ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ইউরোপ আমেরিকায় কোরবানির রীতি

মুস্তাকিম ভুঁইয়া
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২০ শুক্রবার, ০৯:০৩ এএম
ইউরোপ আমেরিকায় কোরবানির রীতি

কোরবানি মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে শুধু অঞ্চলগত পার্থক্যসহ বেশ কিছু কারণে কোরবানির রীতিতে ভিন্নতা দেখা যায়। অবশ্য ধর্মীয় দিক থেকে তেমন কোন মৌলিক পার্থক্য থাকে না। ইউরোপ, ওশেনিয়া, উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মুসলিমের বসবাস করে। যাদের অধিকাংশ বিভিন্ন সময়ে এসব দেশে অভিবাসন করেছেন। এসব দেশে মুসলমানরা ঈদুল আজহার দিন নাশতার আগেই মসজিদে গিয়ে ঈদের নামাজ পড়েন। তারপর পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে পশু কোরবানির পর একত্রে সময় কাটান।
সেখানে বাংলাদেশের মতো রাস্তাঘাটে পশু জবাই করার নিয়ম নেই। অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কসাইখানায় পছন্দমতো গবাদিপশুটি বেছে টাকা দিয়ে দেন। এবং ঈদের দিন সেখান থেকেই নিয়ম অনুসারে কাটাকুটি শেষ হওয়ার পর তা ক্রেতাদের বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। অনেকেই আবার দেশে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনের কাছে কোরবানির জন্য টাকা পাঠিয়ে দিয়েও আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি পশ্চিমা দেশে ঈদের জন্য পৃথকভাবে কোনো সরকারি ছুটি নেই।


বুলগেরিয়া
এক সময় ওসমানি খেলাফতের অধীনে থাকা বুলগেরিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ মুসলিম। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশটির মুসলমানরা সরকারিভাবে একদিনের ছুটি পায়। অন্যান্য মুসলিম দেশের মতই দেশটির মুসলিমরা নামাজ শেষে পশু কুরবানি করে। তবে সেখানে তারা বকরি বা দুম্বা কুরবানি করে থাকে। অবশ্য এখনো দেশটির কিছু অঞ্চলে কোরবানি আদায় করতে গিয়ে মুসলিমরা কট্টর খ্রিষ্টান দের দ্বারা বাধার সম্মুখিন হয়।


যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যে এখন প্রতিটি মসজিদে তিন থেকে চারটি ঈদের জামাত হয়। কয়েক বছর ধরে লন্ডনের খোলা পার্কে ঈদের জামাত চালু হয়েছে। পূর্ব লন্ডনে স্টেপনিগ্রিন পার্ক ও ইফোর্ডে ভ্যালেন্টাইনস পার্কে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে জামাত শেষে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোরবানি আদায় করা হয়ে থাকে। ঈদের মাস খানেক আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘এখানে কোরবানির অর্ডার নেওয়া হয়’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। কোরবানিদাতারা এসব প্রতিষ্ঠানে নাম লিখিয়ে কোরবানির পশুর দাম দিয়ে আসে। এবং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই নির্দিষ্ট স্থানে ঈদের জামাতের পর কোরবানি করা হয়।


আলবেনিয়া
সংবিধানিকভাবে আলবেনিয়া ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। কিন্তু তবুও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের বসবাস দেশটিতে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারিভাবে দেশটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেখানেও বাংলাদেশের মত রাস্তাঘাটে কুরবানির পশু জবাই করা হয় না। সরকারি কসাইখানাগুলোতে পশু জবাই করতে হয়। অধিকাংশ মানুষই ভেরা ও দুম্বা কুরবানি করে। তাছাড়া অনেকেই এনজিও’র মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দুম্বা নিয়ে গিয়ে জবাই করে। এবং মাংস গরিব মুসলিমদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।


যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত হয় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে। নিউ ইয়র্ক সিটিতেই ২৫২টি মসজিদ রয়েছে। সব কটিতেই ঈদের জামাত হয়। ঈদের জামাতের পর শুরু হয় কোরবানি। নির্দিষ্ট গ্রোসারিতে অথবা পশুর খামারেই সাধারণত কোরবানি করা হয়ে থাকে। গ্রোসারিতে খোলা ময়দানে নিজ হাতে কোরবানির আমেজ পাওয়া যায় না। তাই অনেকে ঈদ জামাত শেষে কোরবানি করার জন্য পশুর খামারে চলে যায়। সেখান থেকে পছন্দমতো পশু কিনে নিজ হাতে কোরবানি দেয়। খামার ও গ্রোসারি ছাড়াও বিভিন্ন শহরে খোলা ময়দানে কোরবানির অনুমতি দেওয়া হয়। নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, মিশিগানসহ কিছু এলাকায় খোলা ময়দানে কোরবানির সুযোগ থাকে।


রাশিয়া
রাশিয়ার দুই কোটি মুসলমানের বসবাস। এরমধ্যে ২০ লাখই বাস করে রাজধানী মস্কোতে। রাজধানী মস্কোতে ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয় ঈদুল আজহা। সেখানে নগর কর্তৃপক্ষ দুটি পার্কে ঈদের জামাত আয়োজন করায়, মস্কোতেও এসেছে খোলা ময়দানে জামাতের আমেজ। মুসলিম অধ্যুষিত তিনটি প্রদেশে ঈদ উপলক্ষে এক দিনের সরকারি ছুটি থাকে। কোরবানির জন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে আগেই বুকিং দিয়ে রাখতে হয়। জামাতের পর মুসলমানরা নগরের বাইরের নির্দিষ্ট স্থান বা খামারে গিয়ে কোরবানি করে।