ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রাজনীতিতে চিরকুমারী যারা

মুস্তাকিম ভুঁইয়া
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২০ শুক্রবার, ০৯:০০ এএম
রাজনীতিতে চিরকুমারী যারা

একটা বয়সে বিয়ের কথা শুনলেই সহজাত উত্তেজনা কাজ করে। সেইসাথে নানা কারণে বিয়েটাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিয়ে বা সংসার ধর্ম না করা, যেন অস্বাভাবিক। সমাজ অন্তত তাই মনে করে। আর এমন মানুষ নিয়ে গুঞ্জনেরও শেষ নেই। কিন্তু এই সমাজে অনেকেই বিয়ে করেননি। নানা কারণে বিয়ে থেকে দূরে থেকেছেন। পড়াশোনা বা কাজের কারণে বিয়ে করা হয়ে উঠেনি। সেইসাথে রয়েছে অন্য রকম গল্প। আমাদের পরিচিত অনেক নারীও রয়েছেন এই তালিকায়। তারা রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। রাজনীতিতে থেকেও যারা চিরকুমারী এমন নারীদের নিয়েই এই আয়োজন।


রাণী প্রথম এলিজাবেথ
কথায় আছে, অতি বড় ঘরনী না পায় ঘর, অতি বড় সুন্দরী না পায় বর। আর এমনটা যেন ঘটেছিল রানী প্রথম এলিজাবেথের জীবনে। অতি রমনী হওয়া স্বত্ত্বেও বিবাহ ভাগ্য হয়নি তার। সারাটা জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন চিরকুমারী হয়ে। অনেকেই তখন ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথের জারজ সন্তান রয়েছে বলেও কানাঘুষা করতেন। তবে এ বিষয়ে কোনো ইতিহাসবিদরা প্রমাণ পাননি। নারী হওয়ার কারণে এমনো গুজব রয়েছে। রানী বন্ধ্যাত্ব, এমনকি তার বিকৃতি যৌন চাহিদার কারণেই তিনি বিয়ে করেননি। তবে রানীর অবিবাহিত থাকার আসল কারণ হিসেবে অনেকেই মত দিয়েছেন। এলিজাবেথ খুব অল্প বয়সেই তার বাবাকে হারিয়েছিলেন। তার মা আন বোলেনসহ রাজার তিন স্ত্রী মিলে তাকে হত্যা করেছিলেন। এরপর থেকেই রানী বিয়েকে ভয় পেতেন। এজন্য পরপর অনেক সম্পর্কে জড়ালেও কাউকে বিয়ে করেননি তিনি।  


মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়
১৯৫৫ সালে জন্ম নেওয়া ৬২ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো বিয়ে করেনি। কলকাতার হাজরা অঞ্চলে একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম। রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন ছাত্র অবস্থাতেই। সংসার চালানোর জন্য কিছুকাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন। এভাবে পরিবারের মাঝেই হয়তো নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন। আর তাই নিজের বিয়ের চিন্তা মাথায় আসেনি।


অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন
সাহারা খাতুন দেশের প্রাক্তন প্রথম মহিলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেইসাথে তিনি ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায়ও সফল। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জানা যায়, সাহারা খাতুন ১৯৬৭ সাল থেকে পুরো দমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এত বেশি জড়িয়ে পড়েন যে, আর সময় মতো আইন পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেইসাথে ব্যক্তিগত জীবনে আওয়ামী লীগের এই নেত্রী চিরকুমারী।


ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা
ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরার রাজনীতির শুরুটাও ছাত্রলীগ দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে তার চুল ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মতো। এমন মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই থেকে নিজের নামের সঙ্গে ইন্দিরা নামটিও যোগ হয়ে যায়। ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। জানা যায়, ‘৮১ সালে শেখ হাসিনা ফিরলে রাজনীতিতে দলকে সময় দিতে শুরু করেন। বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ সদর আসনের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য। সেইসাথে তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু এভাবে রাজনীতি করতে গিয়ে বিয়ে কথা যেন ভুলেই গিয়েছেন এই নেত্রী। ফলে বিয়েটা আর করা হয়ে উঠেনি।  


শামসুন নাহার চাঁপা
ড. আব্দুর রাজ্জাকের বোন শামসুন নাহার চাঁপার রাজনীতি শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় থেকেই। তিনি শামসুন্নাহার হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ‘৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশের ফেরার সময় তিনি ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটিতেও ছিলেন চাঁপা। পরে এক সময় সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে যান তিনি। কিন্তু জীবনের এতো বৎসর পার করেও বিয়ে করেননি তিনি। জানা যায়, আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া চাঁপা ব্যক্তিগত জীবনে এখনো চির কুমারী।