ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নারীদের চ্যালেঞ্জিং যত পেশা

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৯:৫৭ এএম
নারীদের চ্যালেঞ্জিং যত পেশা

২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের বছরে শুরু হয় হেফাজতে ইসলামের তথাকথিত ‘নাস্তিক হঠাও’ আন্দোলন। আর সেই বছরের ৬ এপ্রিল হেফাজতের সমাবেশে সংবাদ সংগ্রহে গিয়েছিলেন একুশে টেলিভিশনের নারী প্রতিবেদক নাদিয়া শারমিন। কিন্তু নারী হয়ে পুরুষদের সমাবেশে কেন? এই অদ্ভুত যুক্তিতে তার উপর চড়াও হয় সমাবেশে আসা ৫০-৬০ জনের একটি দল। সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। কিন্তু হামলার এই জের তাকে টানতে হয়েছে বহুদিন। বেসরকারি এই টেলিভিশনের চাকরিটিও হারিয়েছিলেন তিনি। এটা তো গেল কেবল সাংবাদিকতায় নারীর চ্যালেঞ্জের গল্প। আমাদের সমাজে এই রকম বেশ কিছু পেশা রয়েছে, যা নারীদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিষয়টা এই রকম নয় যে, নারীর মেধা কম বলে এই সমস্ত পেশায় নারীরা যেতে পারছে না। বরং এখানে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় সমাজ, সামাজিক রীতি-নীতি, মূল্যবোধ কিংবা আমাদের চিরায়ত দৃষ্টিভঙ্গি।

সেনাবাহিনী

পেশা হিসেবে সৈনিক জীবন বেছে নেওয়া যে কারো জন্যই চ্যালেঞ্জিং। সেটা হোক নারী কিংবা পুরুষ। তবুও দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে অনেকেই এমন জীবন বেছে নেন। তবে এমন জীবন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের জন্য রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। ছোট থেকেই পরিবার চায় তাদের মেয়ে বড় হয়ে ডাক্তার হবে, শিক্ষকতায় যাবে। কিন্তু মেয়ে বড় হয়ে আর্মিতে যাবে। এমনটা কোন পরিবারকেই বলতে দেখা যায় না। এখানে কেমন যেন একটা অদৃশ্য ট্যাবু রয়েছে। যা সহজে দেখা যায় না, ধরা যায় না। চাইলেই ভেঙে দেওয়া যায় না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা কিছুটা হলেও ভেঙে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীতে এখন আগের চেয়ে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথম নারী মেজর জেনারেল হলে সুসানে গীতি।

পুলিশ

পেশা হিসেবে নারীর জন্য পুলিশ যাওয়া যেন আরও চ্যালেঞ্জিং। প্রতিনিয়তই এখানে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ, আর নতুন নতুন ঘটনা, অপরাধ। সেইসাথে সরকারি এই চাকরিতে অন্যান্য চাকরির মতো সপ্তাহে দুইদিন ছুটি কাটানোর সুযোগও থাকে না সবসময়। ছুটি প্রাপ্য কিন্তু অধিকার নয়, এর সবচেয়ে অনন্য উদাহরণ হল পুলিশের চাকরি। সেইসাথে নেই ধরাবাঁধা কর্মঘন্টা, তারপর আবার রাতের পেট্রোল ডিউটি। ফলে সবকিছু মিলিয়ে ‘জনগণের বন্ধু’ স্লোগানের এই পেশায় বেশ ঝুঁকি রয়েছে। আর নারীর জন্য যেন তা আরও বেশি। আর তাই নারীর চ্যালেঞ্জিং পেশাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম পুলিশের চাকরি। অবশ্য ধীরে ধীরে পুলিশেও নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। সরাসরি কনস্টেবল নিয়োগ থেকে শুরু করে বিসিএস এর মাধ্যমে অফিসার নিয়োগ। সবক্ষেত্রেই যেন সরব হচ্ছে নারীর অংশগ্রহণ।

সাংবাদিকতা

বর্তমান বাংলাদেশে সাংবাদিকতার আকার অনেক বিস্তৃত হয়েছে। কয়েক বছর আগে গণমাধ্যমকে শিল্প ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে সাংবাদিকতা যেমন প্রাতিষ্ঠানিক হয়েছে। সেইসাথে তৈরি হচ্ছে পেশাদারিত্ব। তাছাড়া, ধীরে ধীরে এই পেশায় বিস্তৃত কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে। কিন্তু নারীদের জন্য সাংবাদিকতা যেন এখনো চ্যালেঞ্জিং। সংবাদ পাঠক বা উপস্থাপক হিসেবে নারীর অংশগ্রহণ যতোটা দেখা যায়, মূল ধারার সাংবাদিকতায় নারীর অংশগ্রহণ ততোটা দেখা যায় না। এই ট্যাবু যেন দীর্ঘদিনের। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার শিক্ষকতায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। সেইসাথে সাংবাদিকতা শিক্ষায়ও নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। কিন্তু বাড়ছে না কেবল মূল ধারার সাংবাদিকতায় নারীর অংশগ্রহণ।