ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পৃথিবীর অদ্ভুত যত বিবাহ রীতি

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২০ বুধবার, ০৯:০১ এএম
পৃথিবীর অদ্ভুত যত বিবাহ রীতি

বিয়ে নিয়ে আমাদের আগ্রহ আর কৌতূহলের যেন কোন শেষ নেই। এই কৌতূহল যেন চিরন্তন। তাছাড়া, সমাজ ও সংস্কৃতি ভেদে বিবাহ সংক্রান্ত রীতি নীতিতেও অনেক পার্থক্য রয়েছে। বিয়ে নিয়ে সামাজিকতা বা রীতি-নীতির যেন কোন শেষ নেই। যেমন- এক ইন্দোনেশিয়ার কথাই বলা যাক। সেখানকার এক আদিবাসী সম্প্রদায়ে কন্যা বিবাহ উপযুক্ত হলে তার জন্য আলাদা ঘর তুলে দেওয়া হয়। যাতে করে সে রাতের বেলা তার যৌন সঙ্গী বেছে নিতে পারে। প্রতি রাতে বিভিন্ন ছেলের সাথে মিলিত হতে হতে এক পর্যায়ে ঐ মেয়ে জীবন সঙ্গী হিসেবে একজনকে বেছে নেয়। আর এভাবে গড়ে উঠে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক। বিয়ে নিয়ে এমন অদ্ভুত সব রীতি ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্ব জুড়ে।  তাই চলুন জেনে নেই এমন কিছু অদ্ভুত রীতি-নীতি সম্পর্কে।
   
জার্মানি

ইউরোপের দেশ জার্মানিতে বিয়ের আগের দিন রাতে এক অদ্ভুত কাণ্ড করে বর-বউয়ের পরিবার ও বন্ধুরা। তারা ঘরের বাইরে কাঁচের জিনিস ছুড়ে ফেলেন। আর নতুন দম্পত্তিরা সেই ভাঙা কাঁচের টুকরাগুলো ঝাড়ু দিয়ে নতুন ঘরে প্রবেশ করেন। বিয়েতে জার্মানির আরো একটি মজার রীতি হলো, বিয়ের পর নতুন দম্পতি সবার সামনে একটি কাঠের টুকরোকে একসঙ্গে কেটে দেখাবেন। এটি দিয়ে তাঁরা দুজন সমানভাবে কাজ ভাগাভাগি করে নেবেন। সেইসাথে প্রমাণ করবেন যে তাঁদের মধ্যে বুঝাপড়া অনেক ভালো।

চীন

সমাজতান্ত্রিক দেশ চীনের বিবাহ রীতি যেন আর অদ্ভুত। চীনের `তুজা` প্রজাতির মেয়েরা বিয়ের মাস খানেক আগে থেকেই এক ধরনের অনুশীলনন করে। রোজ ১ ঘণ্টা করে কান্না প্র্যাকটিস করে তারা। বিয়ের পর নিজের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় কাঁদতে হবে না! আর তাদের এই প্র্যাকটিস সেশনে উৎসাহ যোগান মা, ফুফু, দিদিরা। জানা যায় তারাও মেয়েটির সাথে তালে তাল মিলিয়ে কাঁদতে বসেন।

অস্ট্রেলিয়া

ওশেনিয়ার দেশ অস্ট্রেলিয়া বিষধর সাপের জন্য সব সময়ই আলোচনায় থাকে। কিন্তু বিবাহ নিয়ে সেখানেও রয়েছে অদ্ভুত রীতি। অস্ট্রেলিয়ায় বিয়ের সময় অতিথিরা বর ও বউকে রংবেরঙের পাথর ও মার্বেল উপহার দিয়ে থাকেন। এমনকি বিয়ের সময় তাঁরা অতিথিদের একটি বড় কাচের বাটিতে পাথরগুলো রাখতে বলেন। যা পরবর্তীতে নতুন দম্পত্তিরা তাঁদের ঘরের একটি বিশেষ জায়গায় রেখে দেন। যাতে তাঁরা সব সময় অনুভব করেন তাঁদের পরিবার ও বন্ধুদের সাহায্য এবং দোয়ার কথা।

