ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দেশভেদে প্রেম নিবেদনের যত ধরন

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২০ শুক্রবার, ০৯:০২ এএম
দেশভেদে প্রেম নিবেদনের যত ধরন

বিশ্বের সকল দেশেই প্রেম ভালোবাসা প্রচলিত রয়েছে। রয়েছে প্রেমের নিজস্ব রীতি নীতি। সেইসাথে প্রেম নিবেদনের ধরনেও রয়েছে ভিন্নতা। যেমনঃ ধরুন ইউরোপের দেশ পর্তুগালের কথা। দেশটিতে প্রেম বা ভালোবাসা প্রকাশের জন্য আপনাকে রীতি মতো তাঁতি হয়ে উঠতে হবে। কারণটা কি জানেন? সেখানে পছন্দের মানুষটির জন্য নিজ হাতে রুমাল তৈরি তার হাতে তুলে দিতে হয়। যদি সে এই রুমাল গলায় ঝুলিয়ে আসে। তবেই বুঝতে হবে আপনার প্রেম হয়ে গেছে। আর আপনাকে তার পছন্দ না হলে রুমালটি ফিরিয়ে দিবে। তাই চলুন জেনে নেই বিভিন্ন দেশের প্রেম নিবেদনের কিছু অদ্ভুত রীতি নীতি সম্পর্কে।    

ব্রিটেন

ইউরোপের দেশ ব্রিটেনে মেয়েরা প্রেমের বিষয়টি পোশাকের রঙের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে। সেখানে যারা প্রেম বা বিয়েতে রাজি আছে। তারা সবুজ রঙের পোশাক পরে। আর যারা মাঝামাঝি অবস্থানে থাকেন। তারা পরেন হলুদ রঙের পোশাক। আর যাদের এসব বিষয়ে কোনো আগ্রহই নেই। তারা লাল রঙের পোশাক পরে। এসব বুঝেই সেখানকার ছেলেরা প্রেম প্রস্তাব দিয়ে থাকে।

স্পেন

স্পেনে ট্যুনসরা মানে হল আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছাত্র। এসব তরুণ গান ভালোবাসে, পছন্দ করে রাতের জীবন আর অনুভূতি প্রকাশের এতিহ্যবাহী রীতি। গিটার হাতে প্রেমে নিবেদনের জন্য রাস্তায় রাস্তায় তারা খোঁজ করে তরুণীদের আর গান গেয়ে বেড়ায় পানশালাগুলোতে। তবে ভালোবাসা প্রকাশের এমন রোমান্টিক রীতি এখন চোখে পড়ে। কম বয়স্ক স্পেনীয়রা ‘আমি তোমার প্রেমে পড়েছি’ বলার চেয়ে সরাসরি ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ কথাটি উচ্চারণ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

মেক্সিকো

উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে মেয়েদের প্রেমের প্রস্তাব দেয়া হয়। ধরুন আপনি মেক্সিকোর মেয়ের প্রেমে পড়েছেন। এখন আপনাকে মেয়ের ঘরের জানালার কাছে দিয়ে বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে সুর তুলতে হবে। আপনার এই সুরে যদি মেয়েটি সাড়া দেয় তাহলে বুঝবেন মেয়েটি আপনার প্রেমে সাড়া দিয়েছে। যদি সহজে সাড়া না মেলে তাহলে সারারাত দাঁড়িয়ে একটানা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে যায় এমন নজিরও আছে।

পর্তুগাল

পর্তুগালে প্রেম বিনোদনে প্রেমিকাদের নিতে হয় তাঁতির ভূমিকা। এখানে ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম হচ্ছে রুমাল। এই রুমালে নকশা তৈরি করে হৃদয়ের সব ভালোবাসা উজাড় করে দেয় প্রেমিকা। যেদিন নকশার কাজ শেষ হবে, সেদিনই তার ভালোবাসার দিন। ফলে প্রতিটি তরুণীর ভালোবাসার দিন আলাদা। রুমালটি পাঠানোর ঠিক পরের রোববার ভালোবাসার মানুষ যদি রুমালটা গলায় ঝুলায়। তবে বুঝতে হবে প্রেমের স্বীকৃতি দিয়েছে তরুণ। আর মেয়েটাকে যদি সে না চায়, তবে রুমালটা তাকে ফিরিয়ে দেবে।

থাইল্যান্ড

এখানে তরুণীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়ির বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। পড়ে পাণিপ্রার্থী যুবক নিজের পরিচয় তুলে ধরে। একজন বা দুজন পুরুষ বন্ধুসহ যুবক ধীরে ধীরে বারান্দার দিকে এগিয়ে আসে। মেয়েটির পরিবার যদি ছেলেটির প্রতি সন্তুষ্ট হয়। তবে তাকে মেয়েটির সম্মানে একটি গান গাইতে বলবে তারা। পাণিপ্রার্থী কোনোভাবেই মেয়েটাকে স্পর্শ করতে পারবে না। যদি সে এই ভুল করেই বসে। তবে ফুল কিংবা মোমবাতি উপহার পাঠিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

হল্যান্ড

হল্যান্ডে প্রেম প্রস্তাবের বিষয়টি খুবই অদ্ভুত। ধরুন আপনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। এমন সময় যদি রাস্তার পাশের কোনো বাড়ির জানালায় গোলাপ ফুল রাখা আছে দেখতে পান। তাহলে বুঝবেন এই বাড়ির মেয়েটি আপনার প্রেমের প্রস্তাবের জন্য অপেক্ষা করছে।

আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের কিছু উপজাতি এলাকায় প্রেম নিবেদনের ঐতিহ্য রয়েছে। সেখানে প্রেম নিবেদন বা ভালোবার প্রস্তাব দিতে ছেলেটি মেয়ের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আকাশের উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়তে থাকবে। এর অর্থ হল আমি তোমাকে ভালোবাসি। এটা শুনতে বেশ একটু আতঙ্কজনক বলেই মনে হয়। কিন্তু তবুও এই ধরণের রীতি দীর্ঘকাল ধরে তাদের সমাজে চলে আসছে।

কঙ্গো

কঙ্গোতে ছেলেরা পছন্দের নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় একটি ঝলসানো পাখি উপহার দেয়ার মাধ্যমে। এ সময় বলতে হয়, এ পাখি আমার নিজের শিকার করা। প্রস্তাবে মেয়েটি রাজি থাকলে একটি সেদ্ধ ভুট্টা উপহার দিয়ে বলে, এ ভুট্টা আমার চাষ করা। অর্থাৎ তার শিকার ও চাষে পারদর্শী। ফলে বিয়ে করতে পারে। আর এভাবেই প্রেম নিবেদনের পর্বটি সেরে ফেলেন তারা।