ঢাকা, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

পত্র মিতালির দিন কি শেষ?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২০ শনিবার, ০৮:০২ এএম
পত্র মিতালির দিন কি শেষ?

চিঠি মানবসভ্যতার এক অনন্য আবিস্কার। মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি বড় অংশ দখল করে আছে এই চিঠি। ইতিহাসে অনেক বিখ্যাত লোকের চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করার বিষয়ে জানা যায়। চিঠির মাধ্যমে একটা সময় প্রেম করত অনেকে। সেইসাথে চিঠি বিনিময়ের মাধ্যমে বন্ধুত্বও গড়ে উঠত। সাহিত্যেও নানান রকম চিঠির বর্ণনা থাকত। সাহিত্যের একটি শাখাই দাঁড়িয়ে গিয়েছিল চিঠি সাহিত্য নামে। তাই চলুন জেনে নেই হারিয়ে যাওয়া চিঠি বিনিময়ের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে।

চিঠিতে প্রেম

একটা সময় ছিল যখন চিঠি ছিল প্রেমিক প্রেমিকাদের যোগাযোগ করার অন্যতম মাধ্যম। ষাট, সত্তুর ও আশির দশকের পুরোটা সময় কেটেছে এমন করে। এখন যে রকম প্রেমিক প্রেমিকারা মোবাইলে টাকা রিচার্জের দোকানে দৌড়াদৌড়ি করে। তেমনি একটা সময়ে বেশি যাতায়াত করত ডাক ঘরে। অবশ্য আজকাল আর চিঠির এমন ব্যবহার দেখা যায় না। প্রেমের কাজে চিঠির ব্যবহার এখন প্রায় উঠেই গেছে। এখন সেই জায়গায় স্থান নিয়েছে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

সাহিত্যে চিঠি

আজকাল কাল আর নতুন করে কেউ চিঠি সাহিত্য লিখছে না। ফলে এই ধরণের সাহিত্যও আর আজকাল দেখা যায় না। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন চিঠি সাহিত্য অনেক জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু কালের পরিবর্তে এখন তা একেবারেই উঠে গেছে। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হল সাহিত্যেও আধুনিকতা বলতে একটা বিষয় আছে। সময় ও সংস্কৃতির সাথে সাথে সাহিত্যেরও একটা পরিবর্তন ঘটে। এটাও একটা কারণ হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিষয় হল আজকাল আর চিঠি সাহিত্য নতুন করে কেউ লিখছে না।

বন্ধুত্বে চিঠি

পত্র মিতালি নামে বাংলায় একটি শব্দই চালু আছে। ফলে এতে করেই বুঝা যায় যে, একটা সময় চিঠির মাধ্যমে কি পরিমাণ বন্ধুত্ব গড়ে উঠত। তখন বন্ধুত্বের যোগাযোগের মাধ্যমই যেন ছিল চিঠি। তখনকার চিঠির যুগের বন্ধুত্বে একটা ভিন্ন রকম টান ও আন্তরিকতা ছিল। কিন্তু এখন কেমন জানি এই বিষয়গুলো আর নেই। এখন স্কাইপিতে ভিডিও কলে কথা বললেও যেন সেই আবেগ নেই। অনেকেই বলে থাকেন, চিঠির পরিবর্তে বন্ধুদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য বিকল্প মাধ্যম গড়ে উঠেছে, তা এতোটা কার্যকর নয়। তবে এখন যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সহজলভ্যতা এসেছে। এই বিষয়টা কেউ অস্বীকার করে না।

যোগাযোগে চিঠি

যোগাযোগ ক্ষেত্রে চিঠির একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল। তখন সকল প্রকার যোগাযোগের মাধ্যম ছিল চিঠি। কেউ লিখতে না পারলেও অন্যকে দিয়ে চিঠি লেখানোর একটা রীতি প্রচলিত ছিল। কিন্তু কালের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এমন প্রথাও পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

তবে এখনো দাপ্তরিক কাজে চিঠি ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকারি সকল কাজেই এখনো আমাদের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে এই ধারা ধরে রেখেছে।