ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

স্বাধীনতার পঞ্চাশে পা

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৮:১১ এএম
স্বাধীনতার পঞ্চাশে পা

পঞ্চাশে পা দিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। একটি অসমযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ যখন পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী বর্বরভাবে বাঙালি জাতির ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিল, সেদিন কি কেউ ভেবেছিল এই ভূখণ্ডে একটি ছোট বদ্বীপ ভাষারাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে? যেই রাষ্ট্র বিশ্বে উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রার একটি রোলমডেল হবে?

আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিন। ১৯৭১ এর এই দিনে পাকিস্তানের অতর্কিত হামলাকে প্রতিহত করতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব বাঙালি জাতিকে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করতে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। জাতির পিতার এই স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই পুরো বাংলার বাঙালিরা যার যা ‍কিছু ছিল, তাই নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। তাদের জীবনের কোনো মায়া ছিল না, চোখে ছিল দেশকে মুক্ত করার স্বপ্ন, মনে ছিল বঙ্গবন্ধুর দেখানো সেই বজ্রকণ্ঠে যোগানো সাহস। এই সাধারণ বাঙোলি পেশাদার প্রশিক্ষিত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে ‍যুদ্ধ করে। নয়মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয় হয় বীর বাঙালির।

বাংলাদেশ যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন সকলে মনে করেছিল যে এই দেশ টিকবে না। বাংলাদেশ একটি হতদরিদ্র দেশ হিসেবেই বেড়ে উঠবে, পৃথিবীতে বাংলাদেশ হবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের উদাহরণ। কিন্তু সব সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন অগ্রযাত্রার রোলমডেল। ৪৯ বছরে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার পতাকাকে আরও বেশি উজ্জ্বল করেছে, বাংলাদেশের মানচিত্র আরও বেশি প্রগাঢ় হয়েছে।
 
বাংলাদেশ আজ শুধু সফল রাষ্ট্রই নয়, অনুকরণীয় রাষ্ট্রেও পরিণত হয়েছে। সেই স্বাধীনতার অর্ধযুগ পূর্ণ হলো আজ। বাঙালি জাতির অবিস্মরনীয় রক্তমাখা বিজয়গাঁথা অম্লান থাকবে ততদিন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে। বাংলাদেশ যত উন্নত হবে, বিশ্বে যত মাথা উচু করে দাড়াবে, আমাদের গর্বিত ৩০ লাখ শহীদদের রক্তের ঋণ আমরা ততটাই শোধ করতে পারবো, সেই সঙ্গে শান্তি পাবে প্রতিটি শহীদের আত্মা।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার অর্ধশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে এমন একটি সময়ে যখন করোনা ভাইরাসের কারণে সামাজিকভাবে একটি বিচ্ছিন্নতার প্রয়োজন পড়েছে। তাই স্বাধীনতা দিবসের সব কর্মসূচিই সরকার স্থগিত করে দিয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা দিবস আমাদের শুধু বাহ্যিক উৎসবই নয়, স্বাধীনতা আমাদের হৃদয়ের উৎসব। এই স্বাধীনতা উৎসবে আমাদের হয়ত এবার স্মৃতিশৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ হচ্ছে, কোনো প্যারেড উৎসবও হচ্ছে না। কিন্তু বাঙালির হৃদয়ের উৎসবকে কে ঠেকাবে? ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই। আবেগি বাঙালি জাতি এই ২৬ মার্চে স্মরণ করবে আমাদের বীর শহীদদের, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা, আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্য। সেটাই হবে আমাদের বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