ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সমকামিতা কি স্বাভাবিক যৌনাচার?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২০ শনিবার, ০৯:০৬ এএম
সমকামিতা কি স্বাভাবিক যৌনাচার?

সমকামিতা নিয়ে জল্পনা কল্পনার যেন শেষ নেই। সেইসাথে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। স্বাভাবিক যৌনাচার বলতে অনেক ক্ষেত্রে বিপরীত লিঙ্গের সাথে যৌনাচারকেই বুঝানো হয়ে থাকে। ফলে অনেক সমাজেই সমকামিতা নিষিদ্ধ। অবশ্য ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশেই সমকামিতা বৈধ। সেইসাথে প্রচলিত আছে এই ধরণের বিবাহ রীতিও। তবে তাদেরকে সমাজের সংখ্যালঘুই বলা চলে।    

সমকামিতা কি মানসিক বিকৃতি!

সমকামিতাকে অনেকেই মানসিক বিকৃতি হিসেবে দেখতে চান না। তাদের মতে ১৯৯৩ সালের আগে মেডিক্যাল সায়েন্সে এমনটা মনে করা হতো। মনে করা হতো যে এটা মানসিক রোগ। কিন্তু বিস্তর গবেষণায় জানা যায়, এটা কোন মানসিক রোগের শর্ত পূরণ করে না। যেমন, সমকামীরা অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতোই, সামাজিক বা প্রফেশনাল কাজে সমান পারদর্শী। বস্তুতপক্ষে, এদের মন মানসিকতা অনেক উদার, নরম, অন্যের প্রতি মায়া মমতায় ভরা। এ কারণেই, ১৯৯৩ সালে মনোরোগের টেক্সট বই থেকে রোগ সমকামিতাকে তুলে নেয়া হয়েছে। তবে এর বিপরীতে অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন কথা বলে থাকেন। তারা মনে করেন, বিজ্ঞানের তো শেষ বলে কোন কথা নেই। এক সময় গবেষণায় হয়তো এটা মানসিক বিকৃতিও প্রমাণ হতে পারে। তবে এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় বা বাঁধা হল সমাজ। সেইসাথে সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা যৌনতা বিষয়ক ধারণা।  

সমকামিতা কি প্রকৃতি বিরুদ্ধ!

অনেকেই সমকামিতাকে প্রকৃতি বিরুদ্ধ মনে করে থাকেন। কারণ এই ধরণের যৌন সম্পর্কে সন্তান উৎপাদনের কোন বিষয় থাকে না। তবে এই বিষয়ে অনেকেই ভিন্ন মত পোষণ করেন। তারা মনে করেন, সন্তান জন্মানোই যদি বিয়ের উদ্দেশ্য হয়। তাহলে প্রকৃতিগতভাবে যারা বন্ধ্যা, তাদের কি বিয়ের অধিকার থাকবে না? সন্তান উৎপাদনের জন্যে কি একমাত্র যৌন সঙ্গমই প্রয়োজন? গবেষণায় দেখা যায়, কোন মানুষই পুরো সমকামী বা পুরো বিষমকামী না। বরং একটি মিশ্র রূপ।

সমকামিতায় অনাচার বাড়বে কি!

সমকামিতাকে স্বীকৃতি দিলে সামাজিক অনাচার বেড়ে যাবে বলে মনে করেন অনেকে। তবে এই ক্ষেত্রে ভিন্ন মতামতও রয়েছে। ছেলে এবং মেয়ের বিয়ের মধ্যে কি অনাচার হয় না? জানা যায়, সমকামীরা প্রকৃতিগতভাবে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে না। এদের জোর করে বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে বিয়ে দিলে আরও বড় অনাচার করা হয়। কারণ তাতে দুটো জীবন নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া যা অনাচার, তাকে সমর্থন না দিয়েই তো সামাজিক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

ধর্মে সমকামিতা

ইসলামে সমলিঙ্গীয় যৌনতা নিষিদ্ধ। কুরআন ও হাদীসে পূর্ববর্তী ইব্রাহিমীয় ধর্মের মতই কওমে লুতের সমকামিতা ও পুং মৈথুনের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। যেখানে সমকামিতা ত্যাগ না করার চূড়ান্ত পরিণতিতে শাস্তি হিসেবে ঐশী বিপর্যয়ের মাধ্যমে তাদের ধ্বংস হওয়ার কথাও উঠে এসেছে। এছাড়া হাদীসে সডোমি অর্থাৎ পুংমৈথুনকারী বা পুংপায়ুকামী ও সমকামী ব্যক্তিদেরকে হত্যা করার নির্দেশ এসেছে। হিন্দু ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ।। বেদ এ মোট ২০০০০ মন্ত্র রয়েছে যেখানে সমকামীতার কোনো শাস্তি নেই। কিন্তু পৌরাণিক ইতিহাসে কামক্রিয়ার অস্বাভাবিকতার উপস্থিতি প্রচ্ছন্নভাবে দেখা যায় যাতে বিভিন্ন সময় সমকামীতার মতো বা সাদৃশ্য যৌনাবৃত্তিক বর্ণনা থাকে। হিন্দু ধর্মে পুরাণগুলি তিনভাগে বিভক্ত সাত্বিক, রাজসিক ও তামসিক। তামসিক পুরাণগুলিতে সাধারণত কামকে সৃষ্টি রহস্যের এক অভুতপুর্ব নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছ। তবে হিন্দুধর্মে বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, রামায়ন, মহাভারত কোথাও সমকামীতার শাস্তি নেই। কেবল মাত্র কিছু ব্যক্তিগণ মনুসংহিতাকে সমকামীতার বিরূদ্ধে বলেন। মনুসংহিতার অষ্টম অধ্যায়ের ৩৬৯ এবং ৩৭০ নম্বর শ্লোকে এবং ১১ অধ্যায়ের ১৭৫ নং শ্লোকে সমকামীতার শাস্তি রয়েছে বলে জানা যায়।