মঙ্গোলীয়

জাতি হিসেবে মঙ্গোলিয়ানরা খুবই সাহসী ও দুর্ধর্ষ। আর বিয়ের রীতিতে যেন তা ধরে রাখার চেষ্টা করেন চেঙ্গিস খানের এই জাতি। মঙ্গোলিয়ার ‘দাউর’ প্রজাতির মধ্যে প্রচলিত বিয়ে পাকা করতে বর-কনের প্রথম কাজ হলো, ধারালো ছুরি দিয়ে যৌথভাবে একটি জ্যন্ত মোরগ ছানাকে বলি দেওয়া।

ফিলিপাইন

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে দীর্ঘ, শান্তিময় ও ছন্দময় জীবনের উদ্দেশ্যে বিয়েতে এক ধরণের রীতি পালিত হয়। ফিলিপাইনে বিয়ের দিন বর ও বউ একই সঙ্গে দুটি কবুতর আকাশে ছেড়ে দেন। তাঁরা মনে করেন, কবুতরের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের জীবনের দুঃখ-কষ্টও দূর হয়ে যাবে।

আফ্রিকা

আফ্রিকানদের নিয়ে আমাদের আগ্রহের যেন কোন শেষ নেই। এখনো পৃথিবীর অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ বলা হয় দেশটিকে। এখানকার রীতি-নীতি যেন আমাদের রীতির একেবারেই বিপরীত। বিয়ের আগে সাধারণত মেয়েরা ওজন কমাতে চান। কিন্তু আফ্রিকার এক অঞ্চলের বাসিন্দারা মনে করেন, মেয়ে যত মোটা, তত সুন্দরী! তাই কিছুদিন আগে পর্যন্তও সেখানে বিয়ের কনেকে পৃথুলাকায় করে তুলতে ছিল বিশেষ `ফ্যাট ফার্ম`।

স্কটল্যান্ড

ইউরোপের ছোট্ট এক দেশ স্কটল্যান্ড। কিন্তু বিয়ে নিয়ে এখানকার অদ্ভুত রীতি যেন সবাইকে হার মানায়। স্কটল্যান্ডে বর ও বউকে বিয়ের আগে ঘরের বাইরে বসে থাকতে হয়। আর তখন তাদের ওপর ছাই, পালক, ময়দা ও গুড় মেশানো অ্যালকোহল ঢেলে দেওয়া হয়। আর এই কাজটি তাঁদের পরিবার ও বন্ধুরা স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেই করে থাকেন। কি অদ্ভুত না বিষয়টা!

সুইডেন

বিয়ের ক্ষেত্রে অদ্ভুত রীতিতে সকল দেশকেই যেন হার মানিয়ে দেয় সুইডেন। রীতির দিক থেকে শান্তি নেই সুইডেনে সদ্য বিবাহিতদের। এখানে বিয়ের পর বাসর রাতে কেউ কারও পাশ ছেড়ে উঠতে পারবেন না। বর উঠলে, বাসরে থাকা অন্য পুরুষেরা কনেকে চুমু খাবেন, আর কনে উঠলে নারীরা চুমু খাবেন বরকে।

ইতালি

বিয়ের আচার অনুষ্ঠানের পর একটি কাচের পাত্র ভেঙে ফেলেন ইতালিয় নবদম্পতি। তারপর সেই ভাঙা পাত্রটির প্রতিটি খণ্ড গুনে গুনে কুড়িয়ে তুলতে হয়। যত গুলো টুকরো, ততবছর তাঁদের বিবাহিত জীবনের মেয়াদ! এমনটাই মনে করেন ইতালিয়রা।