ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

রেজা সেলিম
প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২০ শনিবার, ০৭:৩১ পিএম
‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

পৃথিবীর সব নামি দামী বা বড় বড় কোম্পানিগুলো অনেক আগে থেকেই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি বসে কাজের ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে আসছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে দেশে যেসব পরিবেশগত সমস্যা গত দুই দশক ধরে আলোচনায় এসেছে তাতে যানবাহনের উপর চাপ তৈরি না করে ও বাইরে যাবার খরচ কমিয়ে কেমন করে সেসব বিপর্যয়ের মোকাবেলা করা যায় তা নিয়ে অনেক গবেষণা হয় ও এক সময়ে এই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতিতে বাড়ি বসে কাজ করার বুদ্ধি বেরিয়ে আসে।

এছাড়া আরও একটি বড় কারণ হল প্রচুর শ্রমশক্তিকে ঠাই দিতে গিয়ে অনেক কোম্পানীকে বিশাল স্থাপনা তৈরি করতে হয়েছে। এই স্থাপনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় যোগ করলে মুনাফাভিত্তিক শিল্পগুলো ঝুঁকির মধ্যে থাকে ফলে কোন নির্ধারিত স্থানে না বসিয়ে স্বল্প খরচে যদি বাড়ি বসে কাজ করা যায় সেটাও এই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতি সৃষ্টির একটি বড় কারণ।

আমাদের মতো দেশে হরতাল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি কারণেও বাসায় বসে কাজ করার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। তাছাড়া তথ্য-প্রযুক্তির সীমাহীন ব্যাপ্তি ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর অন্যতম অংশীদার হয় উঠেছে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজে একটি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগই এই ব্যবস্থাপনার জন্যে জরুরী যা খুব সহজে আমাদের দেশেও সম্ভব।

সম্প্রতিক করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বাংলাদেশ-সহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই দিনের পর দিন লকডাউন চলছে। এর ফলে যেসব প্রশাসনিক ও উন্নয়নমুখী কাজের জন্যে নির্দেশনা দরকার হবে সেগুলো যাতে কোনভাবেই ব্যাহত না হয় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ তার একটি অন্যতম উপায়। এই কারণে অনেকেই এই ব্যবস্থা নিজের ঘরে করে নিয়েছেন যার ফলে মনেই হবে না কেউ কাজ থেকে বিশ্রাম নিয়ে বাড়ি বসে আছেন, অলস সময় কাটাচ্ছেন ও নিজের কাজের বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করছেন।

‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর জন্যে আপনার যা জরুরী হবে, বাসার যে কোন কোণে একটি টেবিল পেতে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ স্থাপন করে পাশে প্রিন্টার, স্ক্যানার (যদি কাজের জন্যে প্রয়োজন হয়); আর দরকার হবে ইন্টারনেট সংযোগ (ভালো হয় যদি বাসায় তারবিহীন বা ওয়াই-ফাই) ব্যবস্থা করে নেয়া যায়, এর ফলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও একই সংযোগ (মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে) ব্যবহার করতে পারবে।

‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর অন্যতম শর্ত হলো একটি ক্লাউড সার্ভিসের গ্রাহক হয়ে নেয়া। আজকাল খুব সস্তায় গুগল বা মাইক্রোসফট বা অন্য অনেক সংস্থা ক্লাউড ড্রাইভের সেবা দিয়ে থাকে। এতে আপনার যে কোন ফাইল, ডেটা ইত্যাদি ড্রাইভে রেখে আর কাউকে তার শেয়ার দিলে যে কেউ যে কোন স্থান থেকে তা কপি করে নিতে পারবেন ও প্রয়োজনীয় সমাধান দিতে পারবেন। যেমন ধরুন, আপনি একটি চিঠির খসড়া তৈরি করলেন যা আপনার উর্ধতন কর্মকর্তাকে দেখিয়ে নেয়া দরকার। আপনি ড্রাইভে তা শেয়ার দিলে সেই কর্মকর্তা তার ঘরে বসেই সেটা সংশোধন করে আপনাকে পাঠাতে পারবেন। এমনকি হাজার পৃষ্ঠার বই, দলিল বা রিপোর্টের কপিও আপনি একইভাবে অন্য কোন সহকর্মীর সাথে শেয়ার করতে পারবেন।

‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর আর একটি জনপ্রিয় বিশেষত্ব হল আপনি ভিডিওতে সহকর্মীদের সাথে যে কোন সময় আলাপ করতে পারবেন। এরকম অনেক সফটওয়্যার আছে যেগুলো ব্যবহার করে গ্রুপ মিটিং করা হচ্ছে। যেমন জুম, টীমস বা নিদেনপক্ষে স্কাইপ, ভাইবার বা হোয়াটসঅ্যাপ। এসবের কোন কোনটি ফ্রী আবার কোন কোনটি কিনে নিতে হয়। কেনা সফটওয়্যারে সঙ্গত কারণেই গ্রাহক সুবিধা বেশী। এছাড়া ওয়েব ভিত্তিক কিছু ফ্রী ভিডিও মিটিং সেবা আছে যেমন-https://jitsi.org/jitsi-meet/ যে কেউ মোবাইলে বা ডেস্কটপে এই সুবিধা নিতে পারবেন।

আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সেবাগুলো আমাদের অনেক বেশী ডিভাইস নির্ভর করলেও এটা মানতেই হবে এতে আমাদের কাজের সংস্কৃতিরও পরিবর্তন-রূপান্তর অবশ্যম্ভাবী। ডিজিটাল বাংলাদেশের কাজের পরিবেশে এখনকার মতো মহামারী দুর্যোগ যাই-ই হোক আমাদের কাজের উৎপাদনশীলতাকে একেবারে শুন্যের কোঠায় নিতে পারবে না কারণ মানুষ প্রযুক্তির সাথে তার নিত্যদিনের সংস্কৃতির খাপ খাইয়ে নেবার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারছে।

--

লেখকঃ পরিচালক, আমাদের গ্রাম