ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিশ্ব জুড়ে অদ্ভুত যত বিবাহ রীতি

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২০ শনিবার, ০৯:০১ এএম
বিশ্ব জুড়ে অদ্ভুত যত বিবাহ রীতি

দাম্পত্য বা যৌনজীবনের সামাজিক স্বীকৃতি হল বিয়ে। ধারণা করা হয়, মানব সভ্যতায় কৃষি কাজের সূচনা থেকেই বিয়ের উৎপত্তি। এর আগে মানব ইতিহাসে যৌনতা বা দাম্পত্য জীবনের জন্য বিয়ের প্রচলন ছিল না। কিন্তু বিয়ে একটা সামাজিক স্বীকৃতি হলেও সমাজের ধরণ ভেদে বিয়ের রীতি যেন অনেকটাই ভিন্ন। একেক সমাজে একেক রকম আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বিয়ের রীতি সম্পন্ন হয়। আর রীতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু অদ্ভুত রীতিও প্রচলিত রয়েছে কিছু সমাজে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জাতির মধ্যে প্রচলিত বিচিত্র ও বিস্ময়কর বিয়ের প্রথা নিয়ে এই আয়োজন।

ভারত

ভারত আমাদের প্রতিবেশি দেশ। সমৃদ্ধ সংস্কৃতির দিক থেকে সারা বিশ্বেই পরিচিত দেশটি। বিয়ে নিয়ে সেখানেও রয়েছে বেশ কিছু অদ্ভুত রীতি নীতি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক এই দেশটির মাঙ্গলিক সমাজে সব মেয়েদের প্রথমে কোনো একটি গাছের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর গাছটি কেটে ফেলা হয়। মনে করা হয় যেসব মেয়েরা মাঙ্গলিক হয়। বিয়ের পর পরই তাদের স্বামীর মৃত্যুর হয়। এই অভিশাপ থেকে বাঁচতে প্রথমে তাদের গাছের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে তা ধ্বংস করে ফেলা হয়। এবার তার দ্বিতীয়, মানে আসল বিয়েতে আর কোনো বাধাই থাকলো না। ভারতের জনপ্রিয় নায়িকা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনও মাঙ্গলিক ছিলেন, আর তার প্রথম বিয়ে গাছের সঙ্গেই হয়েছিল।

ইন্দোনেশিয়া

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দ্বীপবেষ্টিত দেশ হল ইন্দোনেশিয়া। মুসলিম এই দেশটিতে অসংখ্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। ফলে অসংখ্য অদ্ভুত রীতি নীতি প্রচলিত রয়েছে এখানে। ইন্দোনেশিয়ার এক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর রীতি অনুযায়ী বিয়ের পর নবদম্পতিকে তিন দিন এবং তিন রাত পর্যন্ত ঘরে আটকে রাখা হয়। এই সময়টা নবদম্পতি কোনোভাবেই টয়লেট ব্যবহার করতে পারবে না। এমন নির্দয় কারা দণ্ডের কারণ, এতে দম্পতির ভবিষ্যত সন্তান সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। এমনটাই বিশ্বাস করেন এই সমাজের লোকেরা। আর দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সমাজে এমন প্রথা প্রচলিত রয়েছে।

চীন

সমাজতান্ত্রিক দেশ চীন বিশ্ব রাজনীতিতে নানা কারণে আলোচিত। সমালোচিতও বটে। কিন্তু বিবাহ রীতির ক্ষেত্রে সেখানে রয়েছে বেশ অদ্ভুত রীতি। দেশটির ইউগুরস ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিয়েতে এক ভয়ানক নিয়ম পালন করতে হয়। বরকে তিনটি ভোঁতা তীর ছুড়তে হয় কনেকে লক্ষ্য করে। এই তীর লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হলে বেশ ব্যথা পেতে হয় কনেকে। এরপর বর ওই তীরগুলো নিয়ে ভেঙে ফেলে। যাতে এগুলো আর কখনও তার স্ত্রীকে আঘাত করতে না পারে। শুনতে খুব ভয়াবহ হলেও দীর্ঘদিন ধরেই আদিবাসী এই সমাজটিতে এই রকম বিবাহ রীতি প্রচলিত রয়েছে।

স্পার্টা

গ্রিসের প্রাচীন নগরী হল স্পার্টা। মানব ইতিহাসে নানা কারণেই আলোচিত এই নগরী। এক সময়ে বিশ্ব সভ্যতা ও জ্ঞান বিজ্ঞানে অনেক অবদান রয়েছে প্রাচীন গ্রিসের। এখনো পৃথিবীর ‘ওল্ড ওয়াইজ’ বলা হয়ে থাকে এখানকার তিন মনীষীকে। প্রাচীন স্পার্টা নগরীতে হবু বউয়েরা মাথার চুল কামিয়ে ছেলেদের মতন পোশাক-আশাক পরে তৈরি থাকতো। এর পরের কাজটুকু ছিল মূলত হবু বরের অগ্নি পরীক্ষা। বিয়ের ইচ্ছে থাকলে সবার চক্ষু ফাঁকি দিয়ে এই ছেলে সেজে থাকা তার হবু স্ত্রীকে চুরি করে নিয়ে পালাতে হতো তাকে। তবেই কেবল সে নিজেকে বিয়ের উপযুক্ত বলে প্রমাণ করতে পারতো।

মঙ্গোলিয়া

দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার দেশ চীন ও মঙ্গোলিয়ার এক গোষ্ঠীর বিয়ের তারিখ ঠিক করতে হলে হবু বর-কনেকে মুরগির ছানা মারতে হয়। এরপর ওই মুরগির ছানার কলিজার রং পরীক্ষা করা হয়। কলিজার রং টাটকা হলে বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। নইলে, টাটকা কলিজা না পাওয়া পর্যন্ত মুরগির বাচ্চা মেরে যেতে হবে তাদের।

ফিজি

আপনি যদি ফিজির কোনো বাসিন্দা হন। তবে বিয়ে করতে হয়তো বেশ ঝামেলা হতে পারে। কেননা, ফিজিতে শুধু ওই ব্যক্তিই কন্যার বাবাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে যার হাতে থাকবে একটি তিমির দাঁত। এই দাঁত সংগ্রহ করতে আপনাকে হয় যেতে হবে ব্ল্যাক মার্কেটে, নয়তবা সমুদ্রে। পৃথিবীর বৃহত্তম স্তন্যপায়ী তিমির দাঁত সংগ্রহ করার কাজটা বেশ জটিলই বটে।