ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেখ হাসিনার গ্রেপ্তার: বন্দি গণতন্ত্র

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৭:৫৭ এএম
শেখ হাসিনার গ্রেপ্তার: বন্দি গণতন্ত্র

শেখ হাসিনা হলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। শেখ হাসিনা হলো বাংলাদেশের মানুষের অধিকারের প্রতীক। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ষড়যন্ত্র ও ক্যু-এর রাজনীতি শুরু হয়েছিল। একটা জগদ্দল পাথরের মতো স্বৈরাচার চেপে বসেছিল। সে রকম পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালে প্রতিকূল অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংগ্রামের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।

দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মধ্য দিয়ে অবশেষে ১৯৯৬ সালে একটা ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ হাসিনা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু তারপরও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছিল। বারবার গণতন্ত্রের উপর আঘাত এসেছে। মানুষের অধিকার হরণের চেষ্টা হয়েছে।

২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে শুরু করে তাণ্ডব। সারা দেশে জ্বালাও পোড়াও এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালানো হয় এবং বর্বরতার চরম সীমা স্পর্শ করে। এ রকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে শেখ হাসিনা মানবতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যান। যখন গণতন্ত্রের সমস্ত বিধি ব্যবস্থাগুলোকে বিলীন করার পায়তারা চলে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়। একজন দলীয় অনুগত ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার জন্য সংবিধান সংশোধন করা হয়। নির্বাচন কমিশনকে একটা সার্কাসের দলে পরিণত করা হয়। তখন শেখ হাসিনা জনগণকে সাথে নিয়ে একটা অভূতপূর্ব গণ আন্দোলন শুরু করেন। এই গণ আন্দোলনের এক পর্যায়ে দেশে যখন একটা অস্থির অবস্থা, তখন ওয়ান ইলেভেন আসে। ক্ষমতায় বসে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন সরকার। এই সরকারের প্রধান শক্তির জায়গা ছিল সেনা বাহিনী।

ওয়ান ইলেভেন আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিরাজনীতিকরণ, গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করা এবং চিরতরে জগদ্দল পাথরের মতো একটা অরাজনৈতিক সরকারকে টিকিয়ে রাখা। এ রকম একটি বাস্তবতায় জননেত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ডাক দেন এবং অবিলম্বে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। তৎকালীন সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদ ও ফখরুদ্দিন আহমেদের সেই সরকার বুঝতে পেরেছিল যে, অনির্বাচিত সরকারকে টিকিয়ে রাখার পথে একমাত্র কাঁটা হলেন শেখ হাসিনা। তাই তাকে মাইনাস করার ফর্মুলা হাতে নেয় সেনা সমর্থিত সরকার। এই মাইনাস ফর্মুলা বাস্তবায়ন করার জন্য তারা নানামুখী ষড়যন্ত্রের ডালপালা বিস্তার করে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেশের শীর্ষ দুটি দৈনিক ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ডেইলি স্টার’ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কুৎসা এবং মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়। পরবর্তীতে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বীকার করেছেন যে, তিনি অসত্য সংবাদ পরিবেশন করেছিলেন, যেটা সেনা গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তাদের দেওয়া হয়েছিল। কোনোরকম যাচাই বাছাই না করে ওই সংবাদ প্রকাশের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশও করেন। কিন্তু ওই সমস্ত অসত্য সংবাদ শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের ভিত্তি তৈরি করে। এরপর দুজন সুবিধাবাদি ব্যবসায়ি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ভুয়া এবং অসত্য মামলা দায়ের করেন। এদের একজন হলো নূর আলী, অন্যজন হলো আজম জে চৌধুরী। নূর আলী পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনের মালিক এবং ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার। আর আজম জে চৌধুরী হলেন ইস্ট ওয়েস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং প্রাইম ব্যাংকের মালিক। তাদের দায়ের করা ভুয়া মামলাগুলোতে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বন্দি হয় গণতন্ত্র। আজকের এই দিনে বৃষ্টিভেজা ভোর রাতে ধানমন্ডির সুধাসদনের বাসায় বর্বরোচিতভাবে অভিযান চালিয়ে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাই এই দিনটি হলো আমাদের গণতন্ত্রের বন্দি দিবস।