ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিদেশি সংস্কৃতি ও মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ

তৌহিদ নাজমুল
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ শুক্রবার, ০৮:০০ এএম
বিদেশি সংস্কৃতি ও মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ

পৃথিবী প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে। উন্নত হচ্ছে মানুষের চিন্তা ভাবনা। আর এই উন্নত চিন্তা ভাবনা মানুষকে সহজ করে দিচ্ছে পৃথিবীর বুকে তাদের বসবাস। বিভিন্ন আবিষ্কারের মাধ্যমে বিশ্বকে নিয়ে এসেছে দোরগোড়ায়। বিশেষ করে ইন্টারনেটের এই যুগে বিশ্ব যেন আজ আমাদের হাতের মুঠোয় আর আমরা হয়ে উঠেছি বিশ্বনাগরিক। দূর কোন দেশের সিনেমা বা গানের সাথে আমরাও যেন অনুভব করি একাত্মতা। সাংস্কৃতিক এই মিশ্রনকে বাধা দেয়ার উপায় নেই তবে সচেতনভাবে তা গ্রহণ করা সম্ভব।

নানা দেশের কী কী সাংস্কৃতিক উপাদান এসে মিশেছে আমাদের দেশে? বাংলাদেশে হিন্দি সিরিয়াল, সিনেমা আর গানের দৌরাত্ব্য নতুন কিছু নয়। আমাদের দেশে যে কোন অনুষ্ঠানে বাজানো হয় হিন্দি গান, হোক সে আনন্দের বা শোকের। অনেক ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হয়  হিন্দি আইটেম সং।


আর হিন্দি সিরিয়ালের মেলোড্রামার কথা নতুন করে বলবার কিছু নেই। সেখানে পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে এমনভাবে দেখানো হয় যেন সবাই মিলে সারাক্ষণ-ই একটা ষরযন্ত্রের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে আমাদের নিজেদের সম্পর্কগুলোতেও তৈরি হয় অবিশ্বাস আর অনাস্থা। এসব দেখে আমাদের শিশুরাও প্রভাবিত হচ্ছে। যেমন ধরুন, ডোরেমন কারটুনটি দেখে বাচ্চারা বাংলায় কথা বলা শেখার আগেই শিখছে হিন্দি বলা। হিন্দি তো আছেই কিন্তু গত কয়েকবছরে তরুণদের মধ্যে অন্যান্য ভাষার টিভি সিরিজগুলোও হয়ে উঠেছে তুমুল জনপ্রিয়। গেম অব থ্রোন্স, ব্রেকিং ব্যাড, দ্রিলিস আরতুরুগুল, কুরলুস ওসমান, বিগ ব্যাংগ থিওরীর মত টিভি সিরিজগুলো নিয়েই চলে তরুণদের আজকের আড্ডা। শুধু ইংরেজী নয়, সাবটাইটেলের সুবিধায় কোরিয়ান ড্রামাও হয়ে উঠেছে।
বেশ জনপ্রিয়। সিনেমার চাইতে দীর্ঘ এসব সিরিজ বেশ ইন্টারেস্টিং আর নেটফ্লিক্সের মতন ওয়েবসাইটে আপনি এসব সিরিজ দেখে নিতে পারছেন এক দিনেই। যাকে হালের ভাষায় বলা হয় “binge watch”।
এখনকার তরুন প্রজন্মের কাছে  Game of thrones এর “র‍্যামসে বোল্টন”, কিংবা Narcos এর “পাবলো এস্কোবার” এর জনপ্রিয়তা সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ও সহিংসতার মতন বিষয়গুলোকে খুবই স্বাভাবিক করে ফেলছে। বর্তমান হিন্দি ও ইংরেজী গানের পাশাপাশি কোরিয়ান পপ মিউজিক বা কে-পপ-ও জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশে। কোরিয়ার সিউলের  ২০১২ সালে কোরিয়ান পপশিল্পী  এইতো ২০১৭ সালেই শিল্পকলা একাডেমিতে হয়ে গেল কে-পপ ওয়ার্ল্ড ফেস্টিভ্যাল। (এড গাংনাম)এভেঞ্জারস ও সুপারম্যান ব্যাটমানের  তরুণদের কাছে ডিসি, মারভেল কমিকস ও জাপানিজ মাঙ্গা বেশ জনপ্রিয়। ডিসি ও মারভেল কমিকস নিয়ে সুপারহিরো সিনেমাতো আছেই তার সাথে যুক্ত হয়েছে জাপানিজ অ্যানিমে। নারুতো, ডেথ নোট, ড্রাগন বল জি , ফুলমেটাল আলকেমিস্ট ইত্যাদি। ভাষার কারনে ভারতের বাংলা ও হিন্দি সিনেমাগুলোতো ছিলোই কিন্তু গত কয়েকবছরে এর সাথে টক্কর দিতে এসেছে তামিল,তেলেগু সিনেমাগুলোও। তবে বিদেশী অনেক সাংস্কৃতিক উপাদান আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেক ইতিবাচক প্রভাব-ও রেখেছে। ভারতীয় যেমন টিভি শো সাত্যামেভ জায়াতে, যেখানে সমাজের অন্ধবিশ্বাসগুলো নিয়ে প্রশ্ন করে মানুষের চিন্তায় বদল আনার চেষ্টা করা হচ্ছে । তাছাড়া আজকাল অনেক তরুণ পরিচালক গদবাধা  হিন্দি সিনেমার ফর্মুলা থেকে বের হয়ে তৈরি করেছে ভালো ভালো সিনেমা। এসব থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে আমাদের তরূনেরা।


ইউটিউবের নানা চ্যানেলে আজকাল বাইরের বিশ্বের সাহিত্য, দরশন, সংস্কৃতি ইত্যাদি নিয়ে আছে চমকপ্রদ ভিডিও। তরূণদের মধ্যে টেড-টক, টেড-এড, কুরজেগাস, স্কুল অব লাইফ , ক্রাশ কোরস ইত্যাদি চ্যানেলগুলোর জনপ্রিয়তা বেশ আশাদায়ক। বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনে জ্ঞানের চর্চায় এই চ্যানেলগুলোর বিকল্প নেই। এইচ বি ও এর সিলিকন ভ্যালি বা টিবিএফ প্রিচারস, স্টার ওয়ার্ল্ড এর মাস্টারশেফ, ডিসকভারি চ্যানেলের বিয়ার গ্রিলসের মত টিভি শোগুলো তরুণদের পেশা নিয়ে ধারণাতে বদল দল এনেছে। এসব দেখেই পুরানো প্রথা ভেঙ্গে তারা আজকে অভিনব সব পেশায় যোগদান করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছে।
এই ডিজিটাল যুগে বিভিন্ন সংস্কৃতির অবাধ মিশ্রণ বাধা দেওয়া অসম্ভব।  আর এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আমরা যা দেখি তার প্রভাব আমাদের জীবনে রয়েই যায়।  তাই একজন সচেতন দর্শক হিসেবে আমাদের বেছে নেওয়া উচিত গুনগত উপাদানটিকেই।