আপনাকে গুনতে হবে ৫০ টাকা। আর যে নোটটি ছাপাবেন, তাও কিন্তু সত্যিকারের নয়। স্মারক নোট। অর্থাৎ, বিনিময় করা যাবে না।

প্রতিটি মুদ্রার পাশেই লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে মুদ্রার ইতিহাস। মুদ্রাটি কখন, কোথায় পাওয়া গেছে; তাও লেখা রয়েছে। আবার অনেক ব্যক্তিগত সংগ্রহ থাকায়, যার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে সম্মানপূর্বক তার পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। এলইডি মনিটর, প্রজেক্টর, ডিজিটাল সাইনেজ, অডিও গাইড ইত্যাদি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন তথ্য।

সরকারি ছুটির দিন ছাড়া আর সব দিনই খোলা থাকে বাংলাদেশে মুদ্রার একমাত্র জাদুঘরটি। শুক্রবার ব্যতিত অন্যদিন খোলা থাকে সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। আর শুক্রবারে শুরু হয় বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত। তবে বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। আর জাদুঘরটিতে প্রবেশ করা যায় বিনামূল্যে। নিরাপত্তার স্বার্থে গেইটে রাখা নোটবুকে শুধু নাম, ঠিকানা লিখলেই ভিতরে প্রবেশ করা যায়।

 

বাংলা ইনসাইডার