ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির ধারণা কি অসাম্প্রদায়িক!

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২০ রবিবার, ০৯:১০ এএম
রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির ধারণা কি অসাম্প্রদায়িক!

বাংলাদেশে বেশিরভাগ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুইদিন ছুটি প্রচলিত। শুক্র আর শনিবার এই সাপ্তাহিক ছুটি। কিন্তু অনেকেই শুক্রবারে সাপ্তাহিক ছুটি চালু হওয়ার বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে দেখে থাকেন। তারা মনে করেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে রবিবারে সাপ্তাহিক ছুটি করা যেতে পারে। এতে করে সাম্প্রদায়িকতার বিপত্তি আর থাকে না। আবার ব্যবসায়ীদেরও অনেকে এমন প্রস্তাবের সাথে একমত। তবে তাদের চাওয়া ভিন্ন কারণে। শুক্র ও শনিবার বাংলাদেশে ছুটি। আর রবিবার বিশ্বের অনেক দেশেই ছুটি থাকে। ফলে একটানা তিনদিনের একটা বন্ধের মধ্যে পড়ে যেতে হয়। তাদের ভাবনা এই কারণে। কিন্তু যারা ভাবেন রবিবারের সাপ্তাহিক ছুটি অসাম্প্রদায়িক। তারা কি কিভাবে রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি চালু হয়েছে এই ইতিহাস জানেন।

ছুটির উৎপত্তি

সাপ্তাহিক ছুটির উৎপত্তি আজ থেকে প্রায় সতের শত বৎসর আগে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, রোমান সম্রাট কন্সতান্তিন খ্রিষ্টীয় ৩৬১ সনে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক ছুটি চালু করেন। তিনি সূর্যদেবতা ‘সলিস ইনভিক্টি’ বা অপরাজেয় সূর্য দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। পুরো রোমান সাম্রাজ্য জুড়ে জারি করা হয় এই ডিক্রি। সম্রাটের জারি করা নির্দেশে বলা হয়, রোববারের এই মহান দিনে প্রশাসক, বিচারক ও জনগণ সকলেই বিশ্রাম করবে। সেইসাথে সকল কর্মশালা বন্ধ থাকবে।

তৎকালীন ইউরোপ, এশিয়া মাইনর, লেভান্ট (প্রাচীন বৃহত্তর সিরিয়া ও ভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চল) ও উত্তর আফ্রিকা রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর এভাবেই সূর্য দেবতার সম্মানে গোটা খ্রিস্টান বিশ্বে রোববার সাপ্তাহিক ছুটি চালু হয়। পাশ্চাত্য ও ইউরোপের প্রাক্তন কলোনিভুক্ত দেশগুলোতেও এমন সাপ্তাহিক ছুটি প্রচলিত। জানা যায়, রোমান সাম্রাজ্যের অন্যতম সরকারি প্রধান দেবতা হিসেবে সূর্য দেবতার পুজা করা হতো। এমনকি রোমান সৈনিকদের পৃষ্ঠপোষকতাও দেওয়া হতো এই দেবতার নামে। কন্সতান্তিন খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করলেও, তিনি খ্রিষ্ট ধর্মের একজন খাঁটি বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি এই ধর্মের একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিলেন না। অবশ্য রোমান সম্রাট কন্সতান্তিন ২৫ ডিসেম্বর সূর্য দেবতার উৎসবের দিন ক্রিসমাস ঘোষণা করেন।    
 
ভারতে রবিবার ছুটি

ব্রিটিশ আমলে শ্রমিকদের সপ্তাহের ৭ দিনই কাজ করতে হতো। ছুটির আলাদাভাবে কোনও দিন ধার্য করা ছিল না। কেবল ব্রিটিশ অফিসাররা সপ্তাহের একদিন রবিবার ছুটি পেতেন। আর রবিবার তাঁরা গির্জায় যেতেন প্রার্থনার জন্য। শ্রমিকদের এই কষ্টের কথা অনুভব করে শ্রমিক নেতা শ্রীনারায়ণ মেঘাজি লোখান্ডে। তিনি ব্রিটিশ সাহেবদের কাছে সপ্তাহে একদিনের ছুটির আর্জি জানান। তিনি বলেন, রবিবার হিন্দু দেবতা ‘খান্ডোবা’ এর দিন। শ্রমিকদের প্রার্থনার জন্য রবিবার ছুটি দেওয়া প্রয়োজন। মেঘাজি লোখান্ডের এই প্রস্তাব খারিজ করে দেয় ব্রিটিশ সরকার। কিন্তু লোখান্ডে হার মানেননি। শ্রমিকদের জন্য লড়ে গেছেন তিনি। দাবি আদায়ের জন্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে সাত বছর ধরে লড়াই চালিয়ে গেছেন শ্রমিকদের নিয়ে। দীর্ঘ সাত বছর লড়াইয়ের পর হার মানে ব্রিটিশ সরকার। অবশেষে ১৮৯০ সালের ১০ জুন রবিবার, লোখান্ডের দাবি মেনে ভারতীয় শ্রমিকদের সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে রবিবারকে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকেই শুরু সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবার।