ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দেশে দেশে যত নারী নেতৃত্ব

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২০ মঙ্গলবার, ০৯:০১ এএম
দেশে দেশে যত নারী নেতৃত্ব

প্রাণঘাতী করোনা প্রাদুর্ভাবে সারা বিশ্ব যখন বিপর্যস্ত। ঠিক সেই সময়েও আলোর দিশারী হয়ে উঠেন নারী নেতৃত্বে থাকা দেশগুলো। পুরো ইউরোপ যখন করোনায় দিশেহারা তখনও ভালো ছিল আঞ্জেলা মের্কেলের দেশ জার্মানি। সেইসাথে ওশেনিয়ার দেশ নিউজিল্যান্ডেও করোনা খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। আরেক নারী স্বাস্থ্যমন্ত্রী শৈলজা তো এখন বিশ্বব্যাপী পরিচিত। করোনা মোকাবেলায় ‘কেরালা মডেল’ এখন অনুসরণ করছে সবাই। সবকিছু মিলিয়ে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সেইসাথে বিশ্ব রাজনীতিতে পুরুষের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নারীর নেতৃত্ব। চলুন জেনে নেই দেশে দেশে নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে।      

আঙ্গেলা মের্কেল

জার্মানিতে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল-এর নেতৃত্বে ২০১৮ সালে মহাজোট সরকারের ১৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। এই নিয়ে ম্যার্কেল চতুর্থবার চ্যান্সেলর হলেন। ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নারী এখনো তিনিই। ২০০৫ সাল থেকে তিনি ক্ষমতায়। তবে বয়সের কারণে সামনের মেয়াদে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না, বলে জানিয়েছেন তিনি।

জাসিন্ডা আরডার্ন

জাসিন্ডা আরডার্ন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন ২০১৭ সালে। ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা থেকে শুরু করে করোনা সংক্রমণ, সকল ক্ষেত্রেই ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন তিনি। যে কোন সমস্যায় জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত নিয়ে সারা বিশ্ব জুড়ে আলোচিত জাসিন্ডা আরডার্ন। দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের মা হন তিনি।

ক্যাট্রিন জ্যাকোবসডোটি

ক্যাট্রিন জ্যাকোবসডোটি’র আইসল্যান্ডের ২৮তম প্রধানমন্ত্রী। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। দেশটির সংবিধানের ২ ধারার ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ প্রধান করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে ক্যাট্রিন জ্যাকোবসডোটি তিনি দেশের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারি

বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারি হলেন নেপালের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। তিনি ২০১৫ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন। এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জানা যায়, বিদ্যা ভান্ডারি কিশোর বয়সে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি রাজতন্ত্র থেকে দেশটিকে মুক্ত করার আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি সহযোদ্ধা বামপন্থী মদন ভান্ডারির সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৯৩ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর স্বামী মদন মারা যান। দুই সন্তানের জননী বিদ্যা তখন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

সারা কুগংগেলওয়া

সারা কুগংগেলওয়া নামিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি ২০১৫ সালের ২১ মার্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। সারা কুগংগেলওয়া ১৯৯৫ সাল থেকে দেশটির পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেইসাথে প্রধামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ২০০৩ সাল থেলে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশটির অর্থমন্ত্রী ছিলেন। তিনি দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এরনা সুলবার্গ

এরনা সুলবার্গ নরওয়ের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বের আলোচিত নারী রাজনীতিক। ২০০৪ সাল থেকে দেশটির কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এরনা ২০১৩ সালের সংসদ নির্বাচনে মধ্য-ডানপন্থী জোট সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন লাভ করে। এর ফলে ১৪ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে তিনি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইয়েন স্টলটেনবার্গের স্থলাভিষিক্ত হন।

অং সান সুচি

অং সান সুচি মিয়ানমারের একজন রাজনীতিক, কূটনীতিক এবং লেখিকা। সুচি মায়ানমারের প্রথম ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির নেত্রী। মায়ানমারের ডি ফ্যাক্টো হিসেবে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত। তিনি দেশটির স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ২০১৬ সাল থেকে। গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের জন্য ১৯৯১ সালে সুচি নোবেল পুরস্কার পান। কিন্তু বর্তমানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নানা বিতর্কিত ভূমিকার জন্য আলোচিত এই নারী নেত্রী।  

এছাড়া বাংলাদেশ, এস্তোনিয়া, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, ইথিওপিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তাইওয়ানসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রধানমন্ত্রী/রাষ্ট্রপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। সেইসাথে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও ডেনামার্কের রানি দ্বিতীয় মার্গারেট।