ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শেষ কোথায়?

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৭:৫৭ এএম
বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শেষ কোথায়?

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কেই ঈদের আগের রাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬)। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থেই তাদের গুলি ছুড়তে হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, তল্লাশি চৌকিতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান রাশেদ খান। এক পর্যায়ে তিনি পিস্তল বের করে গুলি করতে উদ্যত হলে আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতেই তিনি নিহত হন। কিন্তু পুলিশ কোন অবস্থাতেই গুলি করতে পারে না। এই ধরণের বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিষয়ে সম্প্রতি সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করেছে উচ্চ আদালত। রাশেদ সিনহার ঘটনাটি দেশের বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের সর্বশেষ ঘটনা। কিন্তু এই ধরণের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।  মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ এর প্রথম ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ২০৪ জন নিহত হয়েছে।

প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই বাহিনীগুলো আত্মরক্ষায় গুলি চালানোর একই কথা বলে আসছে। কিন্তু এই ধরণের হত্যাকান্ডের বিষয়ে সবসময়েই সমালোচনা হচ্ছে। পৃথিবীর কোন সভ্য দেশেই এই ধরণের হত্যাকান্ড সমর্থন করে না। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে একপ্রকার বেআইনি হত্যাকাণ্ড যা সাধারণত রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, সামাজিক ব্যক্তিত্ত্ব, বা অপরাধীকে রাষ্ট্রপ্রদত্ত আইনত বিচারের পূর্বেই হত্যা করা হয়। এটি সাধারণত সরকার, প্রাদেশিক সরকারের মাধ্যমে, যেমনঃ পুলিশ বা সশস্ত্র বাহিনী অথবা বিভিন্ন অপরাধী সংগঠন। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ডেথ স্কোয়াড সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি ফিলিস্তিন ও ইরাকে, মধ্য আমেরিকা, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত (জম্মু ও কাশ্মীর সহ অন্যান্য রাজ্য) আফ্রিকার বিষুবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ, জ্যামাইকা, কসোভো দক্ষিণ আমেরিকার বেশকিছু অংশ, চেচনিয়া, রাশিয়া, উজবেকিস্তান, উত্তর ওশেনিয়া, থাইল্যান্ডের কিছু অংশ, এবং ফিলিপাইনে।

বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার কণ্ঠরোধ এবং মৌলিক মানবিক অধিকার হরণ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে পড়ে। আবার সরকার যদি তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় এবং সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকে, তাহলে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার মধ্যে তারই প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়। এই প্রেক্ষিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গণ তান্ত্রিক মূলবোধের প্রতিস্থাপন। সেইসাথে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই মানুষের অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে পারে। তাই অনতিবিলম্বে এই ধরণের বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। তবেই নিশ্চিত হবে কাঙ্ক্ষিত সুশাসন।