ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লুঙ্গি বৃত্তান্ত

তৌহিদ নাজমুল
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ বুধবার, ০৮:০০ এএম
লুঙ্গি বৃত্তান্ত

বাংলাদেশের চারিদিকে তাকালে যে পোশাকটি আপনার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়বে, সেটি হল – লুঙ্গি। বাঙালি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই লুঙ্গির প্রচলন কি শুধু মাত্র বাংলাদেশেই? নাকি সারা বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের জীবনে আপন হয়ে আছে লুঙ্গি?

শুনতে অবাক লাগলেও সত্য, আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী লুঙ্গির উদ্ভব কিন্তু বাংলাদেশে নয়। গবেষকদের মতে, এর উদ্ভব দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুতে । তখন এর নাম ছিল - ভেসতি। মসলিনের তৈরি ভেসতি দক্ষিণ ভারত থেকে পাঠানো হতো সুদূর ব্যাবিলনে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় প্রাচীন ব্যাবিলনের নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিবন্ধে। “বারাদাভারগাল” নামের তামিলনাড়ুর এক জেলে সম্প্রদায়ই মূলত এই লুঙ্গি রপ্তানি শুরু করে। শুধু ব্যাবিলন নয়, এমনকি পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকায়ও এই লুঙ্গি রপ্তানি করতেন তাঁরা। এভাবেই প্রাচীন দক্ষিণ ভারত থেকে লুঙ্গি ছড়িয়ে পড়ে ভারতীয় উপমহাদেশ ও বিশ্বের নানা প্রান্তে।

সারং, মুনডু, তামেন, ইযার - এরকম বিচিত্র নামের অভাব নেই এই পোশাকের। তেমনি কমতি নেই এর রং,  বৈচিত্র্য, ধরণ ও ব্যবহার রীতির। মূলত আরাম ও ব্যাবহারের সুবিধার জন্য, উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলের মানুষের জীবনের অবিছেদ্দ অংশ হয়ে গেছে এই লুঙ্গি।

দক্ষিণ ভারতে পুরুষদের জন্য যেকোনো উৎসব, বিয়ে কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পোশাক হচ্ছে মুনডু। শুধু দক্ষিণ ভারত নয়, ভারতবর্ষের অন্যান্য অনেক অঞ্চলেও লুঙ্গির ব্যাবহার দেখা যায়। কোনো কোনো অঞ্চলে তা নারী-পুরুষ উভয়েরই পোশাক এই লুঙ্গি।যেমন মিয়ানমারে পুরুষদের লুঙ্গিকে বলা হয় পাসো আর নারীদের লুঙ্গিকে তামেন।  যেকোনো বার্মিজ বিয়ে অসম্পূর্ণ থেকে যায় বর-কনের একই রকম রেশমী পাসো আর তামেন ছাড়া। অন্যদিকে  ডাচ ঔপনিবেশিক আমলে সারং ছিল ইন্দোনেশিয়ার স্বাতন্ত্রতা ও প্রতিবাদের  প্রতীক। আবার মালয়েশিয়ার মালয় মুসলিমদের মধ্যে সারং হচ্ছে বিশুদ্ধতার প্রতীক। আর এজন্যই  এটি তাদের জুম্মার নামাজের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। 

শুধু এশিয়া নয়, অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য সুদূর আফ্রিকাতেও বিস্তার ঘটেছে লুঙ্গির। সোমালিয়ায় লুঙ্গি পরিচিত মাকাউই নামে। গ্রেট লেক অঞ্চলের নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীদের মধ্যেও লুঙ্গি প্রচলিত। তবে সেখানে লুঙ্গি মূলত নারীদের পোশাক এবং সেখানে এর একটি সুন্দর নামও আছে “কঙ্গা “ ।

লুঙ্গি ব্যবহারকারী অনেক দেশেই আনুষ্ঠানিক বা দাপ্তরিক ক্ষেত্রে লুঙ্গি ব্যবহার করা হয়। যদিও আমাদের দেশে তা করা হয় না। তবুও আমরা লুঙ্গিকে আপন করে নিয়েছি আমাদের মতো করে।