ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিশ্ব রাজনীতিবিদদের প্রেম

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২০ বৃহস্পতিবার, ১১:৫৮ এএম
বিশ্ব রাজনীতিবিদদের প্রেম

বয়সের একটা সময়ে প্রেম যেন সবাই করে থাকে। আর এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বিশ্ব রাজনীতিবিদরাও। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন বিশ্ব রাজনীতিতে নানা কারণেই প্রশংসিত। ৩৮ বছর বয়সী জাসিন্ডা আরডার্ন নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী। আর জাসিন্ডার প্রেমিক গেফোর্ড একটি টিভি অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। ছয় বছর আগে পরিচয় হয় দুইজনের। সে থেকে প্রেম। আর এখন এই দম্পতির একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। নাম রাখা হয় নেভে তে আরোহা। বিশ্ব রাজনীতিতে জাসিন্ডা আরডার্নের মতো এমন প্রেমের গল্প রয়েছে অনেকেরই। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু বিশ্ব নেতার প্রেমের বিষয়ে।

বিল ক্লিনটন

যুক্তরাষ্ট্রের ৪২তম রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন। বিল ক্লিনটন ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৮ সালে মনিকা লিউনিস্কি ইস্যু নিয়ে বেশ সমালোচনায় পড়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে মনিকা লিউনস্কির বয়স যখন ২২ বছর তখন ক্লিনটনের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। তাদের প্রেম বিশ্বব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি করে। ৩৭ বছর বয়স্ক মনিকা বর্তমানে টেলিভিশনে একটি রিয়েলিটি শো পরিচালনা করছেন। ৯০-এর দশকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সাথে হোয়াইট হাউজের কর্মচারী মনিকা লিউনস্কিকে জড়িয়ে কেলেংকারির কাহিনী জনসমক্ষে প্রকাশ পায়। ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত যৌন কেলেংকারির ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়া, ইতিহাসে সেই ছিল প্রথম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হতে হয়েছিলো, তিনি যা করেছেন তা যদিও বেআইনি নয়। কেননা লিউনস্কি প্রাপ্তবয়স্কা।

ভ্লাদিমির পুতিন

কয়েকবছর আগে সংবাদপত্রের শিরোনামে উঠে আসে রুশ প্রেসিডেন্ট ৬১ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। অতি গোপনে পুতিন তাঁর চেয়ে ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণীকে বিয়ে করে ঘরেও তুলেছেন। অনেক দিন ধরেই ফিসফাস চলছিল যে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন দেশের স্বর্ণপদক বিজয়ী জিমন্যাস্ট কাবায়েভার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন। এর আগে লুদমিলার সঙ্গে পুতিনের বিচ্ছেদ হয়। কানাঘুষা চলছিল যে, কাবায়েভার কারণেই পুতিনের সঙ্গে লুদমিলার বনিবনা হচ্ছিল না, সম্পর্ক তিক্ততার পর্যায়ে পৌঁছে। শেষ পর্যন্ত রণে ভঙ্গ দিয়ে লুদমিলা পুতিনের সংসার না করার সিদ্ধান্ত নেন।

চে গুয়েভারা

মৃত্যুকে হাতে নিয়ে ছুটে চলা গেরিলা জীবনেও চে প্রেমে পড়েছেন। একবার নয়, একাধিকবার। বিয়েও করেছেন একাধিক। চে ছিলেন একজন রোমান্টিক বিপ্লবী। চে সম্ভবত প্রথম প্রেমে পড়েন ডাক্তারি পড়াকালীন তিতা ইনফানতে নামক এক সহপাঠিনীর। কিন্তু বিপ্লব সেটি হতে দেয়নি। আর তাই চে ডাক্তারি পাস করেও হয়েছেন বিপ্লবী। এরপর গুয়াতেমালায় চের রাজনৈতিক হাতেখড়ি হয়। আর এখানেই তার সঙ্গে পরিচয় ঘটে হিলদা গাডিয়ার। যার সঙ্গে চে প্রথম প্রণয়ে জড়ান এবং পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিউবার লা ভিলাসে গেরিলা যুদ্ধরত তখন তিনি দ্বিতীয়বারের মতো প্রণয়ে জড়ান কিউবার মেয়ে অ্যালেইদা মার্চের সঙ্গে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী এবং তাদের বিয়ে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মেলানিয়া ট্রাম্প ইয়োগোস্লাভিয়ায় (বর্তমানের স্বাধীন দেশ স্লোভেনিয়া) জন্মগ্রহণ করেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হন এবং ২০০৬ সালে নাগরিকত্ব পান। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার সাবেক মডেল মেলানিয়া হার্পারস বাজার, ভ্যানিটি ফেয়ার- এর মতো পত্রিকার কভারে দেখা দিয়েছেন। তিনিই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী, যার খোলামেলা ছবি প্রকাশিত হয় সাময়িকীতে। নিউইয়র্কের একটি ফ্যাশন সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মেলানিয়ার দেখা হয়, যখন তিনি বিবাহিতই ছিলেন ২০০০ সালে মেলানিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আবির্ভূত হন। যখন সে বছর ডোনাল্ড রিফম পার্টি থেকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ান। মেলানিয়ার আগে ট্রাম্প দুটি বিয়ে করেন। ২০০৬ সালে মেলানিয়া একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন, যার নাম ব্যারন ট্রাম্প।

জাস্টিন ট্রুডো

আকর্ষণীয়, সুদর্শন ও সুঠাম দেহের অধিকারী কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। কিন্তু জাস্টিন ট্রুডো যে শুধু রাজনীতিতেই সফল তা কিন্তু নয়। প্রেমিক পুরুষ হিসেবেও একজন সফল ব্যক্তি। প্রেম করেই বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রীর নাম সোফি গ্রেগর। সোফিকে জাস্টিন চিনতেন সেই শৈশব থেকেই। কারণ তিনি ছিলেন জাস্টিনের ছোট ভাই মাইকেলের সহপাঠিনী ও বান্ধবী। তবে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে আরও অনেক পর। সেটি ছিল ২০০৩ সালের ঘটনা, যখন দুজনে একটি চ্যারিটি প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হন। তখন থেকেই একজন আরেকজনের প্রতি কৌতূহলী হয়ে ওঠেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই তা গভীর পরিণয়ে পরিণত হয়। ২০০৪ সালের অক্টোবরে এনগেজমেন্ট এবং ২০০৫ সালের মে মাসে বিয়ে। বর্তমানে তারা তিন সন্তানের বাবা-মা।

তেরেসা মে

১৯৭৬ সালে অক্সফোর্ডের ছাত্রী ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। সে সময় অক্সফোর্ডের ছাত্রনেতা ছিলেন ফিলিপ জন মে। তিনি ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ও কনজারভেটিভ পার্টির উদীয়মান নেতা। তাকেই পছন্দ করেছিলেন তেরেসা। মনের কথা বান্ধবী বেনজিরকে খুলে বলেন তেরেসা। বেনজির সোজা গিয়ে ফিলিপের কাছে তেরেসার প্রসঙ্গ তোলেন। প্রস্তাব পেয়ে দ্বিতীয়বার ভাবেননি তেরেসার থেকে দুই বছরের ছোট ফিলিপ। ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন তারা। সেই শুরু থেকে দীর্ঘ সময় পার করে দুজনই এখনো সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। এ দম্পতি নিঃসন্তান।